টি-টোয়েন্টি
দ্রুততম অর্ধশতকের বিশ্বরেকর্ড ফাতিমা সানার
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ মে ২০২৬, ২০:৪৭
ফাতিমা সানা
ওয়ানডে সিরিজের পর ঘরের মাঠে জিম্বাবুয়েকে টি-টোয়েন্টি সিরিজেও হোয়াইটওয়াশ করেছে পাকিস্তান নারী ক্রিকেট দল। তবে সিরিজের শেষ ম্যাচটি শুধু হোয়াইটওয়াশের আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি; ম্যাচটি ক্রিকেট ইতিহাসে অমর হয়ে থাকবে পাকিস্তান নারী দলের অধিনায়ক ফাতিমা সানার এক টর্নেডো ইনিংসের কল্যাণে। নারীদের আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে দ্রুততম হাফসেঞ্চুরির নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন ২৪ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডার। মাত্র ১৫ বলে ফিফটি স্পর্শ করে ক্রিকেটবিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার করাচির ন্যাশনাল ব্যাংক স্টেডিয়ামে
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে এই কীর্তি গড়েন পাকিস্তানি
অধিনায়ক। এর আগে নারীদের আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে দ্রুততম ফিফটির রেকর্ডটি ছিল ১৮
বলের। যৌথভাবে এই রেকর্ডের অংশীদার ছিলেন নিউজিল্যান্ডের সোফি ডিভাইন, অস্ট্রেলিয়ার
ফোবে লিচফিল্ড এবং ভারতের রিচা ঘোষ। তাদের চেয়ে ৩ বল কম খেলেই রেকর্ডটি এককভাবে নিজের
করে নিলেন ফাতিমা।
কেবল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটই নয়, নারীদের
সব ধরনের ঘরোয়া ও ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি মিলিয়েও এটি যৌথভাবে দ্রুততম ফিফটির রেকর্ড।
এর আগে ২০২২ সালে ইংল্যান্ডের ঘরোয়া ক্রিকেটে ওয়ারউইকশায়ারের হয়ে মেরি কেলি এবং গত
বছর নিউজিল্যান্ডের সুপার স্ম্যাশে ওতাগোর হয়ে লরা হ্যারিস ১৫ বলে ফিফটি করার কীর্তি
দেখিয়েছিলেন। পাশাপাশি পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে পুরুষ ও নারী দল মিলিয়েও এটি
এখন দ্রুততম ফিফটির রেকর্ড। ২০১৯ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সাবেক নারী অধিনায়ক
নিদা দারের ২০ বলের ফিফটি এবং ২০২১ সালে পুরুষ দলের শোয়েব মালিকের ১৮ বলের ফিফটির রেকর্ডকে
পেছনে ফেললেন ফাতিমা।
এদিন ৬ নম্বরে ব্যাট করতে নেমে জিম্বাবুয়ের
বোলারদের ওপর রীতিমতো তাণ্ডব চালান ফাতিমা। দলীয় ১৫২ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর তিনি
যখন ক্রিজে আসেন, তখন ইনিংসের বাকি ছিল মাত্র ২২টি বল। এর মধ্যে ১৯টি বল একাই খেলেন
পাকিস্তানি অধিনায়ক। ১৯ বলে শেষ পর্যন্ত ৬২ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি, যার স্ট্রাইক
রেট ছিল চোখধাঁধানো ৩২৬.৩১! ১০টি চার ও ২টি ছক্কায় সাজানো ছিল তাঁর এই দানবীয় ইনিংস।
বিশেষ করে জিম্বাবুয়ের বোলার নোমভেলো সিবান্দার করা ১৯তম ওভারে ৩টি চার ও ২টি ছক্কায়
একাই ২৪ রান তোলেন ফাতিমা।
অধিনায়কের এই রেকর্ড গড়া ঝোড়ো ইনিংস এবং
ওপেনার সাইরা জাবিনের দায়িত্বশীল অর্ধশতকের (৩২ বলে ৫০*) ওপর ভর করে পাকিস্তান নির্ধারিত
২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ২২৩ রানের বিশাল পুঁজি পায়। এটি নারীদের টি-টোয়েন্টিতে পাকিস্তানের
দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ।
উল্লেখ্য, এই সিরিজেরই প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের
বিপক্ষে ২৩৭/৫ রান তুলেছিল স্বাগতিকরা, যা তাদের ইতিহাসের সর্বোচ্চ দলীয় স্কোর। জিম্বাবুয়ের
পক্ষে লিন্ডোকুহলে মাবহিরো ৩৬ রানে ২ উইকেট শিকার করেন। ২২৪ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া
করতে নেমে শুরু থেকেই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় জিম্বাবুয়ে।
ওপেনার কেলিস এনদ্লোভু একপ্রান্তে কিছুটা প্রতিরোধের আভাস দিলেও ১৩ বলে ৩২ রান করে
সাদিয়া ইকবালের বলে বোল্ড হন। এরপর মিডল অর্ডারে আদেল জিমুনহুর ১৮ ও মিশেল মাভুঙ্গার
১৩ রান ছাড়া আর কোনো ব্যাটার দুই অঙ্কের কোঠাও স্পর্শ করতে পারেননি। ফলে ১৭.১ ওভারে
মাত্র ৯০ রানেই গুটিয়ে যায় রোডেশিয়ান মেয়েদের ইনিংস।
পাকিস্তানের পক্ষে বাঁহাতি স্পিনার সাদিয়া
ইকবাল ২০ রানে ৩টি এবং নাশরা সান্ধু ২১ রানে ২টি উইকেট নেন। ব্যাট হাতে তাণ্ডব চালানোর
পর বল হাতেও ১টি উইকেট নেন ম্যাচসেরা নির্বাচিত হওয়া ফাতিমা সানা। এই জয়ে জিম্বাবুয়েকে
১৩৩ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে ৩-০ ব্যবধানে টি-টোয়েন্টি সিরিজ নিজেদের করে নিল পাকিস্তান।
সিরিজে দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ের জন্য প্লেয়ার অব দ্য সিরিজ নির্বাচিত হন আয়েশা জাফর।
বাংলাদেশের খবর/এম.আর

