• শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪
ads

সম্পাদকীয়

সৌদিতে হাজীদের দুর্ভোগ

কারণ অনুসন্ধান করে ব্যবস্থা নিন

  • প্রকাশিত ২৮ আগস্ট ২০১৮

এবারের হজ ব্যবস্থাপনায় চরম বিশৃঙ্খলা আর দুর্ভোগের খবর এসেছে সংবাদপত্রে। হজের বিভিন্ন আনুষ্ঠানিক রীতি পালন করতে গিয়ে হাজীরা চরম দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন। পরিবহন সেবা, থাকার তাঁবু এবং খাবারের ব্যবস্থাপনাতেও ছিল চরম ঔদাসীন্য। হজ এজেন্সিগুলোর উদাসীনতার কারণেই হাজীদের এমন দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। অধিকাংশ হাজীর তাঁবুতে এসির ব্যবস্থা ছিল না। আরাফাতের দিন পরিবহন সেবা না পেয়ে বেশিরভাগ বাংলাদেশি হাজীকেই মাইলের পর মাইল হাঁটতে হয়েছে। গরমে ওষ্ঠাগত হয়েছে অনেক হাজীর প্রাণ। আবার অনেক হাজীকে দিনের পর দিন না খেয়েও থাকতে হয়েছে। এমন একটি ধর্মীয় ব্রত পালনে এমন অব্যবস্থাপনা আর দুর্ভোগ কারোই প্রত্যাশা ছিল না।

গত ২৬ আগস্ট দৈনিক বাংলাদেশের খবরে প্রকাশিত সংবাদে জানা যায়, আরাফাতের দিন বাংলাদেশি অনেক হাজী খাবার চাইতে গিয়ে মারধরের শিকার হয়েছেন! অনেক হাজীর ভাগ্যে খাবারও জোটেনি। বাংলাদেশ হজ মেডিকেল সেন্টারের সামনে চিকিৎসা নিতে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও চিকিৎসাসেবা পাননি অনেক হাজী। গাড়ি না পেয়ে আরাফাত ময়দান থেকে মিনায় হেঁটে গিয়ে শয়তানকে লক্ষ্য করে ঢিল ছুড়ে আবার হেঁটেই তাঁবুতে ফিরতে হয়েছে বাংলাদেশি হাজীদের। হজে যাওয়া প্রায় ১ লাখ ২৭ হাজার হাজীর অধিকাংশেরই চরম দুর্ভোগ আর ভোগান্তি নিয়ে হজব্রত পালন করতে হয়েছে।

হাজীরা সৌদি আরবে বিমান থেকে অবতরণের পর সব দায়িত্ব সেখানকার ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের হলেও তারা তাদের দায়িত্ব পালন করেনি যথাযথভাবে। হজ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ ও সৌদি আরব মিলে দুটি অংশে কার্যক্রম পরিচালিত হয়। সৌদি অংশের এমন অবহেলা আর দুর্ভোগের বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি বাংলাদেশ হজ ব্যবস্থাপনা কমিটির মহাসচিব শাহাদাত হোসেন তসলিম। এতে করে বুঝা যায়, বাংলাদেশ ও সৌদির দুটি অংশের কার্যক্রমে যথেষ্ট সমন্বয়হীনতা ও ঔদাসীন্য ছিল। যে কারণে হাজীদের ভাগ্যে এবার দুর্ভোগের ঘটনা ঘটেছে। আবার হজ শেষে ফিরে আসতেও হাজীদের নানা রকমের বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে বলে শোনা যাচ্ছে, যা কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়। হজব্রত পালনে সব নিয়মকানুন মেনে টাকা-পয়সা খরচ করেও যদি হাজীদের এমন দুর্ভোগ পোহাতে হয়, সেটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও মর্মাহত হওয়ার মতো ঘটনা। সৌদি অংশের সেবা কার্যক্রমে কেন এমন বিশৃঙ্খলা হয়েছে, কেন হাজীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে; সে বিষয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্তরা এর কারণ অনুসন্ধান করুন। সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি এবারের ব্যবস্থাপনায় ত্রুটিসমূহ চিহ্নিত করে আগামী বছরের হজ পালন যাতে সুষ্ঠু ও সুন্দর হয় সেজন্য কর্তৃপক্ষ যথাযথ প্রস্তুতি নেবে বলে আমরা প্রত্যাশা করি।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads