Logo

খেলা

ফিরে দেখা

ফিফা বিশ্বকাপ: ইতালীয় গাত্তুসোর সেই অমর কীর্তি

Icon

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ: ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ২০:৫৫

ফিফা বিশ্বকাপ: ইতালীয় গাত্তুসোর সেই অমর কীর্তি

ফুটবল বিশ্বকাপের গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ শুরু হতে বাকি আর মাত্র ৪৭ দিন। ২০২৬ বিশ্বকাপের ক্ষণগণনা উপলক্ষে ফিফা প্রতিদিন ফুটবল ইতিহাসের সেরা সব পরিসংখ্যান ও গল্প নিয়ে হাজির হচ্ছে। আজ ফিফার বিশেষ পরিসংখ্যানে উঠে এসেছেন ইতালির সাবেক মিডফিল্ডার ও বর্তমান ফুটবল বিশ্বের অন্যতম আলোচিত কোচ জেনারো গাত্তুসো। যার লড়াকু মানসিকতা এবং রক্ষণাত্মক দক্ষতা ২০০৬ বিশ্বকাপে ইতালিকে এনে দিয়েছিল তাদের চতুর্থ বিশ্বকাপ শিরোপা।

ফিফার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০৬ জার্মানি বিশ্বকাপে গাত্তুসো অবিশ্বাস্যভাবে ৪৭টি সফল ট্যাকল করেছিলেন। একবিংশ শতাব্দীতে অনুষ্ঠিত কোনো একক বিশ্বকাপে এটিই সর্বোচ্চ ট্যাকলের রেকর্ড। গাত্তুসোর এই রেকর্ড কতটা পাহাড়সম, তা বোঝা যায় তালিকার পরের নামগুলো দেখলে। ২০০৬ আসরেই ফ্রান্সের প্যাট্রিক ভিয়েরা ৩৬টি ট্যাকল করে আছেন দ্বিতীয় স্থানে। আর ২০১৪ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার হাভিয়ের মাশ্চেরানো ৩০টি ট্যাকল করে আছেন তৃতীয় অবস্থানে। গাত্তুসোর এই অনন্য রেকর্ড গত দুই দশকেও কেউ ভাঙতে পারেননি।

বার্লিনের অলিম্পিক স্টেডিয়ামে ফ্রান্সের বিপক্ষে সেই মহাকাব্যিক ফাইনালে গাত্তুসো ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। একবিংশ শতাব্দীর যেকোনো বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ সফল ট্যাকলের রেকর্ডটিও তার দখলে। সেদিন ফরাসি আক্রমণভাগকে রুখে দিতে গাত্তুসো একাই করেছিলেন ১৫টি সফল ট্যাকল। এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে আছেন আর্জেন্টিনার এনজো ফার্নান্দেজ; ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে তিনি করেছিলেন ১০টি ট্যাকল।

মাঠে গাত্তুসোর আগ্রাসী ভঙ্গি এবং প্রতিপক্ষকে এক চুল ছাড় না দেওয়ার মানসিকতার জন্য তাকে দ্য স্নার্ল’ (Snarl) বা রণহুঙ্কার নামে ডাকা হতো। ২০০৬ সালে আন্দ্রেয়া পিরলোর শৈল্পিক ফুটবলের পেছনে গাত্তুসো ছিলেন ইতালির সেই নিভৃত ইঞ্জিনিয়ার, যিনি মাঝমাঠ থেকে রক্ষণভাগকে দুর্ভেদ্য করে তুলেছিলেন। ফিফার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইতালির চতুর্থ স্টার জয়ের পেছনে গাত্তুসোর সেই ৪৭টি ট্যাকল ছিল তুরুপের তাস।

বিশ্বকাপের ক্ষণগণনা যত ঘনিয়ে আসছে, ফুটবল প্রেমীদের মধ্যে উন্মাদনা তত বাড়ছে। ফিফার এই ডেইলি স্ট্যাটিস্টিক্যাল স্টোরি’ ফুটবলারদের অতীতের গৌরবোজ্জ্বল মুহূর্তগুলোকে বর্তমান প্রজন্মের সামনে নতুন করে পরিচিত করে তুলছে। গাত্তুসোর এই পরিসংখ্যান মনে করিয়ে দিচ্ছে যে, ফুটবলে কেবল গোল করাই নয়, বরং প্রতিপক্ষের পা থেকে বল কেড়ে নেওয়া এবং মাঝমাঠে রাজত্ব করাও কতটা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

আগামী জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া উত্তর আমেরিকার (যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা) বিশ্বকাপে এবার নতুন কোনো মিডফিল্ডার গাত্তুসোর এই রেকর্ড ভাঙতে পারেন কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

বাংলাদেশের খবর/এম.আর

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন