Logo

খেলা

ফিফা বিশ্বকাপ

দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়ে প্রথম দল হিসেবে নকআউটে মেক্সিকো

Icon

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ২০:৫৪

দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়ে প্রথম দল হিসেবে নকআউটে মেক্সিকো

ঘরের মাঠে ফুটবল উন্মাদনার নতুন এক রূপ দেখাল মেক্সিকো। আল জাজিরা ও রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, গুয়াদালাহারা স্টেডিয়ামের গগনবিদারি গর্জনের মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়াকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের প্রথম দল হিসেবে নকআউট বা শেষ ৩২-এর টিকিট নিশ্চিত করেছে মেক্সিকো।

ম্যাচের ৫০ মিনিটে লুইস রোমোর করা একমাত্র গোল এবং শেষ মুহূর্তে গোলরক্ষক রাউল রাঞ্জেলের অতিমানবীয় ডাবল সেভের ওপর ভর করে এক ম্যাচ হাতে রেখেই 'গ্রুপ এ'-এর চ্যাম্পিয়ন হিসেবে পরের রাউন্ডে পা রাখল হ্যাভিয়ের আগুয়েরের দল।

গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার বড় সুবিধা হিসেবে মেক্সিকোকে তাদের শেষ ৩২-এর ম্যাচটি খেলার জন্য দেশের বাইরে যেতে হবে না, নিজেদের প্রিয় মেক্সিকো সিটিতেই তারা অন্য গ্রুপের তৃতীয় স্থান অধিকারী দলের মুখোমুখি হবে।

প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২-০ গোলে হারিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করা মেক্সিকো এই ম্যাচে তিনটি পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামে। অন্যদিকে, চেক প্রজাতন্ত্রকে ২-১ গোলে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসী দক্ষিণ কোরিয়া তাদের একাদশে মাত্র একটি পরিবর্তন এনেছিল। ম্যাচের ১৫ মিনিটে প্রথম সহজ সুযোগ পেয়েছিল কোরিয়া। দলের অধিনায়ক ও টটেনহ্যাম তারকা সন হুংমিন মেক্সিকান গোলরক্ষক রাঞ্জেলের মাথার ওপর দিয়ে বল চিপ করেছিলেন।

তবে মেক্সিকোর এডসন আলভারেজ গোললাইন থেকে দুর্দান্ত এক বাইসাইকেল কিকে বল ক্লিয়ার করেন। অবশ্য পরে রেফারি সন হুংমিনকে অফসাইড ঘোষণা করেন, যদিও রিপ্লেতে দেখা গেছে সিদ্ধান্তটি খুবই সূক্ষ্ম ছিল। এর কিছুক্ষণ পর মেক্সিকোর হুলিয়ান কুইনোনেস চমৎকার এক হেডে কোরিয়ান গোলরক্ষক কিম সেউঙ্গিউ-কে পরাস্ত করতে চাইলে তা নস্যাৎ হয়ে যায়।

প্রথমার্ধের বাকিটা সময় দক্ষিণ কোরিয়া বল পজিশনে আধিপত্য দেখালেও পরিষ্কার কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। উল্টো মেক্সিকান ফুটবলারদের ধারহীন ফুটবলে ক্ষুব্ধ হয়ে গ্যালারির দর্শকেরা প্রথমার্ধ শেষে দুয়ো ধ্বনি দিতে শুরু করেন।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই খোলস ছেড়ে বের হয় মেক্সিকো। আক্রমণের ধার বাড়িয়ে ম্যাচের ৫০ মিনিটে তারা কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায়। তবে এই গোলটিতে মেক্সিকোর দক্ষতার চেয়ে কোরিয়ান গোলরক্ষকের ভুলের অবদানই ছিল বেশি। একটি উঁচু বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে কোরিয়ান গোলরক্ষক কিম নিজের ডিফেন্ডারের সাথেই ধাক্কা খেয়ে বসেন। ফলে তাঁর হাত থেকে বল ফসকে সরাসরি চলে যায় মেক্সিকান মিডফিল্ডার লুইস রোমোর পায়ে।

ফাঁকা পোস্ট পেয়ে প্রথম ছোঁয়াতেই বল জালে জড়াতে কোনো ভুল করেননি রোমো। মুহূর্তের মধ্যে পুরো গুয়াদালাহারা স্টেডিয়াম মেক্সিকান সমর্থকদের উল্লাসে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। পিছিয়ে পড়ার পর কোরিয়ান কোচ মিয়ুং-বো হং সবাইকে অবাক করে দিয়ে ম্যাচের ৬০ মিনিটের আগেই অধিনায়ক সন হুংমিনকে মাঠ থেকে তুলে নেন এবং উলভারহ্যাম্পটনের ফরোয়ার্ড হাওয়াং হিচ্যানকে মাঠে নামান।

ম্যাচের শেষ দিকে সমতায় ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে দক্ষিণ কোরিয়া। তবে মেক্সিকোর দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে যান স্থানীয় ফুটবলার ও গোলরক্ষক রাউল রাঞ্জেল। ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে কোরিয়ার চো গুয়েসুং-এর বুলেটের মতো হেড এবং ইয়াং হিউনজুনের ফিরতি শট অবিশ্বাস্য এক ডাবল সেভে’র মাধ্যমে রুখে দিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন রাঞ্জেল।

ম্যাচ শেষে তৃপ্তির হাসি হেসে মেক্সিকোর প্রধান কোচ হ্যাভিয়ের আগুয়েরে মেক্সিকান ব্রডকাস্টার টিভি অ্যাজটেকাকে বলেন, এটি অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ একটি ম্যাচ ছিল। আমরা মাঠের এক সেন্টিমিটার জায়গাও প্রতিপক্ষকে ছেড়ে দিইনি এবং প্রতিটি বলের জন্য শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে লড়াই করেছি। এটি এমন একটি ম্যাচ ছিল যেখানে যে ভুল করবে সে-ই হারবে, আর ভুলটি ওরাই করেছে। আমি অত্যন্ত আনন্দিত, কারণ এই ফলের অর্থ হলো আমাদের নিজেদের প্রিয় মাতৃভূমি মেক্সিকো ছেড়ে বাইরে যেতে হচ্ছে না।

এই গ্রুপের অন্য ম্যাচে চেক প্রজাতন্ত্র এবং দক্ষিণ আফ্রিকা ১-১ গোলে ড্র করায় ৩ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে দক্ষিণ কোরিয়া। আর চেক প্রজাতন্ত্র ও দক্ষিণ আফ্রিকার পয়েন্ট ১। মেক্সিকো তাদের শেষ গ্রুপ ম্যাচে চেক প্রজাতন্ত্রের মুখোমুখি হবে, যা তাদের জন্য কেবলই আনুষ্ঠানিকতার ম্যাচ। অন্যদিকে নকআউটের লড়াইয়ে টিকে থাকতে দক্ষিণ কোরিয়া মুখোমুখি হবে দক্ষিণ আফ্রিকার।

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন