• শুক্রবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৪, ১৩ বৈশাখ ১৪২৯
চৈত্রেই তিস্তায় পানি বৃদ্ধি, ঢেকে গেছে বালু চর

ছবি: বাংলাদেশের খবর

সারা দেশ

চৈত্রেই তিস্তায় পানি বৃদ্ধি, ঢেকে গেছে বালু চর

  • লালমনিরহাট প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ০৪ এপ্রিল ২০২১

চৈত্র মাসেই তিস্তায় পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ৪৮ ঘণ্টায় পানিতে ঢেকে গেছে জেগে উঠা বালু চর। তিস্তা যেন রূপ নিচ্ছে বর্ষাকালের। দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজ অতিক্রম পানি হু হু করে চলে যাচ্ছে ভাটির দিকে। অথচ মাথার উপর চৈত্রের খরতাপ, দেখা নেই বৃষ্টির। কয়েক দিন আগেও তিস্তা নদী ছিল ধু-ধু বালুচর। গত বুধবারেও তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে পানিপ্রবাহ ছিল মাত্র এক হাজার ৮০০ কিউসেক। গত ৪৮ ঘণ্টায় উজানের ঢলে তিস্তায় পানিপ্রবাহ প্রায় ১৫ হাজার কিউসেক। নিমিষেই যেন নদীর পানিতে ঢাকা পড়ে গেছে বালুচর। সেচ ক্যানেলগুলো পানিতে টইটম্বুর। জেলেদের জালে ধরা পড়ছে মাছ। ছুটে চলছে নৌকা।

রোববার সকালে তিস্তায় গিয়ে দেখা যায়, নদীজুড়ে বয়ে চলছে উজান থেকে মেনে আসা পানি প্রবাহ।

এ সময় তিস্তাপাড়ের জেলে মিজান মিয়া বলেন, নদীর পানি কমে যাওয়ায় তেমন মাছ পাওয়া যায়নি। উজানের জোয়ারে নদী এখন পানিতে ভরে গেছে। মাছও পাওয়া যাচ্ছে।

তিস্তা পাড়ের কৃষক আব্দুর রশিদ বলেন, হঠাৎ নদী থেকে স্রোতের শব্দ বাতাসে ভেসে আসে। ছুটে যাই নদীর পাড়ে। দেখা যায় উজান থেকে শো শো শব্দে পানি প্রবেশ করছে। চৈত্র মাসের খরার সময় বর্ষাকালের মতো তিস্তা নদী দেখে খুব ভালো লাগছে।

লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার তিস্তার পানিপ্রবাহ ছিল ৪৯ দশমিক ৭০ মিটার। পরদিন শুক্রবার ১০০ সেন্টিমিটার বেড়ে দাঁড়ায় ৫০ দশমিক ৭০ মিটারে। শনিবার দুপুর পর্যন্ত আরও ৬৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে পানিপ্রবাহ দাঁড়ায় ৫১ দশমিক ৩৫ মিটারে। পাশাপাশি উজানের ঢলে পানি বৃদ্ধি রয়েছে। এতে প্রাণ ফিরে পেয়েছে শুকিয়ে যাওয়া তিস্তা।

তিনি আরও জানান, তিস্তা সেচ প্রকল্প কৃষিক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধন করেছে। প্রকল্পের কমান্ড এরিয়ার ১লাখ ১৬ হাজার হেক্টর জমির তৃণমূল পর্যায়ে সেচের পানি পৌঁছে দিতে ৭৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ সেকেন্ডারি আর টারসিয়ারি সেচ ক্যানেল নির্মাণে একটি বিশেষ প্রকল্প হাতে নিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৪৭৫ কোটি টাকা। প্রকল্পটি একনেকে পাস হলেই সেকেন্ডারি সেচ ক্যানেলগুলোতে করা হবে সিসি লাইনিং আর টারসিয়ারি ক্যানেলগুলোতে দেয়া হবে আরসিসি ঢালাই। এতে পানির অপচয় ছাড়াই দ্রুত পানি পৌঁছে যাবে জমিতে।    

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads