• বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৮ আশ্বিন ১৪২৭
তিতাস নদীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ দর্শনার্থীরা

ছবি: বাংলাদেশের খবর

ভ্রমণ

তিতাস নদীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ দর্শনার্থীরা

  • কাজী মফিকুল ইসলাম, আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)
  • প্রকাশিত ২২ আগস্ট ২০২১

বৈরি আবহাওয়া, এই রোদ এই বৃষ্টি, চারদিকে পানি থৈ থৈ করছে। নদীর পাড়ে দক্ষিণা হাওয়া আর নির্ভেজাল বাতাসে যেন প্রাণ জুড়িয়ে যায়। ছোটে বড় সব বয়সের লোকজন করছে আনন্দ, হৈহুল্লর। মনে হয় যেন এটি কোনো এক সুমদ্র সৈকত। পরন্ত বিকালে অপূর্ব মায়াভরা সবুজ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে দর্শনার্থীদেরকে মুগ্ধ করে তুলছে। দর্শনীয় স্থানটি ঢাকা-টচ্রগ্রাম-আখাউড়া-সিলেট রেলপথের আখাউড়া রেলওয়ে জংশন থেকে প্রায় ১ কিলোমিটার পশ্চিমে। তিতাস নদীর পাড়ে দ্বিতীয় তিতাস রেলওয়ে সেতু নির্মাণ হওয়ায় ফলে দর্শনার্থীদের কাছে এই স্থানটির গুরুত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সেতু থেকে অল্প দূরেই রয়েছে হয়রত শাহপীর কল্লা শহীদ (রহ) মাজার শরীফ।

সেতুর দু’পাশে বর্ষার পানি থৈ থৈ করায় তিতাসের নৈসর্গিক রূপে মানুষের টান থাকে যেন সব সময়। প্রতিদিন তিতাস পাড়ে পরন্ত বিকালে থাকে মানুষের ভিড়। এই সুন্দর মূহুর্তগুলো অনেকেই ক্যামেরা বন্দি করে রাখে।

স্থানীয়রা বলছেন, বর্তমানে এই স্থানটি দিন দিন ভ্রমণ পিপাসীদের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। প্রতিদিন বিকালে মুক্ত হাওয়ায় আড্ডা দিতে দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড় থাকছে। ঈদসহ বিশেষ বিশেষ দিনে দর্শনার্থীদের সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়ে যায়।

সরেজমিনে তিতাস পাড়ে গিয়ে দেখা যায়, ভ্রমণ পিপাসুদের উপচেপড়া ভিড়। তারা মাতিয়ে তুলেছেন পুরো এলাকা। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো থাকায় ব্যক্তিগত গাড়ি, সিএনজি চালিত অটো রিকশা, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন করে আখাউড়া, বিজয়নগর, কসবা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শনার্থীরা এখানে আসছেন। দর্শনার্থীদেকে কেন্দ্র করে এখানে বিভিন্ন দোকানপাট ও গড়ে উঠেছে। কেউ স্ত্রী-পুত্র নিয়ে, কেউ বা এসেছেন পরিবারের সদস্য নিয়ে,আবার কেউ বন্ধু বান্ধব, আত্মীয় স্বজন নিয়ে এখানে বেড়াতে আসেন। বিকাল থেকেই তরুণ তরুণীদের আড্ডা গান বাজনায় মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। আর এই আনন্দঘন সময়কে ধরে রাখতে অনেকেই মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সেলফি তুলতে দেখা যায়। কেউ কেউ তিতাস নদীতে নৌকা দিয়ে মনের আনন্দে ঘুরছেন। বিনোদন প্রেমিরা লোকজন এভাবেই বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত সময় কাটায় এভাবেই।

পৌর শহরের দুর্গাপুর এলাকা থেকে ঘুরতে এসেছেন মো. সাব্বির হোসেন। তিনি বাংলাদেশের খবরকে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতির কারণে প্রায় ১ বছর পর তিনি শ^শুর বাড়িতে এসেছেন। তাই স্ত্রী, পুত্র,আর মেয়েসহ চারজন এখানে ঘুরতে এসেছেন। পরিবারের সদস্যরা এক প্রকার যেন ঘরবন্দি হয়ে ছিল। তাই মনকে আনন্দ দিতে মূলত এখানে ছুটে আসা। তিতাস পাড়ে পড়ন্ত বিকালে মুক্ত বাতাস আর নয়নাভিরাম দৃশ্য দেখে খুবই ভালো লাগছে।

কলেজপাড়া এলাকার মো. ইলিয়াস হোসেন বলেন, তিনি ঢাকায় একটি বেসরকারি ব্যাংকে কর্মরত আছেন। সাপ্তাহিক বন্ধ থাকায় নিজ বাড়িতে এসেছেন। চাকরি করায় বেশীরভাগ সময় তার বাইরে থাকতে হয়। তাই বাড়িতে এসে পরিবারের সদস্যদেরকে নিয়ে তিনি তিতাস পাড়ে এসেছেন। নৌকা দিয়ে তাদের ঘোরাঘুরি করে সবাই বেশ আনন্দ করেছেন বলে বলে জানায়।

গৃহিনী আসমা আক্তার বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে এক প্রকার তিনি যেন গৃহবন্দি। গত ২ দিন আগে তার ছোট বোন মেয়ে নিয়ে তার বাড়িতে এসেছেন। তাই বিকালে তিতাস পাড়ে বেড়াতে আসা।

আজমপুর এলাকার মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, তিনি দীর্ঘ বছর পর দেশে এসেছেন। বর্তমান পরিস্থিতির কারণে ইচ্ছা থাকলেও কোথাও কোন যাওয়ার সুযোগ নেই। তাই পরন্ত বিকালে স্ত্রী, ছেলে ও মেয়েকে নিয়ে সবুজ প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ নিয়ে আসা। তিতাস পাড়ে দাঁড়িয়ে সূর্যাস্ত দেখা ও নদীতে নৌকা দিয়ে ঘুরতে খুবই ভালো লেগেছে।

স্বস্ত্রীককে নিয়ে ঘুরতে এসেছেন ব্যবসায়ী শেখ মো. কিবরিয়া হাসান। তিনি বলেন, যে ব্যবসায় আছে ইচ্ছে করলে দূরে কোথাও বেড়ানো সম্ভব হয় না। তিতাস সেতু সংলগ্ন এলাকায় এখন বিনোদন বঞ্চিত মানুষের একটা আনন্দের স্থান হয়েছে। তাই মুক্ত হাওয়ায় বসে থেকে মনটাকে সতেজ করতে মূলত আমরা এখানে এসেছি।

সদর উপজেলার কোড্ডা এলাকার কলেজ ছাত্র মো. তাজবির আহমেদ, মো. সোহেল মিয়া এবং মো. তামান্না ইসলাম বাংলাদেশের খবরকে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতির কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। ইচ্ছা থাকলেও বাড়ি থেকে কোথাও বের হতে পারি না। তাই বন্ধুদের নিয়ে এখানে চলে আসা। মুক্ত বাতাস, নদীতে পানির ঢেউ, নৌকা চড়া সত্যিই খুবই ভালো লাগেছে।

সদর উপজেলার বাসুদেব ইউনিয়নের মহসিন মিয়া বলেন, সারাদিন কাজকর্মে ক্লান্ত হয়ে থাকতে হয়। আর করোনা পরিস্থিতিতে কোথাও বেড়াতে যেতে পারি নাই। তাই বুক ভরে নি:শ্বাস ফেলতে পরন্ত বিকালে এখানে আসা।

বিজয়নগরের চম্পকনগর থেকে আসা প্রবাসী মো. আলমগীর হোসেন বাংলাদেশের খবরকে বলেন, গত ৩ মাস আগে তার বিয়ে হয়েছে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতির কারণে স্ত্রীকে নিয়ে কোথাও বেড়াতে যাওয়া হয়নি। তাই স্ত্রী নিয়ে তিতাস পাড়ে ঘুরতে আসা। তবে এখানে বিকালের পরিবেশটা খুবই ভালো লেগেছে। নৌকা চড়া আর ঘোরাঘুরি খুবই আনন্দ লেগেছে। এ স্থানটির মনোরম দৃশ্য যে কারোরই ভাল লাগবে।
পৌর শহরের রাধানগর এলাকার মো. জুনাইদ হাসান বলেন, সারাদিন কাজকর্মে ক্লান্ত হয়ে থাকতে হয়। তাই বুকভরে নিঃশ^াস ফেলতে বিকালে সময় পেলে তিতাস পাড়ে চলে আসি। মুক্ত বাতাস, তিতাস পাড়ের সৌন্দর্যে মনকে সতেজ করে।

বিজয়নগরের ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর মিয়া বাংলাদেশের খবরকে বলেন, লোকমুখে শুনেছি এখন তিতাস নদীতে পানি থৈ থৈ করছে। তাই স্ত্রী, ছেলে, মেয়েকে নিয়ে সবুজ প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে এখানে আসা। তিতাস পাড়ে দাড়িয়ে সুর্যাস্ত দেখা ও নদীতে নৌকা দিয়ে ঘুরা ঘুরি ও ছবি তোলা খুবই ভালো লেগেছে বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads