Logo

খেলা

জ্যাকবস ঝড়ে উড়ে গেল বাংলাদেশ, টি-টোয়েন্টি সিরিজ ড্র

Icon

ক্রীড়া প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০২ মে ২০২৬, ১৯:৩৫

জ্যাকবস ঝড়ে উড়ে গেল বাংলাদেশ, টি-টোয়েন্টি সিরিজ ড্র

সিলেটে মেয়েদের ধবলধোলাই হওয়ার দিনে মিরপুরে ছেলেদের ভাগ্যেও জুটল পরাজয়। দুর্দান্ত বোলিংয়ে জয়ের জোরালো সম্ভাবনা জাগিয়েও শেষ পর্যন্ত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ জেতা হলো না বাংলাদেশের। বেরসিক বৃষ্টির কারণে ১৫ ওভারে নেমে আসা ম্যাচে ডাকওয়ার্থ লুইস (ডিএলএস) পদ্ধতিতে ৬ উইকেটে হেরেছে নাজমুল হোসেন শান্তর পরিবর্তে নেতৃত্ব দেওয়া লিটন দাসের দল। এই হারের ফলে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজটি ১-১ সমতায় অমীমাংসিতভাবে শেষ হলো। সিরিজের প্রথম ম্যাচ বাংলাদেশ জিতলেও দ্বিতীয়টি বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হয়েছিল।

শনিবার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে আগে ব্যাটিং করতে নামে বাংলাদেশ। ইনিংসের মাঝপথে হানা দেয় প্রবল বৃষ্টি। প্রায় দুই ঘণ্টা খেলা বন্ধ থাকার পর যখন আবার শুরু হয়, তখন ম্যাচের দৈর্ঘ্য কমিয়ে আনা হয় ১৫ ওভারে। বৃষ্টির আগে ৬.৪ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৩ উইকেটে ৫০ রান। বিরতির পর রানের গতি বাড়াতে গিয়ে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে স্বাগতিকরা।

অধিনায়ক লিটন দাস ১৭ বলে ২৬ রানের একটি ঝোড়ো ইনিংস খেলে ক্লার্কসনের বলে বিদায় নেন। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩৩ রান আসে তাওহীদ হৃদয়ের ব্যাট থেকে (২৪ বল)। তবে শামীম হোসেন (৩), মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন (০) ও রিশাদ হোসেনদের (৫) ব্যর্থতায় বড় পুঁজি গড়তে ব্যর্থ হয় বাংলাদেশ। ১৪.২ ওভারে মাত্র ১০২ রানেই গুটিয়ে যায় লাল-সবুজরা। কিউই বোলার জস ক্লার্কসন মাত্র ৯ রান দিয়ে ৩টি উইকেট শিকার করে ধস নামান বাংলাদেশের ইনিংসে।

১০৩ রানের মামুলি লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শরিফুল ইসলামের তোপের মুখে পড়ে নিউজিল্যান্ড। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই জোড়া আঘাত হানেন এই বাঁহাতি পেসার। ওভারের দ্বিতীয় বলে কেটেনি ক্লার্ক ও শেষ বলে ডেন ক্লেভারকে লিটন দাসের ক্যাচ বানিয়ে সাজঘরে পাঠান তিনি। নিজের পরের ওভারে ফিরে এসে মারকুটে টিম রবিনসনকেও (২৩) বোল্ড করে দেন শরিফুল। পঞ্চম ওভারে শেখ মেহেদী হাসান নিক কেলিকে বোল্ড করলে মাত্র ৩৩ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে চরম বিপদে পড়ে কিউইরা। গ্যালারিতে তখন সিরিজ জয়ের সুবাস পেতে শুরু করেন হাজারো দর্শক।

যখন মনে হচ্ছিল বাংলাদেশ সহজেই ম্যাচটি জিতে নেবে, ঠিক তখনই দৃশ্যপটে হাজির হন বেভন জ্যাকবস। ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে তিনি শুরু করেন পাল্টা আক্রমণ। বাংলাদেশের বোলারদের ওপর রীতিমতো তান্ডব চালিয়ে মাত্র ২৯ বলে নিজের ফিফটি তুলে নেন তিনি। জ্যাকবসের মারকুটে ব্যাটিংয়ে ম্যাচ থেকে পুরোপুরি ছিটকে যায় বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত ৩১ বলে ৬২ রানে অপরাজিত থেকে ২০ বল বাকি থাকতেই দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন তিনি। ১১.৪ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়েই প্রয়োজনীয় লক্ষ্যে পৌঁছে যায় সফরকারীরা। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে শরিফুল ইসলাম ৩ ওভারে ৩২ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিলেও বাকিরা জ্যাকবসের ঝড় থামাতে পারেননি। বিশেষ করে মিডল অর্ডারে ডট বলের অভাব এবং ফিল্ডিংয়ের কিছু ছোট ভুল বাংলাদেশের হাত থেকে সিরিজ জয়ের সুযোগ কেড়ে নেয়।

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক লিটন দাস বলেন, "পুঁজিটা আরও ১৫-২০ রান বেশি হলে ম্যাচের ফলাফল ভিন্ন হতে পারত। বৃষ্টির পর উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য একটু সহজ হয়ে গিয়েছিল। তবে শরিফুল যেভাবে শুরু করেছিল, তা অসাধারণ ছিল। জ্যাকবসকে কৃতিত্ব দিতেই হবে, সে একাই আমাদের থেকে ম্যাচটা ছিনিয়ে নিয়েছে।" অন্যদিকে, সিরিজ বাঁচানোর নায়ক বেভন জ্যাকবস তার ইনিংস নিয়ে বলেন, "পরিস্থিতি কঠিন ছিল, কিন্তু আমার পরিকল্পনা ছিল ইতিবাচক থাকা। আমি শুধু বলের মেরিট অনুযায়ী খেলার চেষ্টা করেছি।"

সিলেট ও মিরপুর—দুই মাঠেই শনিবার বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য ছিল হতাশার দিন। তবে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এই লড়াই থেকে প্রাপ্তি কেবল তরুণ শরিফুলের ছন্দময় বোলিং। সিরিজ ভাগাভাগি করে এবার অন্য ফরম্যাটের লড়াইয়ে মনোযোগ দিচ্ছে দুই দল।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

বাংলাদেশ: ১০২/১০ (১৪.২ ওভার); হৃদয় ৩৩, লিটন ২৬; ক্লার্কসন ৩/৯।

নিউজিল্যান্ড: ১০৩/৪ (১১.৪ ওভার); জ্যাকবস ৬২*, রবিনসন ২৩; শরিফুল ৩/৩২।

ফল: নিউজিল্যান্ড ৬ উইকেটে জয়ী (ডিএলএস পদ্ধতি)।

সিরিজ: ১-১ সমতায় শেষ।

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন