Logo

খেলা

স্থায়ীভাবে পুরোনো কোচে ফিরলেন এমা রাদুকানু

Icon

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ: ১৬ মে ২০২৬, ২০:৫১

স্থায়ীভাবে পুরোনো কোচে ফিরলেন এমা রাদুকানু

এমা রাদুকানু

টেনিসবিশ্বে খবরের শিরোনামে আসতে এমা রাদুকানুর জুড়ি মেলা ভার। পাঁচ বছর আগে কিশোরী কোয়ালিফায়ার হিসেবে যে কোচের হাত ধরে ইউএস ওপেন জিতে ইতিহাস গড়েছিলেন, আবারও সেই কোচের কাছেই স্থায়ীভাবে ফিরে গেলেন ব্রিটিশ নাম্বার ওয়ান তারকা।

পুরোনো কোচ অ্যান্ড্রু রিচার্ডসনের সঙ্গে স্থায়ীভাবে কাজ করার চুক্তি সম্পন্ন করেছেন ২৩ বছর বয়সী রাদুকানু। বর্তমানে ফ্রান্সের স্ট্রাসবার্গে ডব্লিউটিএ ক্লে-কোর্ট টুর্নামেন্টের প্রস্তুতি নিচ্ছেন এই জুটি, যা ফ্রেঞ্চ ওপেনের আগে শেষ প্রস্তুতিমূলক আসর। রাদুকানু ও ৫২ বছর বয়সী ব্রিটিশ কোচ রিচার্ডসন দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্বে সম্মত হয়েছেন, যার অর্থ আসন্ন উইম্বলডনসহ সামনের মৌসুমগুলোতে এই অভিজ্ঞ কোচের পথনির্দেশনাতেই খেলবেন তিনি।

চলতি মাসের শুরুতে স্পেনের ফেরার টেনিস একাডেমিতে রিচার্ডসনের অধীনে একটি অনানুষ্ঠানিক অনুশীলন সেশনে অংশ নিয়েছিলেন রাদুকানু, যেখানে রিচার্ডসন গত কয়েক বছর ধরে টেনিস পরিচালক হিসেবে কর্মরত। সেই অনুশীলনের পরই দুজনে স্থায়ীভাবে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেন। পুরোনো কোচের কাছে ফেরা প্রসঙ্গে রাদুকানু বলেন, যিনি আমাকে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চেনেন, তাঁর সঙ্গে আবারও যুক্ত হতে পেরে আমি কৃতজ্ঞ। আমরা ধাপে ধাপে একসঙ্গে একটি শক্ত ভিত গড়ার অপেক্ষায় আছি।

২০২১ সালে এই রিচার্ডসন যখন রাদুকানুর কোচিং বক্সে ছিলেন, তখন ১৮ বছর বয়সী রাদুকানু টেনিস ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে বাছাই পর্ব পেরিয়ে একটি সেটও না হেরে ইউএস ওপেনের শিরোপা উঁচিয়ে ধরেছিলেন। তবে সেই অবিশ্বাস্য সাফল্যের পরপরই রিচার্ডসনের সঙ্গে পথ আলাদা হয়ে যায় তাঁর। এরপর থেকে রাদুকানুর ক্যারিয়ারে একের পর এক কোচ বদলের কোরাস চলেছে। গত জানুয়ারিতে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে বিদায় নেওয়ার পর কোচ ফ্রান্সিসকো রয়গের সঙ্গেও সম্পর্ক ছিন্ন করেন তিনি। এরপর থেকে এতোদিন স্থায়ী কোনো কোচ ছাড়াই ছিলেন এই ব্রিটিশ তারকা।

গত ৮ মার্চ ইন্ডিয়ান ওয়েলসের তৃতীয় রাউন্ডে মার্কিন তারকা আমান্ডা আনিসিমোভার কাছে হেরে যাওয়ার পর প্রায় ১০ সপ্তাহ কোর্টের বাইরে ছিলেন রাদুকানু। পোস্ট-ভাইরাল ইনফেকশনের (ভাইরাসজনিত সংক্রমণ) কারণে এই দীর্ঘ বিরতির ফলে বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়ে ৩৭ নম্বরে নেমে গেছেন তিনি।

ফলে আগামী ২৪ মে থেকে শুরু হতে যাওয়া বছরের দ্বিতীয় গ্র্যান্ড স্ল্যাম ফ্রেঞ্চ ওপেনে শীর্ষ-৩২ বাছাইয়ের মধ্যে থাকতে পারছেন না তিনি। তবে ফ্রেঞ্চ ওপেনের আগে ম্যাচ প্র্যাকটিসের অংশ হিসেবে স্ট্রাসবার্গ টুর্নামেন্টে ওয়াইল্ডকার্ড এন্ট্রি পেয়েছেন তিনি।

ইউএস ওপেন জয়ের পর থেকে গত পাঁচ বছরে রাদুকানুর ফর্মের গ্রাফ কেবলই নিচে নেমেছে। টেনিস মহলে প্রায়ই প্রশ্ন উঠত—যাঁর অধীনে রাদুকানু সেই অবিশ্বাস্য জয় পেয়েছিলেন, তাঁর সঙ্গেই কেন চুক্তি বাড়ালেন না? সে সময় প্রচার করা হয়েছিল যে, রিচার্ডসনের ৯ সপ্তাহের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় এবং তিনি তাঁর ছোট ছেলেকে কোচিং করাতে চাওয়ায় ট্যুরে ভ্রমণ করতে চাননি। তবে পরবর্তীতে রিচার্ডসন এই দাবি নাকচ করে জানান, তিনি কাজ চালিয়ে যেতে আগ্রহী ছিলেন।

মূলত রাদুকানু ডব্লিউটিএ ট্যুরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কোচ খুঁজতেই রিচার্ডসনকে বাদ দিয়েছিলেন। তবে দীর্ঘ সময় পর সেই ভুল বুঝতে পেরেছেন রাদুকানু। ফ্ল্যাশিং মেডোজে সেই ঐতিহাসিক জয়ের সময় রাদুকানু যেভাবে আগ্রাসী, নির্ভীক ও স্বাধীন চিত্তে খেলতেন, পরবর্তীতে অন্য কোনো কোচের অধীনে সেই ছন্দ আর ফিরে পাননি। গত জানুয়ারিতে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ব্যর্থতার পর তিনি নিজেই আক্ষেপ করে বলেছিলেন, তিনি শৈশবের সেই চেনা ঢংয়ে টেনিস উপভোগ করতে চান।

আসলে রাদুকানু তখনই সবচেয়ে নির্ভার থাকেন এবং সেরাটা দিতে পারেন, যখন তাঁর চারপাশে এমন মানুষ থাকেন যাদের তিনি চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করেন। আর সেই কারণেই নিক ক্যাভাডে বা মার্ক পেচির মতো শৈশবের চেনা মুখের পর এবার রিচার্ডসনের কাছেই ফিরে গেলেন তিনি। রাদুকানুর ক্যারিয়ারের হারিয়ে যাওয়া সেই আগ্রাসী রূপ ও আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনাই এখন রিচার্ডসনের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

 

বাংলাদেশের খবর/এম.আর

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন