• মঙ্গলবার, ২০ নভেম্বর ২০১৮, ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
ads
রাহুলের ‘আমি কংগ্রেস’ টুইটে তোলপাড় দিল্লি

ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি রাহুল গান্ধী

ছবি : ইন্টারনেট

ভারত

রাহুলের ‘আমি কংগ্রেস’ টুইটে তোলপাড় দিল্লি

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত ১৮ জুলাই ২০১৮

ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি রাহুল গান্ধীর ছোট্ট একটা টুইটে দিল্লি তোলপাড়! কংগ্রেস নিজেকে একটি সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর দল বলে দাবি করেছে। এই প্রচার তুঙ্গে নিয়ে গিয়ে রাহুল গান্ধীকে কোণঠাসা করতে চাইছিল বিজেপি। একটি ছোট্ট বাক্যে বিজেপির সেই চেষ্টায় বুধবার পানি ঢেলে দিলেন রাহুল। যাবতীয় বিতর্ক কার্যত ভোঁতা করে দিয়ে টুইটে লিখলেন, ‘আমি লাইনের একেবারে শেষ লোকটির পাশে রয়েছি| আমি শোষিত, নির্যাতিত, প্রান্তিকদের পক্ষে। ওদের ধর্ম, জাতপাত বা বিশ্বাস কী, আমার কাছে তার গুরুত্ব নেই। যারা কষ্টে রয়েছেন, তাদের খুঁজে বুকে টেনে নেই আমি। ঘৃণা, বিদ্বেষ, আতঙ্ক মুছে দিই। সব জীবিত প্রাণকে ভালবাসি। আমি কংগ্রেস।’

বিতর্কের সূত্রপাত দিন কয়েক আগে। মুসলিম বিশিষ্টজনদের একটি সভায় গিয়েছিলেন রাহুল। সেখানে বলেছিলেন, ‘বিজেপি কংগ্রেসকে মুসলমানদের দল বলে প্রচার করতে চাইছে। আমি বলছি, তা হলে তা-ই। মুসলমানরা দুর্বল আর কংগ্রেস দুর্বলের পক্ষে।’ এরপরেই একটি বিজেপি-ঘনিষ্ঠ উর্দু কাগজে লেখা হয়, রাহুল কংগ্রেসকে ‘মুসলমানদের দল’ বলে মেনে নিয়েছেন। হইচই শুরু করে দেয় বিজেপি। কৌশলটি ছিল পরিষ্কার। এক দিকে শশী তারুরের ‘হিন্দু পাকিস্তান’ মন্তব্য আর অন্য দিকে রাহুলের মন্তব্যকে আঁকড়ে ধরে মেরুকরণ তীব্র করে দেওয়া। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে আপাতত এই পথেই যে এগোবে বিজেপি, সেটা কংগ্রেস নেতৃত্বের কাছে স্পষ্ট।

কিন্তু বাদ সাধল রাহুলের এই টুইট। বিশেষ করে ওই শেষ বাক্যটি, ‘আমি কংগ্রেস’। রাহুল বলতে পারতেন, ‘আমি ধর্ম-জাতি-গোষ্ঠী বিচার করি না, কারণ আমি কংগ্রেস।’ কিন্তু তিনি ‘কারণ’ শব্দটিও বাহুল্য মনে করেছেন। অর্থাৎ ভেদবুদ্ধিরহিত উদারতার সঙ্গে কংগ্রেসকে সমার্থক করে দিয়েছেন। জেএনইউ-এর অধ্যাপিকা জোয়া হাসানের মতে, ‘আমি কংগ্রেস, মানে কোনো ব্যক্তিবাদ নয়। কংগ্রেস মানে যে ভারতবর্ষের প্রাচীন দর্শন বসুধৈব কুটুম্বকম, সেটাই মনে করিয়ে দেওয়া।’ কংগ্রেসের মুখপাত্র রণবীর সিংহ সুরজেওয়ালাও বলেন, ‘কংগ্রেস’- শব্দটির মধ্যেই আছে সব ধর্ম সব জাতি সব মানুষের একতার ভাবনা। এটা ঐতিহাসিকভাবেই সত্য। সেই গৌরবকেই পুনরুজ্জীবিত করতে চাইছেন রাহুল। বুঝিয়ে দিচ্ছেন, কংগ্রেস আজও এই দর্শনেই বিশ্বাস করে। অতীতে রামমন্দির শিলান্যাস এবং শাহবানু মামলা, দু’টি পৃথক রাজনীতিকে কেন্দ্র করে রাজীব গান্ধী সমস্যায় পড়েছিলেন। সোনিয়া গান্ধীর ‘মওত কি সওদাগর’ মন্তব্য নিয়েও বিজেপি শোরগোল তুলেছিল। রাহুল তার মোকাবিলায় ভিন্ন কৌশল নিলেন।

বিজেপি এরপরেই তড়িঘড়ি পাল্টা আক্রমণের রাস্তা নেয়। দুপুরের মধ্যেই সম্বিৎ পাত্র সাংবাদ সম্মেলন করে বলেন, ‘রাহুল মূল প্রশ্নটা এড়াচ্ছেন। কংগ্রেস মুসলিমদের দল কি না, এ কথাটির জবাব তাকে দিতে হবে।’

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads