নাজমুল হোসেন শান্ত
ব্যাটিংয়ের ধরনে কখনো ধ্রুপদী, কখনো আক্রমণাত্মক— নাজমুল হোসেন শান্ত যেন আধুনিক সময়ের এক লড়াকু যোদ্ধার প্রতিচ্ছবি। মিরপুরের শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচেই ব্যাট হাতে নিজের জাত চেনালেন টাইগার অধিনায়ক। কেবল সেঞ্চুরিই নয়, বরং এই শতকের হাত ধরে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে অধিনায়ক হিসেবে এক অনন্য রেকর্ড নিজের নামে করে নিয়েছেন তিনি। সাবেক অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমকে টপকে এখন তিনি বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল সেঞ্চুরিয়ান অধিনায়ক।
মিরপুর টেস্টের প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ
শুরুতেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছিল। দলীয় মাত্র ৩১ রানের মধ্যেই দুই ওপেনারের উইকেট হারিয়ে
যখন দল ধুঁকছিল, তখনই কাণ্ডারির ভূমিকায় অবতীর্ণ হন নাজমুল হোসেন শান্ত। ক্রিজে মুমিনুল
হককে সঙ্গে নিয়ে গড়ে তোলেন ১৭০ রানের এক মহাকাব্যিক জুটি। শান্ত ১২৯ বলে ১২টি চার ও
২টি ছক্কার সাহায্যে তার ক্যারিয়ারের নবম টেস্ট সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। এটি পাকিস্তানের
বিপক্ষে তার প্রথম শতক এবং গত দুই বছরের মধ্যে তার চতুর্থ সেঞ্চুরি। চাপের মুখে এমন
বিধ্বংসী ও কৌশলী ব্যাটিংয়ের মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করেছেন কেন তাকে বর্তমানে দলের অন্যতম
সেরা ব্যাটার মনে করা হয়।
এই সেঞ্চুরিটি ছিল টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে নাজমুল হোসেন শান্তর পঞ্চম শতক। আর এর মাধ্যমেই তিনি টপকে গেছেন মিস্টার ডিপেন্ডেবল খ্যাত মুশফিকুর রহিমকে। অধিনায়ক হিসেবে বাংলাদেশের হয়ে এতদিন সর্বোচ্চ ৪টি সেঞ্চুরির রেকর্ড ছিল মুশফিকের দখলে। সেই রেকর্ডটি নিজের করে নিতে শান্ত সময় নিয়েছেন মাত্র ১৭টি ম্যাচ এবং ৩০টি ইনিংস। যেখানে মুশফিকের লেগেছিল ৬১টি ইনিংস।
শান্তর এই ইতিহাস গড়া ইনিংসটি
থামে চা বিরতির ঠিক আগ মুহূর্তে। মুহাম্মদ আব্বাসের বলে এলবিডব্লিউর জোরালো আবেদন উঠলেও
আম্পায়ার তাতে সাড়া দেননি। তবে পাকিস্তান অধিনায়ক শান মাসুদ রিভিউ নিলে দেখা যায় বল
স্টাম্পে আঘাত করছে। শান্তকে মাঠ ছাড়তে হয় ব্যক্তিগত ১০৩ রানে। বিদায়ের আগে নিজের দায়িত্ব
দারুণভাবে পালন করে গেছেন তিনি।
২০২৩ সালের ডিসেম্বরে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে
নেতৃত্ব দিয়ে প্রথম সেঞ্চুরি করেছিলেন শান্ত। এরপর ২০২৪ সালের জুনে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে
গলে ঐতিহাসিক জোড়া সেঞ্চুরি করে নিজের সামর্থ্য জানান দেন। ওই বছরের নভেম্বরে আয়ারল্যান্ডের
বিপক্ষেও পান শতকের দেখা। আর শুক্রবার মিরপুরে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের বিপক্ষে
তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগার ছুঁয়ে তিনি নিজেকে নিয়ে গেলেন অনন্য উচ্চতায়।
এক নজরে বাংলাদেশের অধিনায়ক হিসেবে সর্বোচ্চ টেস্ট সেঞ্চুরি
নাজমুল হোসেন শান্ত: ৩০ ইনিংসে ৫টি
মুশফিকুর রহিম: ৬১ ইনিংসে ৪টি
মুমিনুল হক: ৩১ ইনিংসে ৩টি
মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ: ১২ ইনিংসে ২টি
মোহাম্মাদ আশরাফুল: ২৫ ইনিংসে ২টি
বাংলাদেশের খবর/এম.আর

