Logo

খেলা

টাইব্রেকারে জার্মানিকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় প্যারাগুয়ে

Icon

ক্রীড়া ডেস্ক

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ০৯:৫২

টাইব্রেকারে জার্মানিকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় প্যারাগুয়ে

ছবি: সংগৃহীত

প্রথম বড় অঘটন দেখল ২০২৬ বিশ্বকাপ। প্যারাগুয়ের কাছে টাইব্রেকারে হেরে শেষ বত্রিশ থেকে বিদায় নিয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি।

প্রথমে ৯০ মিনিট, এরপর আরও আধা ঘণ্টা মিলিয়ে দুই ঘণ্টার খেলা শেষ হয়েছিল ১–১ সমতায়। এরপর টাইব্রেকারে দুই দলের পাঁচটি করে শটও শেষ হয় ৩–৩ সমতায়। তবে সাডেন ডেথে জার্মানির জনাথন টাহ বল উড়িয়ে মারলেও মিস করেননি প্যারাগুয়ের হোসে কানালে। আর তাতেই জার্মানিকে বিদায় করে শেষ ষোলোয় জায়গা করেছে প্যারাগুয়ে।

১৬ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা প্যারাগুয়ে বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকালে শুধু ম্যাচই জেতেনি, জার্মানির টাইব্রেকার–দাপটেও বড় আঁচড় কেটেছে। এবারের আগে বিশ্বকাপে চারবার টাইব্রেকারে খেলে একবারও হারেনি জার্মানি।

২০১০ সালে শেষ ষোলোয় জাপানকে টাইব্রেকারে হারিয়ে কোয়ার্টার-ফাইনালে উঠেছিল প্যারাগুয়ে, বিশ্বকাপে যা তাদের সেরা সাফল্য। তারপর এই প্রথম বিশ্ব মঞ্চে ফিরেছে তারা। এবার নকআউটের শুরুতে পেল অভাবনীয় এক সাফল্য।

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে নিজেদের আগের পাঁচ ম্যাচে কোনো গোলই ছিল না প্যারাগুয়ের। সেই খরা কাটিয়ে প্রথমার্ধে দলটিকে এগিয়ে নেন হুলিও এন্সিসো। বিরতির পর সমতা টানেন কাই হাভার্টজ।

সেই হাভার্টজই ব্যর্থ হন টাইব্রেকারের শুরুতে। তার শট ঝাঁপিয়ে ঠেকিয়ে দেন হিল। শটে অবশ্য খুব বেশি জোরও ছিল না। জার্মানির পরের দুই শটে জাল খুঁজে পান জসুয়া কিমিখ ও জামাল মুসিয়ালা।

প্যারাগুয়ের প্রথম তিন শটেই মেলে জালের দেখা। এরপর জার্মানির চতুর্থ শট নিতে আসেন নক ভল্টেমাডা। তার শটও ঝাঁপিয়ে ঠেকান হিল।

চতুর্থ শটে গোল করে জয়ের সুযোগ তখন প্যারাগুয়ের সামনে। কিন্তু বাইরে মেরে বসেন আন্তোনিও সানাব্রিয়া। বেঁচে থাকে জার্মানির আশা।

জার্মানির পঞ্চম শট জালে পাঠান নাদিম আমিরি। প্যারাগুয়ের সামনে ম্যাচ শেষ করার সুযোগ আসে আবার। কিন্তু ফাবিয়ান বালবুয়েনার নেওয়া তাদের পঞ্চম শট ঠেকিয়ে দেন মানুয়েল নয়ার।

এরপর সাডেন ডেথে শুরুতে উড়িয়ে মারেন জার্মানির ইয়োনাথান টাহ। এবার আর ভুল করেনি প্যারাগুয়ে। কানালে বল জালে পাঠাতেই উল্লাসে মাতে গুস্তাভো আলফারোর দল।

গত দুটি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়া জার্মানি ২০১৪ সালের ফাইনালে জয়ের পর, এবারই প্রথম নকআউটে উঠেছিল। কিন্তু অভাবনীয় হারে শুরুতেই বিদায় নিল ইউলিয়ান নাগেলসমানের দল।

গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে একুয়েডরের বিপক্ষে ২-১ গোলে হারের পর, তাদের সঙ্গী হলো এই যন্ত্রণাদায়ক পরাজয়।

প্রথমার্ধে জার্মানির পারফরম্যান্স ছিল খুবই সাদামাটা। গ্রুপ পর্বে ১০ গোল করা দলটি বিরতির আগে প্রায় কিছুই করতে পারেনি। এই সময়ে তাদের পজেশন ছিল ৭৮ শতাংশ। কিন্তু গোলের জন্য পাঁচটি শট নিয়ে একটিও লক্ষ্যে রাখতে পারেনি তারা।

বল দখলে অনেক পিছিয়ে থাকলেও রক্ষণ জমাট রেখে খেলতে থাকে প্যারাগুয়ে। সুযোগ পেলেই উঠছিল পাল্টা আক্রমণে। ৪২তম মিনিটে জার্মানিকে চমকে দিয়ে এগিয়ে যায় তারা। ডান দিক থেকে সতীর্থের ক্রসে বক্সে হেডে বল জালে পাঠান অরক্ষিত হুলিও এন্সিসো। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ছয় ম্যাচে প্যারাগুয়ের প্রথম গোলদাতা হয়ে যান তিনি।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে দ্বিতীয় গোল পেতে চলেছিল প্যারাগুয়ে। কিমিখ বল তুলে দেন গোলদাতা এন্সিসোর পায়ে। এগিয়ে এসে দলকে বাঁচান নয়ার, চিপ শট আটকে দেন তিনি।

৫৪তম মিনিটে সমতায় ফেরে জার্মানি। ফ্লোহিয়ান ভিয়েৎস চমৎকার ক্রস করেন বক্সে, দারুণ হেডে জাল খুঁজে নেন হাভার্টজ।

ওই দুজনের যুগলবন্দীতে ৭৮তম মিনিটে এগিয়ে যেতে পারত জার্মানি। কিন্তু এবার ভিয়েৎসের ক্রসে হাভার্টজের হেড ঝাঁপিয়ে ঠেকান প্যারাগুয়ে গোলরক্ষক।

নির্ধারিত সময়ের বাকিটায় আর উল্লেখযোগ্য কিছু করতে পারেনি জার্মানি। প্যারাগুয়েও পরিষ্কার সুযোগ তৈরি করতে পারেনি।

অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো ম্যাচের ১০২তম মিনিটে নাথানিয়েল ব্রাউনের কর্নারে হেডে প্যারাগুয়ের জালে বল পাঠান টাহ। কিন্তু ভিএআরে সাহায্যে মনিটরে দেখে গোল দেননি রেফারি। টাহর হেডের আগে জার্মানির ভালদেমার আন্তন বাধা দিয়েছিলেন গোলরক্ষক ওর্লান্দো হিলকে।

১১৯তম মিনিটে ব্রাউনের আরেকটি কর্নারে ভালদেমার হেড ঠেকান হিল। শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে তিনিই হয়ে উঠলেন দলের অবিশ্বাস্য এক জয়ের নায়ক।

কোয়ার্টার-ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ফ্রান্স অথবা সুইডেনের বিপক্ষে খেলবে প্যারাগুয়ে। 

বাংলাদেশের খবর/আরইউ

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন