• শুক্রবার, ৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
ads
ব্যাংকের মুনাফায় ধস

বাংলাদেশ ব্যাংকের লোগো

ফাইল ছবি

ব্যাংক

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন

ব্যাংকের মুনাফায় ধস

  • সাইদ আরমান
  • প্রকাশিত ২৯ মে ২০১৯

ব্যাংকের আয়ের বড় উৎস হচ্ছে ঋণ। তাই ব্যাংকগুলো আমানত সংগ্রহ করে ঋণ দিয়ে থাকে গ্রাহককে। কিন্তু সেই ঋণ যাচাই-বাছাই না করে দেওয়ার কারণে বাড়ছে ঝুঁকি। ঋণ আদায় করতে পারছে না ব্যাংকগুলো। বাড়ছে খেলাপি ঋণ। তাই কমে গেছে মুনাফা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘ফাইন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি রিপোর্ট-২০১৮-তে এ তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ২০১৮ সালে ব্যাংকিং খাতের নিট মুনাফা ৫৭ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে।

অথচ ২০১৭ সালে ব্যাংকিং খাতে মুনাফা প্রায় ১৫ শতাংশ বাড়ে। বছর ব্যবধানে মুনাফায় বড় ধস এসেছে। মূলত তারল্য সংকট, খেলাপি ঋণসহ সুশাসনের বড় ঘাটতিতে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সম্পদের বিপরীতে আয়ের হার ৪০ বেসিস পয়েন্ট কমে দশমিক ৩ শতাংশে এবং মূলধনের বিপরীতে আয়ের-হার ৬০০ বেসিস পয়েন্ট কমে ৪ দশমিক ৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

এতে বলা হয়, সার্বিকভাবে ব্যাংকিং খাতের তারল্য পরিস্থিতি ২০১৮ সালে তুলনামূলক চাপের মুখে ছিল। বছর শেষে আগাম-আমানত অনুপাত বেড়ে ৭৭ দশমিক ৬ শতাংশে উন্নীত হলেও বাংলাদেশ ব্যাংকের মনিটরি পলিসিতে নির্ধারিত সীমার মধ্যেই ছিল। এ সময়ে কলমানি হারে মিশ্র প্রবণতা পরিলক্ষিত হয় যা ডিসেম্বর ২০১৮-তে দাঁড়ায় ৪ দশমিক ১ শতাংশ। ব্যাংকিং খাতে ২০১৮ সালে মোট শ্রেণিকৃত ঋণের হার ছিল ১০ দশমিক ৩ শতাংশ এবং নিট শ্রেণিকৃত ঋণের (রক্ষিত প্রভিশন সমন্বয়ের পর) হার ২ দশমিক ২ শতাংশ ছিল। বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মোট শ্রেণিকৃত ঋণের হার ৬০ বেসিস পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে ৫ দশমিক ৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

২০১৮ সালে ব্যাংকিং খাতের ঝুঁকি সহনীয় মাত্রায় ছিল। সার্বিক ঝুঁকি পরিমাপক নির্দেশক সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে। ব্যাংকিং খাতের মোট ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের মধ্যে ঋণ ঝুঁকির পরিমাণ ছিল ৮৮ শতাংশ। করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্রেডিট রেটিং অধিকাংশ ক্ষেত্রে স্থিতিশীল ছিল এবং ব্যাংকিং খাতে সুদের হার, মুদ্রা বিনিময় হার, ইক্যুইটি মূল্য এবং তারল্যের ওপর এর অভিঘাত সহনক্ষম ছিল।

গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স হলে ‘ফাইন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি রিপোর্ট-২০১৮ প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে ব্যাংকিং খাতে পুঞ্জীভূত মন্দঋণ কমাতে ব্যাংকারদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশনা দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির। তিনি এ ব্যাপারে সরকারের পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের গৃহীত পদক্ষেপগুলোর বিষয় উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন।

ফজলে কবির দেশের প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রাখতে ঋণ ও আমানতের সুদের হার এক অংকে নামিয়ে আনার জন্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীদের প্রতি আহ্বান জানান। এ ছাড়া ইলেকট্রনিক পেমেন্ট ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীলতা বৃদ্ধির ফলে সাইবার নিরাপত্তা সংক্রান্ত ঝুঁকি বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফজলে কবির বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির অন্যতম হিসেবে আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় বাংলাদেশ বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে অনেক বেশি সম্পৃক্ত। ফলে বিশ্বব্যাপী অর্থ, বাণিজ্য ও রাজনীতিতে সংঘটিত নানা পরিবর্তন আমাদের জন্য বিভিন্ন আশঙ্কার পাশাপাশি সম্ভাবনার সুযোগও তৈরি করছে। তিনি আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশ্ব অর্থনীতির বিভিন্ন পরিবর্তনের গতি-প্রকৃতির প্রতি গভীর মনোযোগী থাকার পরামর্শ প্রদান করেন।

কবির বলেন, বৈশ্বিক শ্লথ প্রবৃদ্ধির হার ও নানামুখী ঝুঁকি সত্ত্বেও নিম্নমুখী মুদ্রাস্ফীতি, রেমিট্যান্স ও রপ্তানি প্রবৃদ্ধি এবং আর্থিক খাত নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রবৃদ্ধি সহায়ক নীতিমালার পাশাপাশি শক্তিশালী রাজস্ব ব্যবস্থাপনার ফলে বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে। তিনি বলেন, ২০১৮ সালে সার্বিকভাবে ব্যাংকিং খাতের মূলধন পর্যাপ্ততা ও তারল্য ন্যূনতম আবশ্যকীয় হারের চেয়ে বেশি ছিল।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদেন বলা হয়, ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতি সার্বিকভাবে স্থিতিশীল ছিল। প্রকৃত  জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৭ দশমিক ৯ শতাংশে উন্নীত হয়েছে, যা আগের অর্থবছরে ছিল ৭ দশমিক ৩ শতাংশ। বিদায়ী বছরে বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভের স্থিতি পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় কিছুটা কমে ৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। আলোচ্য অর্থবছরে রপ্তানি বাণিজ্য এবং ওয়েজ আর্নারস রেমিট্যান্স যথাক্রমে ৬ দশমিক ৪ ও ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ বাড়লেও আমদানি বাণিজ্য ২৫ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে যাওয়ায় চলতি হিসেবের ঘাটতি ৯ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারে (যা জিডিপি’র ৩.৬ শতাংশ) দাঁড়িয়েছে। চলতি হিসাবের ঘাটতি উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় সামগ্রিক ব্যালেন্স অব পেমেন্টে ঋণাত্মক প্রবণতা দেখা দেয়।

২০১৮ সালের সমাপনান্তে ব্যাংকিং খাতের সম্পদ ১১ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ঋণ ও আগাম ১৪ দশমিক ১ শতাংশ এবং আমানত ১০ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। মোট আমানতের মধ্য মেয়াদি আমানতের পরিমাণ অর্ধেকেরও বেশি যা ব্যাংকিং খাতের সামগ্রিক অর্থায়নে স্থিতিশীল উৎস হিসেবে ভূমিকা রেখেছে। ২০১৮ সালে ব্যাংকিং খাতে মূলধন ও ঝুঁকি-ভিত্তিক সম্পদের অনুপাত কিছুটা কমে ১০ দশমিক ৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে যা আবশ্যকীয় ন্যূনতম হার (১০ শতাংশ) অপেক্ষা বেশি।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads