• রবিবার, ১৪ আগস্ট ২০২২, ৩০ শ্রাবণ ১৪২৯
সংকটে মানবতার দৃষ্টান্ত চট্টগ্রামবাসীর

সংগৃহীত ছবি

মহানগর

সংকটে মানবতার দৃষ্টান্ত চট্টগ্রামবাসীর

  • চট্টগ্রাম ব্যুরো
  • প্রকাশিত ০৭ জুন ২০২২

দফায় দফায় বিস্ফোরণ। দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে থাকে বিএম ডিপোর আগুন। প্রাণ বাঁচাতে ছোটাছুটি করতে থাকে মানুষ। ভেসে আসতে থাকে দগ্ধদের আর্তনাদ। একে একে সংকটাপন্নদের উদ্ধার করে নেয়া হয় নগরীর বিভিন্ন হাসপাতালে।

সেখানে দেখা দেয় নতুন সংকট। রক্ত দিতে হবে। কিন্তু মিলছে না কাঙ্ক্ষিত গ্রুপের ডোনার। এ অবস্থায় সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। তাদের মধ্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যাই ছিল বেশি।

শিক্ষার্থীদের রক্তদানের সুবিধার জন্য এগিয়ে আসে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও। রক্ত দিতে আগ্রহীদের পরিবহনে দেয়া হয় বাস। সেই বাসে সবাই নগরীর বিভিন্ন হাসপাতালে রক্ত দেয়ার জন্য ছুটে যান। শুধু তা-ই নয়, যারা বাসে যেতে পারেননি তারা পুলিশভ্যান কিংবা ট্রাকে করে সেখানে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন।

রক্তদানের জন্য রাতেই বিভিন্ন গ্রুপে পোস্ট দেন শিক্ষার্থীরা। নিজ নিজ ফেসবুক প্রোফাইল থেকে পোস্ট দেন শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকও। ফলে জিরো পয়েন্টে জমায়েত বাড়তে থাকে।

আরবি বিভাগের শিক্ষার্থী এস এম জাইফ আহমেদ বলেন, ‘রাত দেড়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রুপে একটা পোস্ট দেখলাম। যারা রক্ত দিতে চমেক যেতে চান জিরো পয়েন্টে আসুন।’

‘এদিন সকালে আমাদের পরীক্ষা ছিল। একজনের সঙ্গে পরামর্শ করলাম কী করা যায়? তিনি বললেন, আগে মানুষ বাঁচাই, পরে পরীক্ষা। আমরা ভেবেছিলাম এত রাতে রক্ত দিতে কজনইবা আসবে। কিন্তু জিরো পয়েন্টে গিয়ে অবাক হয়ে গেলাম। শত শত শিক্ষার্থী চারদিক থেকে এসে মুহূর্তেই জড়ো হয়ে গেল।’

যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী নুর নবী রবিন বলেন, ‘রক্তের জন্য আহ্বান করার সাথে সাথে জিরো পয়েন্টে আমরা শতাধিক শিক্ষার্থী জমায়েত হই। শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কোনো বাস পাইনি। এমন অবস্থায় কেবল নেগেটিভ ব্লাড ডোনারদের নিয়ে ট্রাকে করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যাই।’

বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী তামজিদ অভি বলেন, ‘আমি শহর থেকেই গিয়েছিলাম। আমার রক্ত এবি নেগেটিভ, যেটা খুব রেয়ার ছিল। ভিড়ের মধ্যে এবি নেগেটিভের জন্য অনেকেই ডাকাডাকি করছিল। রেয়ার রক্ত হওয়ায় আমারটা ইনস্ট্যান্ট নিয়ে ফেলছিল।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর রবিউল হাসান ভুঁইয়া বলেন, ‘আমরা অনেক লোকজন আহত হয়েছে শুনেছিলাম। শিক্ষার্থীরা মানবিক ডাকে এগিয়ে এসেছে। আমরাও চেষ্টা করেছি তাদের পাশে থাকতে। আমাদের ড্রাইভারদের ফোন করলে তারাও দেরি না করে সঙ্গে সঙ্গে চলে এসেছে। সবার মধ্যে মানবিক এই দিক দেখে আমি নিজেও অভিভূত। এ ছাড়া অ্যাম্বুলেন্সও গেছে।’

চবি শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি হাসপাতাল-ক্লিনিকে ছুটে যান শহরের বাসিন্দারা। তাদের একজন আবির আহসান। বেটার ফিউচার বাংলাদেশ নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্য তিনি। তিনি বলেন, ‘আমি সঙ্গে সঙ্গে গিয়ে রক্ত দিই। এর পর থেকে আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে আহত রোগীদের জন্য কাজ শুরু করি। সারা রাত কাজ করে সকালে ফিরেছি। বিকেলে আবার কিছু নগদ অর্থ ও ওষুধ নিয়ে যাই।’

পার্কভিউ হাসপাতালে ছুটে যান মাইনুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘দেড়টার দিকে গিয়ে দেখি সিচুয়েশন অনেক খারাপ। তখন স্টকে রক্ত ছিল না। আমি সঙ্গে সঙ্গে দিয়ে দিয়েছি।’ রোগী ও স্বজনদের সেবায় এগিয়ে এসেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীরাও।

রোববার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ হাসিনা হলের ছাত্রীদের দেখা গেছে খাবার নিয়ে হাসপাতালে ছোটাছুটি করতে। হলে তাদের কেউ রান্না করছেন, কেউ সেগুলো বাক্সে গুছিয়ে দিচ্ছেন। অন্যরা সেসব নিয়ে হাসপাতালে ঘুরে ঘুরে রোগী ও স্বজনদের হাতে তুলে দিচ্ছেন।

শেখ হাসিনা হলে থাকেন ফার্মেসি বিভাগের আয়েশা আক্তার। তিনি বলেন, ‘আয়োজনটি শেখ হাসিনা হলের উদ্যোগে করা। প্রক্টর স্যার আমাদের যাতায়াতের জন্য পরিবহন দিয়ে সাহায্য করেছেন। এছাড়া ফার্মেসি বিভাগের মোয়াজ্জেম স্যার সাহায্য করেছেন।’

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads