মাঠের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ডকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার ঐতিহাসিক মুহূর্তটিকে ফুটবল রাজপুত্র ডিয়েগো ম্যারাডোনার উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করলেন লিওনেল মেসি। গত বুধবার আটলান্টায় অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালে ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পরও দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ইংল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে হারায় আলবিসেলেস্তেরা।
ম্যাচের দুটি গোলের পেছনেই সরাসরি অবদান রাখা ৩৯ বছর বয়সী অধিনায়ক মেসি ম্যাচ শেষে জানান, এই জয়টি ওপারে থাকা ম্যারাডোনার জন্য তাদের একটি বিশেষ ‘উপহার’।
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই ম্যারাডোনার সঙ্গে
প্রতিনিয়ত তুলনায় আসা মেসি নিজের বিনম্র অবস্থান ধরে রেখে বলেন, "ডিয়েগো সত্যিই
অনন্য ও মহান ছিলেন। আমি কখনোই তার সঙ্গে নিজের তুলনা করতে চাইনি; আমার কাছে তিনিই
সর্বকালের সেরা। ২০১০ বিশ্বকাপে তার কোচিংয়ে আমরা দারুণ কিছু মুহূর্ত কাটিয়েছিলাম।
আজ তিনি যেখানেই থাকুন না কেন, আমাদের এই সাফল্যে নিশ্চিতভাবেই আনন্দ মেতেছেন। জাতীয়
দল তার কাছে কী ছিল এবং তিনি যে ঐতিহ্য রেখে গেছেন, তা মাথায় রেখেই বলছি—এই জয়টি ডিয়েগোর
জন্য আমাদের উপহার।"
উল্লেখ্য, ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে ম্যারাডোনার
সেই বিখ্যাত ‘হ্যান্ড অব গড’
ও ‘শতাব্দীর সেরা
গোল’-এর ওপর ভর করেই ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল আর্জেন্টিনা। ঠিক ৪০ বছর পর একই
ব্যবধানে একই প্রতিপক্ষকে সেমিফাইনালে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট কাটল মেসির দল।
দুই দেশের মধ্যকার ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক
বৈরিতার কারণে এই ম্যাচটি আর্জেন্টিনার মানুষের কাছে কতটা সংবেদনশীল ছিল, তাও অকপটে
স্বীকার করেন মেসি। তিনি বলেন, "এটি কেবল একটি ফুটবল ম্যাচ ছিল না, জাতীয় সঙ্গীত
বাজার সময় থেকেই আমরা এক বিশেষ অনুভূতি টের পাচ্ছিলাম। সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি
হওয়া এবং টানা দ্বিতীয়বার ফাইনালে ওঠার এই জয়টি সমর্থকরা অন্য যেকোনো ম্যাচের চেয়ে
বেশি করে চেয়েছিলেন। কোনো আর্জেন্টাইনই এই ম্যাচে হারতে প্রস্তুত ছিল না। দেশের মানুষের
মুখে এই বিশেষ আনন্দ ফুটিয়ে তুলতে পেরে আমি অত্যন্ত গর্বিত।"
কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে ৩৬ বছরের
খরা কাটিয়ে বিশ্বসেরা করার পর ২০২৬ বিশ্বকাপেও অতিমানবীয় ফর্মে আছেন ইন্টার মায়ামির
এই ফরোয়ার্ড। এই টুর্নামেন্টের মধ্য দিয়ে তিনি ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসের সর্বকালের
সর্বোচ্চ গোলদাতা (২১টি) এবং সর্বোচ্চ অ্যাসিস্ট প্রদানকারী (১৩টি) খেলোয়াড় হিসেবে
নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন।
নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে মেসি বলেন, "আমি
গত এক বছর ধরে নিজেকে এই আসরের জন্য তৈরি করেছি। এখনই এটি আমার শেষ বিশ্বকাপ কি না,
তা নিয়ে ভাবছি না। এই দলটির লড়াই করার মানসিকতা অসাধারণ। গোল খাওয়ার পরও মাথা ঠান্ডা
রেখে আমরা যেভাবে ইংল্যান্ডকে তাদের অর্ধে চেপে ধরে নির্ধারিত সময়েই ম্যাচ জিতেছি,
তা দলের চরিত্র ও দৃঢ়তা প্রমাণ করে।"
আগামী রোববার নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে
স্বপ্নের ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। স্পেনের বর্তমান স্কোয়াডে মেসির
সাবেক ক্লাব বার্সেলোনার ৮ জন খেলোয়াড় রয়েছেন, যা ম্যাচটিকে মেসির কাছে আরও বিশেষ করে
তুলেছে।
ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে প্রশংসায় ভাসিয়ে
মেসি বলেন, "স্পেন অসাধারণ এক দল, যাদের ফুটবল দর্শন দীর্ঘদিনের। তাদের দলে অনেক
প্রতিভাবান খেলোয়াড় রয়েছে, যাদের অনেকেই আমার ভালোবাসার ক্লাব বার্সেলোনায় খেলে। আমি
তাদের খেলা নিয়মিত দেখি। একটি বিশ্বকাপের ফাইনাল হিসেবে ম্যাচটি অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ
ও আকর্ষণীয় হবে বলেই আমার বিশ্বাস।"
বাংলাদেশের খবর/এম.আর

