• বৃহস্পতিবার, ২২ নভেম্বর ২০১৮, ৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
ads
বাড্ডায় প্রিমিয়ার ব্যাংকের ২৩ লাখ টাকা লুট

বাড্ডায় প্রিমিয়ার ব্যাংকের ২৩ লাখ টাকা লুট করেছে এক সন্ত্রাসী

প্রতীকী ছবি

ব্যাংক

বাড্ডায় প্রিমিয়ার ব্যাংকের ২৩ লাখ টাকা লুট

একজন অস্ত্রধারী কীভাবে ব্যাংকের সবাইকে জিম্মি করল তা নিয়ে ধোঁয়াশা

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ২৫ আগস্ট ২০১৮

রাজধানীর বাড্ডায় প্রিমিয়ার ব্যাংকের একটি শাখায় অস্ত্র ঠেকিয়ে ক্যাশ কাউন্টার থেকে ২৩ লাখ টাকা লুটের ঘটনার কোনো কূল-কিনারা হয়নি। ঈদের আগে শেষ অফিসের দিন গত সোমবার মাত্র একজন অস্ত্রধারী কীভাবে ব্যাংকের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে জিম্মি করে এত টাকা নিয়ে গেল, তা নিয়ে সন্দেহ কাটছে না। ব্যাংক কর্তৃপক্ষের দাবি, অস্ত্রধারী যাওয়ার সময় ব্যাংকের সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষিত রাখার ডিভিআর যন্ত্রটিও নিয়ে গেছে। পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, এককভাবে এমন একটি ঘটনা ঘটানো কঠিন। ঘটনার সঙ্গে ব্যাংকের কোনো কর্মকর্তা জড়িত আছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার বাড্ডার লিংক রোডের গ/৮২ ও ৯০/১ হোল্ডিংসে একটি বহুতল ভবনের নীচতলায় প্রিমিয়ার ব্যাংকের শাখায় বিকাল ৪টার দিকে এক অস্ত্রধারী ব্যাংকের ম্যানেজার ফজলুল হককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে। এরপর ব্যাংকের সব স্টাফকে ভল্ট রুমে ঢুকিয়ে ক্যাশ কাউন্টার থেকে ২৩ লাখ টাকা নিয়ে যায়। ঘটনার এক দিন পর মঙ্গলবার রাতে প্রিমিয়ার ব্যাংকের জেনারেল সার্ভিস ডিভিশনের সিনিয়র অফিসার রাহাত আলম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা একজনকে আসামি করে বাড্ডা থানায় মামলা দায়ের করেন।  মামলাটির তদন্ত করছেন বাড্ডা থানার এসআই হানিফ আলী। গতকাল এই তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন,  মামলার কোনো অগ্রগতি নেই। কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। ঘটনার সময় উপস্থিত নিরাপত্তারক্ষীকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

তবে ঘটনাটি থানা পুলিশের পাশাপাশি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ছায়া তদন্ত করছে। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) মশিউর রহমান বলেন, ‘মাত্র একজন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী সবাইকে জিম্মি করে কীভাবে টাকা নিয়ে গেল তা একটু সন্দেহজনক। ব্যাংকের সিসিটিভি ফুটেজও পাওয়া যায়নি। ঘটনার সময় বাইরের কোনো গ্রাহকও ছিল না। এসব বিষয় মাথায় রেখেই বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।

পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, ঘটনার সময় ব্যাংকের ভেতরে ছয়জন কর্মকর্তা ও একজন নিরাপত্তারক্ষী উপস্থিত ছিলেন। ওই সময় মাত্র একজন ব্যক্তি একটি অস্ত্র নিয়ে ব্যাংকের ভেতরে ঢুকে সবাইকে জিম্মি করে ফেলে এবং ২৩ লাখ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়। এ সময় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি কেন বাধা দেয়নি আর একজন ব্যক্তির বিপরীতে কেন বাকিরা প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারলো না, তা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। এই ঘটনায় ব্যাংকের কারো সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ব্যাংক কর্মকর্তাদের ভাষ্য, ঘটনার দিন বিকাল ৪টার দিকে একজন অস্ত্রধারী লোক ব্যাংকের ভেতরে ঢোকে। এরপর সে সোজা কাচঘেরা ব্যাংক ম্যানেজারের কক্ষে যায়। সেখানে ম্যানেজারকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভল্ট রুমে ঢুকতে বলে। সবাই ভল্ট রুমে ঢোকার পর অস্ত্রধারী ওই সন্ত্রাসী ব্যাংকের ক্যাশ কাউন্টার থেকে ২৩ লাখ টাকা নিয়ে চলে যায়। যাওয়ার সময় সে ব্যাংকের ভেতর থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার ভিডিআর খুলে সঙ্গে নিয়ে যায়। অস্ত্রের মুখে কেউই কোনো প্রতিবাদ করতে পারেনি।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, এটা দীর্ঘ পরিকল্পনা ও অনেক বেশি সাহসের বিষয়। কারণ, ব্যাংকের ভেতরে সব সময় অস্ত্রধারী নিজস্ব নিরাপত্তারক্ষী থাকে। এ ছাড়া বিকাল ৪টার দিকে সাধারণত লেনদেন শেষ হওয়ার আগেই মূল দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপরও বাইরে থেকে কীভাবে অস্ত্রধারী ব্যক্তি ভেতরে প্রবেশ করল তা নিয়ে রহস্য সৃষ্টি হয়েছে।

পুলিশের বাড্ডা জোনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার আশরাফুল করিম বলেন, ব্যাংক ভবনের আশপাশের অন্যান্য ভবন ও সড়কের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। ঘটনার সময় ব্যাংকে উপস্থিত থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছ থেকে অস্ত্রধারীর শারীরিক বর্ণনাও নেওয়া হয়েছে। এসব পর্যালোচনা করে অস্ত্রধারীকে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে ঘটনার বিষয়ে ব্যাংকের স্টাফদের আলাদা আলাদাভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads