• বৃহস্পতিবার, ৬ মে ২০২১, ২৩ বৈশাখ ১৪২৮
বোয়ালিয়া ট্রেইল

সংগৃহীত ছবি

ভ্রমণ

বোয়ালিয়া ট্রেইল

  • প্রকাশিত ৩০ এপ্রিল ২০২১

সীতাকুণ্ডের অনেকগুলো ট্রেইলের মধ্যে বোয়ালিয়া ট্রেইলকে বলা হয়ে থাকে রহস্যময় সুন্দর ট্রেইল। কেন বলা হয় জানা না গেলেও বুঝলাম, কারণ যেখানেই মনে করি শেষ সেখানেই দেখি আরেকটা পথের শুরু।

এই ট্রেইলে আছে তিনটি বহুল পরিচিত ঝরনাসহ অসংখ্য ছোট ঝরনা। ট্রেইলের প্রথম শুরুতে আসে বোয়ালিয়া ঝরনা। দুটি পাহাড়ের মাঝে গলা পরিমাণ পানি পার হয়েই ঝরনাটি, যদিও পাহাড়ের ওপর দিয়েও যাওয়া যায়। ট্রেইলের সবচেয়ে বড় ঝরনা এটি। তাই ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি, আসার সময় সবার শেষে এই ঝরনায় যাওয়াটাই ভালো। এরপর ঝিরিপথ ধরে এগোলে কিছু দূর পরেই আসে পালাকাটাখুম ঝরনা। অন্যগুলোর তুলনায় ছোট হলেও ঝরনাটির ওপরেও একটি গিরিখাদের মতো পথ আছে। সময়ের কারণে ঐ পথ ধরে বেশি দূর যাওয়া হয়নি। এরপর বের হয়ে আবার ঝিরিপথ ধরে হাঁটা শুরু করলাম। যত হাঁটি পথ শেষ হয় না। অনেকগুলো ঝিরিপথ বিভিন্ন দিকে চলে যায়। তাই পথ হারানোর আশঙ্কা, তার ওপর পুরো পথটাই পাথুরে আর শেওলায় ভরা পিচ্ছিল। তাই যতটা সম্ভব সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়। প্রায় ঘণ্টাখানেক হাঁটার পর পৌঁছালাম বাইশ্যা ছড়ায়। পানি একটু কম ছিল, তবুও অনেক সুন্দর এই ছড়া। ওপরের দিকেও আছে আরো একটি ঝিরিপথ। সময় এবং শক্তির কারণে আর সামনে এগুনো হয়নি। এতগুলো ঝিরিপথের মাঝে হারিয়ে যাওয়ার ভয়ের কারণে হয়তো এই ট্রেইলকে রহস্যময় বলা হয় আর প্রতিটি ঝরনা দেখার মতো তাই সুন্দর।

যাতায়াত ও খরচাপাতি : ঢাকা অথবা চট্টগ্রামের যে-কোনো জায়গা হতে প্রথমে মিরসরাই বাজার যেতে হবে। মিরসরাই বাজার থেকে একটু ভেতরে মিরসরাই বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সামনে থেকে লোকাল সিএনজি আছে জনপ্রতি ১৫ টাকা করে। এটি রেললাইন পার করে একটি মসজিদের আগে উত্তর আমিয়াবাদ ব্র্যাক পোলট্রির সামনে নামিয়ে দেবে। ঐখানে দুটি ছোট হোটেল পাবেন। সেখানে চাইলে দুপুরের খাবারের অর্ডার করে যেতে পারবেন। তবে খাবারের মান ততটা ভালো না হওয়ায় আমার পরামর্শ থাকবে মিরসরাই বাজারে গিয়ে খাওয়ার। ঐখান থেকে বামে একটি মাটির রাস্তা ধরেই ট্রেইলের পথে হাঁটবেন। শুরুতেই পাবেন রক্তকুমারী নামের একটি মন্দির। যদি ট্রেইল ভ্রমণের অভিজ্ঞতা কম থাকে তবে অবশ্যই গাইড নেবেন, ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা নিতে পারে। অবশ্যই দরদাম করে নেবেন। সাথে কিছু শুকনো খাবার এবং পানি নিতে ভুলবেন না।

সবশেষে সৌন্দর্য অবলোকনের অধিকার সবার; কিন্তু নষ্ট করার অধিকার কারো নেই। তাই যাত্রাপথে কোনোরকম আবর্জনা ফেলা থেকে বিরত থাকুন অথবা সাথে একটি ব্যাগ রাখুন যাতে আবর্জনা ও অপচনশীল জিনিসগুলো নিয়ে আসতে পারেন।

লেখক: মোস্তফা সামাদ 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads