Logo

খেলা

রাজধানীতে জার্সি বিক্রিতে ধুম, এগিয়ে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা

Icon

ক্রীড়া প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৬, ১৬:৩৩

রাজধানীতে জার্সি বিক্রিতে ধুম, এগিয়ে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা

ছবি: সংগৃহীত

তিনটি দেশ- যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত হবে ফুটবলের মহাযজ্ঞ বিশ্বকাপ। ২৩তম এ আসর শুরু হতে যাচ্ছে আগামী ১১ জুন। প্রতিবারের মতো এবারও মাঠে খেলা গড়ানোর আগেই শুরু হয়েছে বিশ্বকাপের উন্মাদনা। বাংলাদেশও বাদ যাচ্ছে না তা থেকে।

রাজধানীর ফুটপাত থেকে শুরু করে স্পোর্টস শোরুম সবখানেই দেখা মিলছে বিভিন্ন দেশের পতাকা ও জার্সির। আকাশি-সাদা, হলুদ-সবুজসহ নানা রঙের জার্সিতে সেজেছে দোকানের তাক ও ফুটপাতের পসরা।

মঙ্গলবার (২ জুন) গুলিস্তানের ফুটপাত ও স্পোর্টস মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে খুচরা বিক্রেতারা বিশ্বকাপ উপলক্ষে জার্সি কিনতে এসেছেন। পাশাপাশি নিজেদের পছন্দের দলের জার্সিও কিনছেন সাধারণ ক্রেতারা।

ঢাকার আরো অনেক এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ফুটপাত ও শোরুমে সারি সারি করে সাজানো ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, জার্মানি, ফ্রান্স, স্পেন, পর্তুগাল, ইংল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের জার্সি। ফুটপাতে ১০০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে জার্সি পাওয়া গেলেও দোকান ও শোরুমে ৫০০ টাকার নিচে জার্সি পাওয়া যাচ্ছে না। উন্নতমানের জার্সির দাম সর্বোচ্চ এক হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত।

গুলিস্তান স্পোর্টস মার্কেটের ব্যবসায়ীরা জানান, বিশ্বকাপকে সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে খুচরা বিক্রেতারা পাইকারিভাবে জার্সি সংগ্রহ করছেন। সব দলের জার্সির চাহিদা থাকলেও বাজারে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের জার্সি। বিশ্বকাপ উপলক্ষে জার্সির দামও বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে।

মগবাজার থেকে দুই নাতনির জন্য আর্জেন্টিনার জার্সি কিনতে আসা আলম মিয়া বলেন, আমি নিজেই আর্জেন্টিনার সমর্থক। আমার দুই নাতনিও আর্জেন্টিনাকে সমর্থন করে। তাই তাদের জন্য জার্সি কিনতে এসেছি। আমাদের পরিবারে বিশ্বকাপ এলেই আলাদা এক উন্মাদনা তৈরি হয়। আমার দুই ছেলে ও এক মেয়ে ব্রাজিলের সমর্থক, আর আমি ও আমার নাতনিরা আর্জেন্টিনার।

জুরাইন থেকে আসা দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী লাহিন নিজের ও ছোট ভাই আবিরের জন্য জার্সি কিনতে গুলিস্তানে এসেছিলেন। তিনি বলেন, আমার জন্য আর্জেন্টিনার জার্সি কিনেছি। তবে আমার ছোট ভাইয়ের জন্য ব্রাজিলের জার্সি কিনেছি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে পাইকারি জার্সি কিনতে আসা ব্যবসায়ী সুমন বলেন, গ্রামাঞ্চলে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের জার্সির চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এ ছাড়া, স্পেন, জার্মানি ও ফ্রান্সের জার্সিও কিছুটা বিক্রি হয়। বিশ্বকাপকে সামনে রেখে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রতি পিস জার্সি ১০০ থেকে ১৫০ টাকা বেশি দামে কিনতে হচ্ছে।

মিরপুরে ফুটপাতের বিক্রেতা খায়রুল আলম বলেন, আমার কাছে ১০০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে বিভিন্ন ধরনের জার্সি রয়েছে। বিক্রি অনেক ভালো হচ্ছে। খেলা যত ঘনিয়ে আসবে, বিক্রিও তত বাড়বে বলে আশা করছি।

গুলিস্তান স্পোর্টস মার্কেটের সালমান স্পোর্টসের বিক্রেতা নূরে আলম মিয়াজি বলেন, সারা দেশ থেকেই খুচরা বিক্রেতারা আমাদের কাছে আসেন। এখানে পাইকারিভাবে ২০০ থেকে এক হাজার টাকা দামের জার্সি বিক্রি হয়। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বর্তমানে প্রতিটি জার্সি ১৫০ থেকে ৫০০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। অন্যান্য দলের তুলনায় আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের জার্সির বিক্রি কয়েকগুণ বেশি।

অনলাইনেও জমে উঠেছে জার্সির ব্যবসা। অনলাইনে জার্সি বিক্রি করা ‘রনি জার্সিবাজ’র মালিক রনি জানান, প্রতি সপ্তাহে ৫০০টির বেশি জার্সির অর্ডার পাচ্ছেন তারা। অনলাইনে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকার জার্সির চাহিদা সবচেয়ে বেশি বলে জানান তিনি।

শুধু জার্সিই নয়, বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন দেশের পতাকাও। গুলিস্তান ও সদরঘাট এলাকার দর্জিদের দোকানগুলোতে এখন পতাকা তৈরির ব্যস্ততা। ফুটপাতের ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতারা জানান, পাঁচ টাকা থেকে শুরু করে এক হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত দামের পতাকা বিক্রি হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার পতাকা।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে বিক্রি হওয়া জার্সির প্রায় ৯০ শতাংশই আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের। এ ছাড়া জার্মানি, ফ্রান্স, স্পেন, পর্তুগাল, ইংল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস ও ক্রোয়েশিয়ার জার্সিরও চাহিদা রয়েছে। তবে বিশ্বকাপের সময় ইউরোপের নামী ক্লাবগুলোর জার্সি বিক্রি তুলনামূলক কমে গেছে।

রাজধানীর জার্সির সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার গড়ে উঠেছে গুলিস্তান এলাকায়। সেখানে দেশীয়ভাবে তৈরি জার্সির পাশাপাশি থাইল্যান্ড ও চীন থেকে আমদানি করা জার্সিও বিক্রি হচ্ছে। 

ব্যবসায়ীদের তথ্যমতে, দেশে তৈরি জার্সি পাইকারিতে ২৫০ থেকে ৬০০ টাকা এবং আমদানি করা জার্সি ৭০০ থেকে একহাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে এসব জার্সির দাম আরও ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বেশি। এ ছাড়া জার্সিতে প্রিয় খেলোয়াড় কিংবা নিজের নাম লেখাতে অতিরিক্ত ৬০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত খরচ হচ্ছে।

বাংলাদেশের খবর/আরইউ

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন