• বৃহস্পতিবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
মুন্সীগঞ্জে মাটির নিচে বল্লাল সেনের প্রাসাদ

মুন্সীগঞ্জ সদরের রামপালের বল্লাল বাড়ি খননে প্রত্নতত্ত্ব নিদর্শণের আলামত বেরিয়ে আসছে

ছবি- ইউএনবি

ইতিহাস-ঐতিহ্য

মুন্সীগঞ্জে মাটির নিচে বল্লাল সেনের প্রাসাদ

  • মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ২৩ জানুয়ারি ২০১৯

মুন্সীগঞ্জ সদরের রামপালের বল্লাল বাড়ি এলাকায় প্রত্নতত্ত্ব নিদর্শনের আলামত পাওয়া যাচ্ছে। চীন ও বাংলাদেশের প্রত্নতাত্ত্বিকদের যৌথ উদ্যোগে সোমবার জেলার বিক্রমপুরের বল্লাল সেনের বাড়িতে খননকাজ শুরু হয়। সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে পুরনো ইট, ইটের টুকরো, মৃৎ পাথরের টুকরো ও কাঠ-কয়লা। প্রত্নতাত্ত্বিকদের ধারণা, ওই এলাকাটিই ছিল সেন বংশের রাজা বল্লাল সেনের রাজপ্রাসাদ।

বাংলাদেশের ঐতিহ্য অন্ব্বেষণের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক সুফি মোস্তাফিজুর রহমান ও চীনের অধ্যাপক চাই হোয়াং বো’র নেতৃত্বে বড় একটি দল এই খননকাজে অংশ নিয়েছে।

সুফি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ধারণা করা হচ্ছে বল্লাল বাড়িটিই রাজা বল্লাল সেনের রাজপ্রাসাদ ছিল। এই খননে সেই প্রাচীন নিদর্শন বেরিয়ে আসছে।

তিনি বলেন, রাজা বল্লাল সেন ছিলেন সেন বংশের শেষ রাজা লক্ষ্মণ সেনের বাবা। সেন বংশের রাজধানী ছিল বিক্রমপুর। খননের মধ্য দিয়ে সেন বংশের ইতিহাস ও তৎকালীন বাংলার রাজধানী বিক্রমপুরের ইতিহাস বৈজ্ঞানিকভাবে বের হয়ে আসছে। যা বিক্রমপুর তথা বাংলাদেশের ইতিহাসকে আরো সমৃদ্ধ করবে।

তিনি বলেন, ইট, ইটের টুকরো, মৃৎ পাথরের টুকরো ও  কাঠ-কয়লার মতো খুঁজে পাওয়া এসব নিদর্শন নিয়ে গবেষণা করা হবে। এগুলো থেকে প্রাচীন ইতিহাস খুঁজে পাওয়া যাবে। এ ছাড়া ইতোমধ্যে সন্ধান করে জানা গেছে, বল্লাল সেনের বাড়িটি একটি দুর্গ। দুর্গটি এখনো বর্গাকার। প্রত্যেক বাহুর দৈর্ঘ্য ২৭২ মিটার। দুর্গে চারদিকে যে পরিখা ছিল, তা প্রায় ৬০ মিটার প্রশস্ত।

এই প্রত্নতাত্ত্বিক বলেন, পাল বংশ ৭০০ শতাব্দী থেকে ১২০০ শতাব্দী পর্যন্ত বাংলায় রাজত্ব করেছে। কিন্তু তাদের রাজধানীর সন্ধান পাওয়া যায়নি। তবে বল্লাল সেনের এ বাড়িটি একটি রাজবাড়ি। সোমবার খননকাজ শুরু করার মাধ্যমে সেই চিহ্ন পাওয়া যাচ্ছে। মূল মাটির ২-৩ ফুট নিচে প্রাচীন ইট, ইটের টুকরো, মাটির পাত্রের টুকরো, কাঠ-কয়লা পাওয়া যাচ্ছে। খননকাজ চালিয়ে যেতে পারলে, বল্লাল সেনের রাজ প্রাসাদ, মন্দির, রাস্তাঘাট সবকিছু পাওয়া যাবে। তবে প্রয়োজন সবার সহযোগিতা।

বল্লাল বাড়ির খননের খবর পেয়ে এদিন সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসক সায়লা ফারজানা খননস্থল পরিদের্শন করেন। ছুটে যান অগ্রসর বিক্রমপুরের কর্ণধার ড. নূহ-উল-আলম লেনিন। লেনিন বলেন, প্রায় ৮০০ বছর প্রাচীন বাংলার রাজধানী ছিল এই বিক্রমপুরে। তাই এখানের ইতিহাস অনেক সমৃদ্ধ। কিন্তু কখনো এই রাজধানীর রাজপ্রাসাদের সন্ধান পাওয়া যায়নি। তবে আজকের খননের মধ্য দিয়ে যে সম্ভাবনা লক্ষ করছি, তা আমাদের ইতিহাসকে সমৃদ্ধ করবে।

জেলা প্রশাসক সায়লা ফারজানা বলেন, এই খননে প্রাচীন নিদর্শনের যে সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। এতে বিক্রপুরের ইতিহাস সমৃদ্ধ ছাড়াও প্রত্ননগরী মুন্সীগঞ্জে আরো বেশি আকৃষ্ট করবে পর্যটকদের।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads