• রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪
ads
‘সুকুক’ সচল করতে চায় আইডিবি

ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক-আইডিবির প্রেসিডেন্টসহ শীর্ষ পর্যায়ের একটি দল ঢাকায় এসেছে

ব্যাংক

আইডিবির রিজিওনাল হাব

‘সুকুক’ সচল করতে চায় আইডিবি

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে আজ বৈঠক করবে সংস্থাটি

  • সাইদ আরমান
  • প্রকাশিত ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮

দেশের বন্ড মার্কেট দুর্বল। ফলে ব্যাংকগুলো গ্রাহকের কাছ থেকে স্বল্প মেয়াদে আমানত নিয়ে দীর্ঘ মেয়াদে বিনিয়োগ করছে। সম্প্রতি ব্যাংকগুলো গ্রাহক আমানত নিয়ে আগ্রাসী বিনিয়োগ করায় ব্যাংক খাতে চলছে নগদ টাকার টানাটানি। এ অবস্থায় সামনে এসেছে দেশের বন্ড মার্কেট সচল করার বিষয়টি। এমন প্রেক্ষাপটে দেশের বাজারে সচল করতে চায় ইসলামিক বন্ড সুকুক। ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক-আইডিবির প্রেসিডেন্টসহ শীর্ষ পর্যায়ের একটি দল ঢাকায় এসেছে। মূলত ঢাকায় প্রতিষ্ঠানটির রিজিওনাল হ্যাব অফিসের উদ্বোধন করতে তাদের এ সফর। তবে এ সফরে সুকুক সচল করতে তৎপর আইডিবি। জানা গেছে, আইডিবি থেকে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবিরকে। সেখানে আজ সোমবার সকাল ১০টায় বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আইডিবির একটি বৈঠকের কথা জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকেই বৈঠকটি হবে বলে গভর্নর সচিবালয় থেকে জানা গেছে। বৈঠকে আইডিবির ভাইস প্রেসিডেন্ট জমির ইকবাল এক পক্ষের নেতৃত্বে দেবেন।

ফজলে কবিরকে দেওয়া চিঠিতে বৈঠকের ইচ্ছার কথা জানিয়ে আইডিবি বলছে, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ইসলামিক বন্ড সুকুক জনপ্রিয়। কিন্তু বাংলাদেশে এটি সচল নয়। বিষয়টি নিয়ে আইডিবি আলোচনা করতে চায়।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাপী ইসলামিক বন্ড ‘সুকুক’ খুবই জনপ্রিয়। কিন্তু আটটি পূর্ণ ইসলামিক ব্যাংক এবং ১৭টি ব্যাংকে ইসলামিক ব্যাংকিং উইন্ডো থাকলেও বাংলাদেশে এখনো সুকুক চালু হয়নি। তবে ভিন্ন নামে ইসলামিক বন্ড চালু থাকলেও তাতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না গ্রাহকরা। বিশ্বে ইসলামিক বন্ড সুকুক সবচেয়ে জনপ্রিয় সৌদি আরবে। দেশটি ইসলামিক বন্ড সুকুকের মোট শেয়ারের প্রায় ৩৯ শতাংশ তাদের দখলে। দ্বিতীয় অবস্থানে মালয়েশিয়া। দেশটির উন্নয়নে বড় ভূমিকা রেখেছে সুকুক বন্ড।

২০১৮ সালের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বের ইসলামিক বন্ড সুকুকের প্রায় ৩৩ শতাংশ মালয়েশিয়ার শেয়ার। এরপরে রয়েছে ইন্দোনেশিয়া, কাতার, ওমান, তুরস্ক, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, পাকিস্তান, হংকং, নাইজেরিয়া, ব্রুনাই, জর্ডান। বাংলাদেশের অবস্থান ১৪ নম্বরে। মাত্র দশমিক শূন্য পাঁচ শতাংশ ইসলামিক বন্ডের শেয়ার আছে দেশটির। আবার বৃহৎ মুসলিম দেশ হওয়া সত্ত্বেও ইসলামিক ব্যাংকিংয়ের অধিকাংশ পরিমাপের পেছনের সারিতে রয়েছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং রিফর্ম উপদেষ্টা এস কে সুর চৌধুরী বলেন, ইসলামিক ব্যাংকিং এখন বাংলাদেশের মূল ধারার ব্যাংকিংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে গেছে। বর্তমানে আটটি ইসলামিক ব্যাংক গ্রাহকদের সেবা দিচ্ছে। একই সঙ্গে সাধারণ ব্যাংকিংয়ের ১৭টি উইন্ডো ইসলামিক ব্যাংকিং-সংক্রান্ত সেবা দিচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ইসলামিক ব্যাংকিংয়ের প্রসারে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে, যাতে আগামীদিনে টেকসই আর্থিক ব্যবস্থাপনা তৈরি হয়।

তিনি বলেন, সারা বিশ্বব্যাপী সুকুক বন্ড খুবই জনপ্রিয়। কিন্তু বাংলাদেশে পিছিয়ে পড়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একটি প্রতিনিধিদল বিভিন্ন দেশ ঘুরে কীভাবে চালু করলে এ বন্ডটি জনপ্রিয় হবে, তা খতিয়ে দেখছে। ব্যাংক খাতের মোট শেয়ারের ২২ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে ইসলামী ব্যাংকগুলো। এ অবস্থায় ইসলামিক ব্যাংকিংয়ে ঝুঁকি কমাতে প্রডাক্টের বৈচিত্র্য আনা প্রয়োজন।

গত জুলাই মাসের শেষ দিকে চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথমার্ধের মুদ্রানীতি ঘোষণা করতে গিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির সাংবাদিকদের বলেন, দেশের ব্যাংক খাতে নগদ টাকার টানাটানি চলছে মূলত স্বল্প মেয়াদে আমানত নিয়ে ব্যাংকগুলো দীর্ঘ মেয়াদে বিনিয়োগ করেছে বলে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক, ব্যাংকের মালিক এবং সরকারের নানা পদক্ষেপে সেই সঙ্কট আর নেই। তবে এ পরিস্থিতি অব্যাহত রাখতে চাইলে আমাদের বন্ড মার্কেটের দিকে মনোযোগ দিতে হবে। বন্ড মার্কেটের উন্নতি করতে হবে।

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads