বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা-র সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনোকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থাগুলোর পর এবার উত্তর আমেরিকা, মধ্য আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের ফুটবল কনফেডারেশন ‘কনকাকাফ’ -এর বেশ কয়েকটি সদস্য দেশ ইনফান্তিনোর ওপর থেকে তাদের আনুষ্ঠানিক সমর্থন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে।
ইনফান্তিনোর পুনর্নির্বাচন ক্যাম্পেইনের
সমর্থনে কনকাকাফ-এর ৪১টি সদস্য দেশের সবকটিই শুরুতে চিঠি জমা দিয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক
নানা বিতর্ক ও ফিফার পরিচালনা পদ্ধতি নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হওয়ায় অধিকাংশ দেশ এখন সেই
সমর্থন ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে গুরুত্বের সঙ্গে ভাবনাচিন্তা করছে।
ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে এই বিদ্রোহের সূচনা
করে ইউরোপীয় দেশ ফিনল্যান্ড, যারা প্রথম সদস্য দেশ হিসেবে প্রকাশ্যে তাদের দেওয়া সমর্থনের
চিঠি প্রত্যাহার করে নেয়। পরবর্তীতে ওয়েলসের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনও একই পথ অনুসরণ করে।
এছাড়া ইংল্যান্ডের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনও ফিফাকে চিঠি দিয়ে ইনফান্তিনোর প্রতি তাদের অনাস্থা
প্রকাশ করেছে বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে কনকাকাফ একটি জরুরি সভার আয়োজন
করে।
বৈঠকে উপস্থিত একটি সূত্রে জানা গেছে,
ইউয়েফা যেভাবে ইনফান্তিনোর পদত্যাগের জন্য চাপ সৃষ্টি করছে, কনকাকাফের অধিকাংশ সদস্য
দেশই সেই অবস্থানের সঙ্গে একমত। এমনকি কয়েকটি দেশ ইতিপূর্বে গোপন চিঠির মাধ্যমে ইনফান্তিনোর
ওপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে নিয়েছে বলেও গুঞ্জন রয়েছে।
তবে কনকাকাফের জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া
পুরোপুরি সহজ নয়। ২০৩১ সালের নারী ফুটবল বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজনের দৌড়ে রয়েছে কনকাকাফ
অঞ্চলের চার দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো, কোস্টারিকা এবং জ্যামাইকা। আগামী নভেম্বরে
ফিফার বিশেষ সাধারণ সভায় এই আয়োজক স্বত্ব চূড়ান্ত হওয়ার কথা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবল ফেডারেশন ইনফান্তিনোর
ওপর চরম অসন্তুষ্ট হলেও, সাবেক ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে ইনফান্তিনোর সম্পর্ক কেন্দ্রিক
রাজনৈতিক ইস্যু এবং ফোলারিন বালোগান সংক্রান্ত বিতর্কের কারণে তারা এই মুহূর্তে ফিফা
সভাপতির সঙ্গে সরাসরি সংঘাত এড়াতে চাইছে।
অন্যদিকে, কনকাকাফের বর্তমান সভাপতি ভিক্টর
মন্টাগলিয়ানিকে ইনফান্তিনোর সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ভাবা হলেও, কানাডিয়ান
এই সংগঠক এখনও নির্বাচনে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেননি। তিনি আপাতত নিজ কনফেডারেশনের নির্বাচন
নিয়েই ব্যস্ত থাকতে চান বলে জানিয়েছেন।
এদিকে, এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন বা এএফসির
পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। ইউয়েফার কিছু প্রস্তাবের বিরোধী হলেও এএফসির ৪৭টি সদস্য দেশের
অবস্থান এখন কিছুটা বিভক্ত। মধ্যপ্রাচ্যের ধনী ও প্রভাবশালী দেশ কাতার এবং সংযুক্ত
আরব আমিরাত (ইউএই) প্রকাশ্যে ইনফান্তিনোর পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে।
এছাড়া শ্রীলঙ্কা, লেবানন, কুয়েত ও ভুটানের
মতো অপেক্ষাকৃত ছোট দেশগুলোও তাকে সমর্থনের ইঙ্গিত দিয়েছে। সৌদি আরবসহ বেশিরভাগ এশীয়
দেশ এখনও পর্যন্ত নিরব ভূমিকা পালন করছে।
আগামী বছরের মার্চে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া
ফিফা সভাপতি নির্বাচনে বিদ্রোহীরা সত্যিই ইনফান্তিনোকে ক্ষমতাচ্যুত করার মতো পর্যাপ্ত
ভোট জড়ো করতে পারবে কি না, তা নিয়ে এখনও প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে। তবে বিশ্ব ফুটবলে ইনফান্তিনোর
রাজত্ব যে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে—তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
বাংলাদেশের খবর/ এম.আর

