নাজমুল হোসেন শান্ত
দীর্ঘ ২০টি ইনিংস আর ২৫ মাসের আক্ষেপ শেষ হলো চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে (বর্তমানে বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়াম)। নাজমুল হোসেন শান্তর ব্যাটে ফিরল সেই চিরচেনা তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগার। ৭৭১ দিন পর ওয়ানডে ক্যারিয়ারের চতুর্থ সেঞ্চুরি উদযাপনে আজ শান্ত ছিলেন ধীরস্থির, যেন দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান শেষে এক স্বস্তির নিঃশ্বাস।
ওয়ানডেতে শান্তর সর্বশেষ সেঞ্চুরিটি এসেছিল
২০২৪ সালের ১৩ মার্চ, এই চট্টগ্রামেই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে (১২২ রান)। সেই ম্যাচে তিনি
ছিলেন অধিনায়ক। এর মাঝে নেতৃত্ব হারিয়েছেন, ফর্মে ছিল চরম অবনতি। অধিনায়কত্ব ছাড়ার
পর ১৪ ইনিংসে তাঁর গড় নেমে এসেছিল মাত্র ১৮.৭৬-এ। তবে আজ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ
নির্ধারণী অঘোষিত 'ফাইনালে' সব সমালোচনা ধুয়ে মুছে দিলেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। খেলোয়াড়
হিসেবে এটি তাঁর প্রথম এবং সব মিলিয়ে চতুর্থ ওয়ানডে সেঞ্চুরি।
সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে টসে হেরে ব্যাটিংয়ে
নেমে চরম বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। দলীয় মাত্র ৯ রানে দুই ওপেনার সাইফ হাসান (০) ও তানজিদ
হাসান তামিম (১) বিদায় নেন। ইনিংসের নবম ওভারে সৌম্য সরকারও (১৮) ও’রুর্কের বলে বোল্ড
হলে ৩২ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় টাইগারদের ইনিংস। সেই কঠিন সময়ে
হাল ধরেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও লিটন দাস। চতুর্থ উইকেটে তাঁরা গড়েন ১৭৮ বলে ১৬০ রানের
এক মহাকাব্যিক জুটি, যা কিউইদের বিপক্ষে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানের জুটি। ফিফটি
ছুঁতে শান্ত খেলেন ৭০ বল। তবে পরের পঞ্চাশ রান তুলতে চড়াও হন বোলারদের ওপর, যা পূর্ণ
করেন মাত্র ৪৪ বলে (মোট ১১৪ বল) আর ৯১ বলে ৭৬ রানের এক সময়োপযোগী ইনিংস খেলে লিটন বিদায়
নিলেও শান্তর সেঞ্চুরির ভিত গড়ে দিয়ে যান তিনি।
সেঞ্চুরি পূর্ণ করার পর শান্তর সেই আগ্রাসী
লাফ দেখা যায়নি। হেলমেট খুলে আকাশের দিকে চেয়ে শান্তভাবে ড্রেসিংরুমের দিকে ব্যাট উঁচিয়ে
ধরেন। এরপর পরম করুণাময়ের প্রতি শুকরিয়া জানিয়ে পিচে সিজদা দেন।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষ
আটে থেকে সরাসরি বিশ্বকাপ খেলার যে চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশের সামনে, সেই মিশনে শান্তর এই
'ত্রাতা' হয়ে ওঠা ইনিংসটি স্বাগতিকদের জয়ের স্বপ্ন দেখাচ্ছে।
বাংলাদেশের খবর/এম.আর

