টেনিস বিশ্বের চার মহিরুহ বা ‘গ্র্যান্ড স্ল্যাম’ টুর্নামেন্টের সাথে খেলোয়াড়দের আয়ের ন্যায্য হিস্যা নিয়ে চলমান দ্বন্দ্ব এখন চরম উত্তেজনায় রূপ নিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আলোচনার টেবিলে সমাধানের চেষ্টা চললেও কর্তৃপক্ষগুলোর অনড় অবস্থানে এবার সরাসরি টুর্নামেন্ট বয়কটের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বর্তমান বিশ্বের এক নম্বর নারী তারকা আরিনা সাবালেঙ্কা।
ইতালিয়ান ওপেন চলাকালে এক সংবাদ সম্মেলনে
তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, নিজেদের অধিকার আদায়ের জন্য বড় আসরগুলো বর্জন করাই এখন খেলোয়াড়দের
সামনে একমাত্র পথ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাবালেঙ্কার এই কঠোর অবস্থান টেনিস অঙ্গনে নতুন করে
তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।
এই বিরোধের মূলে রয়েছে গ্র্যান্ড স্ল্যামগুলোর
আকাশচুম্বী আয়ের বিপরীতে খেলোয়াড়দের প্রাইজমানির স্বল্পতা। খেলোয়াড়দের দাবি অনুযায়ী,
টুর্নামেন্টগুলো তাদের মোট আয়ের মাত্র ১৩ থেকে ১৫ শতাংশ প্রাইজমানি হিসেবে বণ্টন করে,
যা অন্যান্য বৈশ্বিক খেলার তুলনায় অত্যন্ত কম। গত বছরের মার্চ থেকে খেলোয়াড়রা আয়ের
ভাগ বাড়ানো, পেনশন তহবিল গঠন এবং নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় খেলোয়াড়দের প্রতিনিধিত্ব
নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে আসলেও গ্র্যান্ড স্ল্যাম কর্তৃপক্ষগুলো তা আমলে নেয়নি।
সম্প্রতি ফরাসি ওপেন বা রোলঁ গারো তাদের
প্রাইজমানি বাড়ানোর যে ঘোষণা দিয়েছে, তাতেও মুদ্রাস্ফীতির তুলনায় প্রকৃত বৃদ্ধি খুবই
সামান্য বলে অভিযোগ খেলোয়াড়দের।
শুরুতে শীর্ষ পর্যায়ের অনেক তারকা এই বিষয়ে
প্রকাশ্যে কথা বলতে দ্বিধা করলেও এখন পরিস্থিতি বদলেছে। জানিক সিনার, ইগা সোয়াতেক এবং
কোকো গফের মতো তারকারা এবার সাবালেঙ্কার সুরেই কথা বলছেন। সিনার সরাসরি অভিযোগ করেছেন
যে, খেলোয়াড়দের উদ্বেগকে গুরুত্ব না দিয়ে টুর্নামেন্ট কর্তৃপক্ষগুলো তাদের রীতিমতো
অসম্মান করছে।
যদিও সমালোচকদের মতে, কোটিপতি খেলোয়াড়দের আরও অর্থের
দাবি কিছুটা বেমানান শোনাতে পারে, কিন্তু খেলোয়াড়দের যুক্তি হলো—টুর্নামেন্টের মূল
কেন্দ্রবিন্দু ও কারিগর তারাই, অথচ তাদের শ্রমের বিনিময়ে উপার্জিত অর্থের সিংহভাগ ব্যয়
করা হচ্ছে পশ্চিমা দেশগুলোর জাতীয় ফেডারেশনের উন্নয়নে।
গ্র্যান্ড স্ল্যামগুলোর জন্য খেলোয়াড়দের
এই হুমকি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে উইম্বলডনের মতো ঐতিহ্যবাহী আসরগুলো
যেখানে তাদের উদ্বৃত্ত আয়ের সিংহভাগ নিজ দেশের টেনিস উন্নয়নে ব্যয় করে, সেখানে আন্তর্জাতিক
খেলোয়াড়দের এই ক্ষোভ নিরসন করা সহজ হবে না।
এখন বিশ্ব টেনিস মহলের সব চোখ আসন্ন উইম্বলডনের
প্রাইজমানি ঘোষণার দিকে। টুর্নামেন্ট কর্তৃপক্ষ যদি খেলোয়াড়দের অংশীদার হিসেবে বিবেচনা
করে আলোচনার টেবিলে না আসে, তবে ২০২৬ সালে টেনিস বিশ্ব এক বড় ধরনের অচলাবস্থার সম্মুখীন
হতে পারে।
বাংলাদেশর খবর/এম.আর

