ফিফা বিশ্বকাপ
তিনদেশে আলাদা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে থাকছে বিশেষ চমক
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ মে ২০২৬, ২০:৫৬
ফুটবল ইতিহাসের বৃহত্তম ও সবচেয়ে বৈচিত্র্যময় আসর বসার অপেক্ষায় উত্তর আমেরিকা মহাদেশে। আগামী ১১ জুন মেক্সিকোর ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে পর্দা উঠতে যাচ্ছে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের। তবে এবারের আসরটি শুধু ৪৮ দলের অংশগ্রহণের কারণেই অনন্য নয়, বরং ফিফা এবার প্রথা ভেঙে তিন আয়োজক দেশেই আলাদা তিনটি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের ঘোষণা দিয়ে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের চমকে দিয়েছে।
ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা
এক আনুষ্ঠানিক টুইট বার্তায় (বর্তমান এক্স) নিশ্চিত করেছে যে, আয়োজক তিন দেশ—মেক্সিকো, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রে স্বাগতিক
দলগুলোর প্রথম ম্যাচের আগে আলাদা তিনটি জমকালো কনসার্ট ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজিত
হবে। এর আগে ২০০২ সালে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান যৌথভাবে বিশ্বকাপ আয়োজন করলেও উদ্বোধনী
অনুষ্ঠান হয়েছিল কেবল দক্ষিণ কোরিয়ায়। এবারই প্রথম তিনটি আলাদা দেশে তিনটি উদ্বোধনী
উৎসবের সাক্ষী হতে যাচ্ছে বিশ্ব।
বিশ্বকাপের মূল ডামাডোল বাজবে ১১ জুন মেক্সিকো
সিটির বিশ্বখ্যাত আজতেকা স্টেডিয়ামে। উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হবে স্বাগতিক মেক্সিকো
ও দক্ষিণ আফ্রিকা। এই ম্যাচের আগে আয়োজিত হবে মেক্সিকোর গৌরবোজ্জ্বল সংস্কৃতি ও আধুনিকতার
মেলবন্ধনে সাজানো এক অনুষ্ঠান। ফিফা জানিয়েছে, মেক্সিকোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান
আকর্ষণ হিসেবে থাকবে গ্র্যামিজয়ী মেক্সিকান পপ ব্যান্ড ‘মানা’।
তাদের সুরের মূর্ছনায় মেতে উঠবে আজতেকা।
এছাড়া পারফর্ম করবেন জনপ্রিয় মেক্সিকান গায়ক আলেহান্দ্রো ফার্নান্দেজ, বেলিন্ডা, ড্যানি
ওশিন, জে বালভিন এবং লিলা ডাউন্স। মেক্সিকোর আদিবাসী সংস্কৃতি এবং লোকজ ঐতিহ্যের সাথে
আধুনিক পপ সংগীতের এক অপূর্ব সমন্বয় দেখা যাবে এই অনুষ্ঠানে। লস অ্যাঞ্জেলস আজুলস ব্যান্ডও
তাদের পরিবেশনা দিয়ে গ্যালারি মাতাবে।
১২ জুন কানাডার টরন্টোতে স্বাগতিক দেশ
তাদের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হবে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার। মেক্সিকোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের
রেশ কাটতে না কাটতেই টরন্টোতে শুরু হবে দ্বিতীয় উদ্বোধনী উৎসব। কানাডীয় এই আয়োজনে
দেশটির বহুসাংস্কৃতিক পরিচয় ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
কানাডায় সংগীত পরিবেশন করবেন বিশ্বখ্যাত শিল্পী অ্যালানিস মরিসেত্তে, মাইকেল বুবলে
এবং অ্যালেসিয়া কারা। এছাড়া থাকবেন উইলিয়াম প্রিন্স ও লস অ্যাঞ্জেলেসভিত্তিক জনপ্রিয়
বাংলাদেশি-আমেরিকান ডিজে সঞ্জয়। টরন্টোর এই আয়োজনে এক বিশেষ চমক থাকছে; সেখানে ফিফা
বিশ্বকাপ ট্রফিকে এক নতুন ‘মোজাইক’ রূপায়ণে দর্শকদের সামনে উপস্থাপন করা হবে। আরও পারফর্ম করবেন
জেসি রেইজ এবং বলিউড হার্টথ্রব নোরা ফাতেহি।
সবশেষে ১৩ জুন যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে
শুরু হবে আমেরিকান পর্ব। স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র এদিন প্যারাগুয়ের বিপক্ষে মাঠে নামবে।
ম্যাচ শুরুর ৯০ মিনিট আগে স্টেডিয়ামে শুরু হবে বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। লস অ্যাঞ্জেলেসের
এই আয়োজনে প্রধান আকর্ষণ হিসেবে থাকছেন বিশ্বনন্দিত মার্কিন পপ তারকা ক্যাটি পেরি।
যুক্তরাষ্ট্রের এই কনসার্টটি নিয়ে ফিফা বলছে, এটি এমনভাবে পরিকল্পনা করা হয়েছে যা ‘টুর্নামেন্টের ব্যাপকতা, উচ্চাকাঙ্ক্ষা
ও সাংস্কৃতিক শক্তির প্রতিফলন ঘটাবে’। ক্যাটি পেরির পাশাপাশি মঞ্চ কাঁপাবেন আটলান্টার
জনপ্রিয় র্যাপার ফিউচার। তালিকায় আরও রয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার লিসা, আনিতা, রেমা এবং
টাইলার মতো উদীয়মান বৈশ্বিক তারকারা।
২০২৬ বিশ্বকাপ নানা কারণেই ইতিহাসের পাতায়
জায়গা করে নেবে। এটিই প্রথম আসর যেখানে ৩২ দলের পরিবর্তে ৪৮টি দেশ বিশ্বজয়ের লড়াইয়ে
নামবে। প্রথমবারের মতো তিনটি দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা যৌথভাবে পূর্ণাঙ্গ
আয়োজক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে। ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এই পরিকল্পনা
প্রসঙ্গে এর আগে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, আয়োজক দেশগুলোর ফুটবল উন্মাদনা এবং সাংস্কৃতিক
বৈচিত্র্যকে সম্মান জানাতেই এই পৃথক অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত। প্রতিটি দেশই তাদের নিজস্ব
ঐতিহ্য বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরার সুযোগ পাবে।
বিশ্লেষকদের মতে, আলাদা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের
এই সিদ্ধান্ত বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক মূল্য যেমন বাড়াবে, তেমনি দর্শকদের জন্য বিনোদনের
মাত্রাও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেবে। মেক্সিকোর আবেগ, কানাডার বৈচিত্র্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের
জৌলুস—এই তিনের সংমিশ্রণে ২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবল ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় মহাকাব্যে পরিণত
হতে যাচ্ছে। ১১ জুনের সেই মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষায় এখন প্রহর গুনছে গোটা বিশ্বের কোটি
কোটি ফুটবল অনুরাগী।
বাংলাদেশর খবর/এম.আর

