Logo

খেলা

সেঞ্চুরিটা বাবা-মায়ের জন্য দিতে চাই: তানজিদ

Icon

ক্রীড়া প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৬, ২০:৫৭

সেঞ্চুরিটা বাবা-মায়ের জন্য দিতে চাই: তানজিদ

অস্ট্রেলিয়ার তীব্র বোলিং আক্রমণের বিরুদ্ধে তাদেরই মাটিতে টেস্ট সেঞ্চুরি করা যেকোনো ব্যাটারের জন্যই স্বপ্নের মতো। আর সেই স্বপ্নটি যখন বাস্তব রূপ নেয় ক্যারিয়ারের মাত্র দ্বিতীয় টেস্টে, তখন অনুভূতিটা অন্যরকম উচ্চতায় পৌঁছে যায়।

ডারউইনে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক ১০১ রানের মহাকাব্যিক ইনিংস খেলে ডারউইন টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন বাংলাদেশের তরুণ ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। নিজের এই স্পেশাল ও ঐতিহাসিক অর্জনটি তিনি উৎসর্গ করেছেন তার বাবা-মাকে।

শুক্রবার ডারউইনের মারারা ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ১৯৭ বলে ১০১ রানের দৃষ্টিনন্দন ইনিংস উপহার দিয়ে মাঠ ছাড়েন তানজিদ। তার এই সেঞ্চুরি এবং অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর ৮৪ রানের ওপর ভর করে প্রথম ইনিংসে অজিদের ১৯৯ রানে গুটিয়ে দেওয়া বাংলাদেশ দ্বিতীয় দিন শেষে ৩৫১/৬ রান তুলে ১৫৩ রানের বিশাল লিড অর্জন করেছে।

দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে ২৪ বছর বয়সী এই বাঁহাতি ওপেনার বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, আজ দল হিসেবে আমরা খুব ভালো একটা দিন পার করেছি। দিনের শুরুতে আমাদের মূল পরিকল্পনা ছিল প্রথম সেশনটা কীভাবে উইকেট না হারিয়ে পার করা যায়। কারণ অজি বোলাররা কন্ডিশনের পূর্ণ সুবিধা নিয়ে দারুণ বোলিং করছিল। আমাদের চেষ্টা ছিল বাড়তি কোনো ঝুঁকি না নিয়ে সাধারণ ক্রিকেটটা খেলা। ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টেস্টেই অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এসে সেঞ্চুরি করতে পেরে সত্যিই খুব ভালো লাগছে।

প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক, জশ হ্যাজলউড ও নাথান লায়নের মতো বিশ্বসেরা বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে তানজিদের ব্যাটিংয়ের ধরণ ছিল অত্যন্ত পরিপক্ক ও সংযমী। বিশ্বের বাঘা বাঘা বোলারদের নাম দেখে আতঙ্কিত না হয়ে তিনি নজর দিয়েছিলেন বলের লাইনে। বোলারদের সামলানোর কৌশল সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তানজিদ স্পষ্ট ভাষায় জানান, আমি কোনো নির্দিষ্ট বোলার দেখে খেলিনি। আমার মাথায় ছিল শুধু বলের মেরিট। বলের মান অনুযায়ী খেলার চেষ্টা করেছি—যে বল ছাড়ার সেটা ছেড়েছি, আর বাজে বল পেলে কাজে লাগিয়েছি।

প্রথমবার টেস্ট ক্রিকেটে তিন অঙ্কের স্পর্শ, তা-ও আবার অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে—এই বিরল ও বিশেষ অর্জন কার জন্য? তানজিদ মৃদু হেসে উত্তর দেন, যেহেতু আমার ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি এবং এটি খুবই স্পেশাল, তাই আমি এই সেঞ্চুরিটি আমার বাবা-মায়ের জন্য উৎসর্গ করতে চাই। তাদের দোয়ায় আজ আমি এখানে।

সেঞ্চুরি পূর্ণ করার পর ডারউইনের গ্যালারিতে উপস্থিত হাজারো অজি ও প্রবাসী বাংলাদেশি দর্শক দাঁড়িয়ে তানজিদকে করতালি দিয়ে অভিবাদন জানান। প্রতিপক্ষের গ্যালারি থেকে এমন সম্মান ও উষ্ণ ভালোবাসা পেয়ে মুগ্ধ এই তরুণ। সে অভিজ্ঞতার স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, সেঞ্চুরি করার পর ডারউইনের গ্যালারি থেকে অজি দর্শকদের যে সম্মান ও অভিবাদন পেয়েছি, তা আমাকে গভীরভাবে ছুঁয়ে গেছে। আমার কাছে মনে হয়েছে, প্রতিপক্ষের মাঠ থেকে এমন ভালোবাসা পাওয়াই বোধহয় টেস্ট ক্রিকেটের আসল সৌন্দর্য। আজ মাঠে আমি সেই সৌন্দর্য মন থেকে অনুভব করেছি।

তানজিদের এই ঐতিহাসিক সেঞ্চুরি ও পরিপক্ক মানসিকতা কেবল সংবাদ সম্মেলনেই নয়, ডারউইন টেস্টে সফরকারী বাংলাদেশকে এক ঐতিহাসিক বিজয়ের নতুন স্বপ্ন দেখাচ্ছে।

 

বাংলাদেশের খবর/ এম.আর

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন