সিলেট টেস্ট
ধ্বংসস্তূপে লিটনের ‘মাস্টারক্লাস’ সেঞ্চুরি
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ মে ২০২৬, ২০:৪৮
দলীয় সংগ্রহ মাত্র ২৬ রানে ৬ উইকেট কিংবা ১১৬ রানে ৬ উইকেট—পরিস্থিতি যেমনই হোক, বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ব্যাটিং বিপর্যয়ে ত্রাতা হিসেবে লিটন কুমার দাসের আবির্ভাব যেন এক অবধারিত সত্য। ২০২৪ সালে পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে ২৬ রানে ৬ উইকেট হারানোর পর ১৩৮ রানের মহাকাব্যিক এক ইনিংস খেলেছিলেন।
এবার ঘরের মাঠে সিলেট টেস্টের প্রথম দিনেই
ফিরল সেই একই দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি। তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়া ব্যাটিং লাইনেআপের ধ্বংসস্তূপে
দাঁড়িয়ে ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা এক ‘মাস্টারক্লাস’ সেঞ্চুরি উপহার দিলেন লিটন।
তাঁর একার লড়াইয়ে প্রথম ইনিংসে বিপর্যয় সামলে লড়াকু পুঁজির দিকে এগোচ্ছে বাংলাদেশ।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে
টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে স্বাগতিকরা। পাকিস্তানের
পেসার মুহাম্মদ আব্বাস ও খুররম শাহজাদের তোপে ১১৬ রান তুলতেই টপ ও মিডল অর্ডারের ৬
ব্যাটসম্যান সাজঘরে ফেরেন। দলের এই চরম বিপদে সাতে নেমে এক প্রান্ত আগলে রেখে পাল্টা
আক্রমণ শুরু করেন লিটন দাস। টেল এন্ডারদের আড়ালে রেখে এবং দারুণ বিচক্ষণতায় স্ট্রাইক
রোটেট করে ১৩৫ বলে তুলে নেন টেস্ট ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ সেঞ্চুরি। প্রথম ইনিংসে শেষ খবর
পাওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশের সংগ্রহ ৮ উইকেটে ২৪৭ রান। ১৫৯ বলে ১২৬ রানের ঝলমলে এক ইনিংস
খেলে লিটন যখন মাঠ ছাড়ছিলেন, তখন প্রতিপক্ষ পাকিস্তানের ধারাভাষ্যকার রমিজ রাজাও শব্দহীন
প্রশংসায় একে অভিহিত করেন কেবল ‘মাস্টারক্লাস’ বলে।
এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম ওভারেই
ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। মুহাম্মদ আব্বাসের করা ইনিংসের প্রথম বলেই লাইন মিস করেন মাহমুদুল
হাসান জয়। প্রথম যাত্রায় লেগ বিফোর থেকে বেঁচে গেলেও ঠিক পরের বলেই স্লিপে ক্যাচ দিয়ে
শূন্য রানে ফেরেন তিনি। শুরুর সেই ধাক্কা সামলে মুমিনুল হক ও অভিষিক্ত ওপেনার তানজিদ
হাসান তামিম মিলে ৪৪ রানের জুটি গড়েন। তবে ভালো শুরুর আভাস দিয়েও তানজিদ ৩৪ বলে ২৬
রানে থামেন। এরপর মুমিনুল ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর জুটিও বেশিক্ষণ টেকেনি।
খুররম শাহজাদের ভেতরে ঢোকা এক দুর্দান্ত
ডেলিভারিতে বোল্ড হন মুমিনুল। উইকেটে থিতু হয়েও বড় ইনিংস খেলতে ব্যর্থ হন শান্ত ও অভিজ্ঞ
মুশফিকুর রহিম। শান্ত ২৯ রান করে শট খেলার দুটানায় পড়ে স্লিপে ক্যাচ দেন এবং মুশফিক
৬৪ বলে ২৩ রান করে শাহজাদের দ্বিতীয় শিকার হিসেবে এলবিডব্লিউ হন। এরপর সাতে নামা মেহেদী
হাসান মিরাজ মাত্র ৪ রান করে ফিরলে ১১৬ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে চরম সংকটে পড়ে বাংলাদেশ।
আউট হওয়া প্রথম ছয় ব্যাটসম্যানের কেউই ৩০ রানের কোঠা স্পর্শ করতে পারেননি।
মেঘলা আকাশ আর পাকিস্তানি পেসারদের সুইংয়ের
মুখে লিটন দাসকে যোগ্য সঙ্গ দেন স্পিনার তাইজুল ইসলাম। তাইজুল নিজে মাত্র ১৬ রান করলেও
বল খেলেছেন ৪০টি, যা লিটনকে অন্য প্রান্তে থিতু হতে দারুণ সাহায্য করে। তাইজুলকে নিয়ে
২২ ওভারের প্রতিরোধ গড়ার পথে লিটন লড়াকু ব্যাটিং চালিয়ে যান।
পাকিস্তান অধিনায়ক ফিল্ডার ছড়িয়ে বাউন্ডারি
আটকানোর চেষ্টা করলেও বুদ্ধিদীপ্ত ব্যাটিংয়ে রান তুলতে থাকেন এই ডানহাতি ব্যাটার। পাকিস্তানি
স্পিনার সাজিদ খানকে সুইপ করে বাউন্ডারি মেরে নার্ভাস নাইন্টিজে পৌঁছানোর পর খুররম
শাহজাদকে দৃষ্টিনন্দন ‘হুক’ শটে ছক্কা মেরে পাকিস্তানের বোলারদের ওপর মানসিক চাপ তৈরি করেন
তিনি।
তাইজুলের বিদায়ের পর তাসকিন আহমেদ (১৩
বল) ও শরিফুল ইসলামকে নিয়ে লড়াই জিয়ে রাখেন লিটন। ইনিংসের এক পর্যায়ে শরিফুল যখন মাঠের
আম্পায়ারের সিদ্ধান্তে এলবিডব্লিউ আউট হন, তখন লিটন নিজেই রিভিউ নেওয়ার তাগিদ দেন এবং
পরে দেখা যায় শরিফুল নটআউট ছিলেন। যদিও ব্যক্তিগত ইনিংসে গ্লাভসে বল লাগলেও পাকিস্তান
রিভিউ না নেওয়ায় এবং আবদুল্লাহ ফজলের হাতে একবার ক্যাচ ফস্কে যাওয়ায় জীবন পান লিটন,
তবে তাঁর পুরো ইনিংসে টেল এন্ডারদের আগলে রাখার রণকৌশল ছিল দেখার মতো।
বাংলাদেশের খবর/এম.আর

