• মঙ্গলবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৩ আশ্বিন ১৪২৫
ads
আইনি সুরক্ষা পরীক্ষা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

লোগো বাংলাদেশ ব্যাংক

সংরক্ষিত ছবি

ব্যাংক

ইউসিবির এমডির পদত্যাগ

আইনি সুরক্ষা পরীক্ষা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

  • সাইদ আরমান
  • প্রকাশিত ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮

ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীর পদত্যাগে অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত রোববার ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান রুকমীলা জামান ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী এ ই আবদুল মুহাইমেনের পদত্যাগের সংবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকে চিঠি পাঠিয়েছেন। প্রাথমিকভাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অভিমত, আবদুল মুহাইমেন আইনি সুরক্ষা পাননি। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবিরকে দেওয়া চিঠিতে ইউসিবির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান রুকমীলা জামান জানিয়েছেন, গত ২৭ আগস্ট ব্যাংকের এমডি ও সিইও এ ই আবদুল মুহাইমেন পদত্যাগ করেছেন। পরিচালনা পর্ষদ একই দিন এক সভায় সর্বসম্মতিক্রমে তা গ্রহণ করেছে। রুকমীলা জামান ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর স্ত্রী।

রুকমীলা জামানের দেওয়া চিঠি, পর্ষদ সভার সিদ্ধান্তের কপি এবং এ ই মুহাইমেনের জমা দেওয়া পদত্যাগপত্র গভর্নর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে পাঠিয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগে। বিভাগ ইউসিবি চেয়ারম্যানের পাঠানো নথি পর্যালোচনা করতে শুরু করেছে। তবে সংশ্লিষ্ট দুজন কর্মকর্তা বাংলাদেশের খবরকে গতকাল মঙ্গলবার জানিয়েছেন, আইনি সুরক্ষা পাননি ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের এমডি ও সিইও।

তারা জানান, একটি ব্যাংকের এমডি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সর্বোচ্চ পদ। এই পদে নিয়োগ, চাকরিচ্যুতি, পদত্যাগ এবং অবসর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিধি মোতাবেক পরিচালিত হয়। তবে এখানে তা পরিপালন হয়নি। যদিও এমডি নিজেই পদত্যাগ করেছেন। তফসিলি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী নিযুক্তি ও দায়-দায়িত্ব সম্পর্কিত বিধি-বিধান উল্লেখ করে ২০১৩ সালে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি নির্দেশনা জারি করে। ২০১৪ সালে ওই বিধি-বিধানে কিছু সংশোধন এনে পুনরায় নির্দেশনাটি জারি করা হয়।

বিধান অনুযায়ী, প্রধান নির্বাহী নিযুক্তির বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে এবং ওইরূপে নিযুক্ত প্রধান নির্বাহীকে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন ব্যতীত তার পদ হতে বরখাস্ত, অব্যাহতি প্রদান বা অপসারণ করা যাবে না। তবে নিয়োগ চুক্তির মেয়াদপূর্তির পূর্বে প্রধান নির্বাহী চুক্তি বাতিল করতে চাইলে বা স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করতে চাইলে পদত্যাগের প্রকৃত কারণ উল্লেখপূর্বক কমপক্ষে এক মাস পূর্বে এ সংক্রান্ত নোটিশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানের নিকট দাখিল করবেন এবং একই সময়ে উক্ত নোটিশের অনুলিপি বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রেরণ করবেন।

একইভাবে নিয়োগ চুক্তির মেয়াদপূর্তির পূর্বে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ চুক্তি বাতিল করতে চাইলে বা প্রধান নির্বাহীকে পদত্যাগের নির্দেশ প্রদান করলে তার কারণ উল্লেখপূর্বক প্রধান নির্বাহীকে কমপক্ষে এক মাসের নোটিশ প্রদান করতে হবে এবং একই সময়ে উক্ত নোটিশের অনুলিপি বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রেরণপূর্বক তাকে অপসারণের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন গ্রহণ করতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন ব্যতীত নিয়োগ চুক্তি বাতিল কিংবা প্রধান নির্বাহীকে পদত্যাগে বাধ্য করা যাবে না।

প্রধান নির্বাহীর স্বেচ্ছায় পদত্যাগ বা মেয়াদান্তে, কিংবা অন্য কোনো কারণে উক্ত পদ শূন্য হলে ব্যাংক তাৎক্ষণিকভাবে শূন্য পদে প্রধান নির্বাহী পদের অব্যবহিত নিচের পদ হতে কোনো যোগ্য কর্মকর্তাকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী হিসেবে সর্বোচ্চ ৩ মাস নিয়োজিত করে উক্ত কর্মকর্তার বিবরণসহ বাংলাদেশ ব্যাংককে অবহিত করবে।

তবে বাংলাদেশ ব্যাংকে ইউসিবির এমডির পদত্যাগপত্রের যে কপি পাঠানো হয়েছে, তাতে দেখা গেছে, ২৭ আগস্ট থেকেই তার পদত্যাগপত্র গৃহীত হয়েছে। আগাম এক মাসের নোটিশ তিনি দেননি। পরের দিন ২৮ আগস্ট থেকে এই কর্মকর্তা আর অফিস করছেন না।

পর্ষদের সঙ্গে বনিবনা হয়নি বলে মুহাইমেন পদত্যাগ করেছেন এমন খবর সংবাদ মাধ্যমে এলেও রুকমীলা জামান বলছেন, ইউসিবির জন্য মুহাইমেনের অবদান আমরা শ্রদ্ধার সঙ্গে মনে রাখব।

এ ই আবদুল মুহাইমেন দায়িত্ব নেওয়ার ১৩ মাসের মাথায় পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। গত বছরের জুলাই থেকে তিন বছরের চুক্তিতে এমডির দায়িত্ব পালন করে আসছেন তিনি। আবদুল মুহাইমেনের পদত্যাগের পরই তাৎক্ষণিকভাবে ভারপ্রাপ্ত এমডির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফ কাদেরিকে। আরিফ কাদেরি ২০১৫ সালের অক্টোবরে প্রিমিয়ার ব্যাংক থেকে ইউসিবির ডিএমডি হিসেবে যোগদান করেন।

পদত্যাগের কারণ জানতে চাইলে এ ই আবদুল মুহাইমেন বলেন, ব্যক্তিগত কারণে পদত্যাগ করেছি। কাজ করতে আর ভালো লাগছিল না। চাপের মুখে তিনি পদত্যাগ করেছেন কি না প্রশ্নে বলেন, কোনো চাপের মুখে নয়। ইউসিবির অবস্থা ভালো। আবদুল মুহাইমেন ১৯৮৬ সালে এএনজেড গ্রিনলেজ ব্যাংকের মাধ্যমে ব্যাংকিং ক্যারিয়ার শুরু করেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেছেন, এমডির পদত্যাগ সংক্রান্ত ইউসিবির চেয়ারম্যানের পাঠানো নথি আমরা পর্যালোচনা করছি। তদন্তে আইনি সুরক্ষা না পাওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি। 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads