• বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮, ৩০ কার্তিক ১৪২৫
ads
চামড়া খাতে খেলাপি ঋণ বাড়ছে

খেলাপি ঋন বাড়ছে চামড়া খাতে

সংগৃহীত ছবি

ব্যাংক

চামড়া খাতে খেলাপি ঋণ বাড়ছে

  • সাইদ আরমান
  • প্রকাশিত ২০ আগস্ট ২০১৮

দেশে-বিদেশে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের বাজার বড় হলেও এ খাতের ব্যবসায়ীদের দেওয়া ঋণ নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছে ব্যাংক খাতে। ব্যাংকাররা বলছেন, চামড়াজাত পণ্য রফতানিতে নগদ সহায়তাসহ বেশ কিছু সরকারি সুযোগ নিয়ে ভালো ব্যবসা করলেও ঋণ পরিশোধে অনীহা চামড়া ব্যবসায়ীদের। ইচ্ছাকৃতভাবে ঋণ পরিশোধ করেন না এ খাতের ব্যবসায়ীরা।

অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী মোহম্মদ শামস-উল ইসলাম বাংলাদেশের খবরকে টেলিফোনে বলেন, দেশের ব্যাংক খাতের বড় সমস্যা খেলাপি ঋণ সংস্কৃতি। এটি শুধু যে চামড়া খাতে তা নয়। আমরা চেষ্টা করছি বকেয়া ঋণগুলো আদায় করতে। একই সঙ্গে নতুন ঋণ অনুমোদন করার ক্ষেত্রে এবার সতর্কতার সঙ্গে এবং যাচাই-বাছাই করে দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন বলছে, ব্যাংক থেকে চামড়া খাতে বিতরণ করা ঋণের মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশই খেলাপি হয়ে গেছে। এ খাতে তাদের বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ২ হাজার ৬৫০ কোটি টাকা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব বলছে, খেলাপি ঋণের ভারে জর্জরিত চামড়া খাত। এরই মধ্যে চলতি ঈদেও কোরবানির পশু চামড়া সংগ্রহে ৬০০ কোটি টাকা জোগান দিয়েছে ব্যাংকগুলো। গত বছর চামড়া সংগ্রহে ঋণ দেওয়া হয় ৫২৬ কোটি টাকা। এবার জনতা ব্যাংক ২১০ কোটি টাকা, রূপালী ব্যাংক ১৭৫ কোটি টাকা, সোনালী ৭৬ কোটি টাকা এবং অগ্রণী ১৪৫ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, অর্থের জোগান নেই।

বেশ কয়েক বছর ধরে কাঁচা চামড়ার দর নামিয়ে আনছেন ব্যবসায়ীরা। ঈদে চামড়ার সরবরাহ বেশি থাকায় যুক্তি তুলে এই সুযোগ নিচ্ছেন তারা। নিজেদের টাকায় একসঙ্গে এত চামড়া কেনা কষ্টসাধ্য দেখিয়ে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে স্বল্প সময়ের জন্য ঋণ নিচ্ছেন চামড়া ব্যবসায়ীরা।

ব্যাংক সূত্র বলছে, এক সময় বেসিক ব্যাংক ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক চামড়া খাতে ঋণ দিয়েছে। তারা এখন এই ব্যবসায়ীদের ঋণ দিচ্ছে না। এখন ঋণ দিচ্ছে সোনালী, জনতা, রূপালী ও অগ্রণী ব্যাংক। নানা অব্যবস্থাপনা, অতিমাত্রায় ঋণ বিতরণ, ঋণের অর্থ ব্যবহারে অনিয়ম, যাচাই-বাছাই না করে ঋণ বিতরণ এবং ট্যানারি শিল্প স্থানান্তরকে কেন্দ্র করে এই পরিস্থিতি হয়েছে।

বাংলাদেশ ট্যানার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহীন আহমেদ বাংলাদেশের খবরকে বলেন, সরকার একগুচ্ছ সুবিধা দিচ্ছে সেটি ঢালাওভাবে বলা যাবে না। ট্যানারি শিল্প সরিয়ে নিতে গিয়ে পুরো খাত হুমকির মুখে পড়েছে। সরকার নির্ধারিত সময়ে সেটি আমাদের প্রস্তুত করে দিতে পারেনি। ফলে আমাদের নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

তিনি বলেন, এ খাতে কিছু পুরনো ঋণ খেলাপি। নতুন ঋণের ক্ষেত্রে বেশ সতর্ক ব্যাংক। আমরাও ঋণের অর্থ ব্যবহারে সতর্ক। তবে কিছু ট্যানারি আধুনিকায়ন করতে গিয়ে লোকসান হয়েছে আমাদের। তবে আমরা ইচ্ছাকৃতভাবে খেলাপি এটি বলা ঠিক নয়।

অপরদিকে বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার গুডস ফুটওয়্যার অ্যান্ড ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ মাহিন বলেন, সমস্যার কারণে গত বছর আমাদের রফতানি প্রবৃদ্ধি নেতিবাচক হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজার আমাদের অনুকূলে নেই। তাই ব্যাংকের দায় অনেকে পরিশোধ করতে পারছেন না।

রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক গত ৬ বছরে চামড়া শিল্পে ঋণ বিতরণ করেছে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৭৩৩ কোটি টাকা গেছে কোরবানির চামড়া কিনতে, যার ৫৮৩ কোটি টাকা খেলাপি। এ বছর আরো ৭৬ কোটি ঋণ দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। রূপালী ব্যাংক চামড়া শিল্পে ঋণ বিতরণ করেছে ৭৯৩ কোটি টাকা। খেলাপি ৬৩৫ কোটি টাকা। জনতা ব্যাংক চামড়া শিল্পে ১ হাজার ২১৫ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে। এর মধ্যে খেলাপি ৮১৬ কোটি টাকা। অগ্রণী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৪৫০ কোটি টাকা। খেলাপি ঋণের ১৫৬ কোটি টাকা বেসিক ব্যাংক ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের।

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads