Logo

খেলা

ইতিহাসের দ্বৈরথে ফের মুখোমুখি আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড, বিশ্বকাপে কে এগিয়ে?

Icon

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ১৫:০৯

ইতিহাসের দ্বৈরথে ফের মুখোমুখি আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড, বিশ্বকাপে কে এগিয়ে?

ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাগুলোর একটি আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের লড়াই। এই দুই দলের প্রতিটি মুখোমুখি লড়াই-ই জন্ম দিয়েছে নতুন গল্প, বিতর্ক কিংবা স্মরণীয় মুহূর্তের। দিয়েগো ম্যারাডোনার কিংবদন্তিতুল্য ‘হ্যান্ড অব গড’ থেকে শুরু করে ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’, মাইকেল ওয়েনের দুর্দান্ত একক গোল কিংবা ডেভিড বেকহ্যামের পেনাল্টি—বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচ মানেই ইতিহাসের নতুন পৃষ্ঠা।

আগামী বুধবার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আবারও মুখোমুখি হচ্ছে ফুটবল বিশ্বের দুই পরাশক্তি। এটি হবে বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের পঞ্চম মুখোমুখি লড়াই। ফলে পুরোনো হিসাব-নিকাশের সঙ্গে যোগ হচ্ছে নতুন এক অধ্যায়।

বিশ্বকাপে দুই দলের প্রথম দেখা হয়েছিল ১৯৬২ সালের গ্রুপ পর্বে। সেই ম্যাচে ৩-১ গোলে জয় পেয়েছিল ইংল্যান্ড। এরপর ১৯৬৬ সালের কোয়ার্টার ফাইনালেও ১-০ ব্যবধানে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছিল ইংলিশরা।

তবে ১৯৮৬ সালের কোয়ার্টার ফাইনাল বদলে দেয় এই প্রতিদ্বন্দ্বিতার রূপ। মেক্সিকো বিশ্বকাপের সেই ম্যাচে ২-১ ব্যবধানে জয় পায় আর্জেন্টিনা। ম্যাচটি ইতিহাসে অমর হয়ে আছে দিয়েগো ম্যারাডোনার দুটি বিপরীতধর্মী অথচ কিংবদন্তি মুহূর্তের জন্য—একটি বিতর্কিত ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল, অন্যটি ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ নামে খ্যাত অবিশ্বাস্য একক প্রচেষ্টার গোল।

১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচও ছিল নাটকীয়তায় ভরপুর। নির্ধারিত সময় ২-২ সমতায় শেষ হওয়ার পর টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় আর্জেন্টিনা। সেই ম্যাচে মাইকেল ওয়েনের অসাধারণ গোল যেমন আলোচনায় ছিল, তেমনি ডেভিড বেকহ্যামের লাল কার্ডও ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল।

এরপর ২০০২ সালের বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে আবারও ইংল্যান্ডের হাসি। ডেভিড বেকহ্যামের পেনাল্টি গোলে ১-০ ব্যবধানে জয় পায় ইংলিশরা।

বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত দুই দলের লড়াইয়ের পরিসংখ্যান বলছে, ফলাফলের বিচারে এগিয়ে ইংল্যান্ড। পাঁচটি মুখোমুখি ম্যাচের মধ্যে ইংল্যান্ড জিতেছে তিনটি, আর্জেন্টিনা নির্ধারিত সময়ে জিতেছে একটি এবং একটি ম্যাচ টাইব্রেকারে নিজেদের করে নিয়েছে আলবিসেলেস্তেরা।

তবে নকআউট পর্বের সবচেয়ে স্মরণীয় দুই লড়াই—১৯৮৬ ও ১৯৯৮—দুটিতেই শেষ হাসি হেসেছে আর্জেন্টিনা। বিশেষ করে ম্যারাডোনার অনন্য নৈপুণ্যে রাঙানো ১৯৮৬ সালের ম্যাচটি আজও বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়।

এবারের সেমিফাইনাল তাই শুধুই ফাইনালে ওঠার লড়াই নয়। এটি বিশ্বকাপের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী প্রতিদ্বন্দ্বিতার আরেকটি রোমাঞ্চকর অধ্যায়, যেখানে ইতিহাস, আবেগ ও শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই এক সুতোয় গাঁথা থাকবে।

বাংলাদেশেরখবর/আরকে

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন