• শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪
ads
ভিড়েছে আরেকটি এলএনজিবাহী জাহাজ

এলএনজিবাহী জাহাজ

সংরক্ষিত ছবি

বাংলাদেশ

ভিড়েছে আরেকটি এলএনজিবাহী জাহাজ

# আজ থেকে ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাবে কেজিডিসিএল # সরবরাহ করা হবে সার ও বিদ্যুৎ কারখানায়

  • শামসুল ইসলাম, চট্টগ্রাম
  • প্রকাশিত ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮

১ লাখ ৩৮ হাজার ঘনমিটার এলএনজি নিয়ে গতকাল রোববার মহেশখালীতে পৌঁছেছে দ্বিতীয় জাহাজ ‘আল ডেভিল’। ওই এলএনজিকে প্রাকৃতিক গ্যাসে রূপান্তরিত করার কাজ শুরু করেছে রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লি. (আরপিজিসিএল)। এদিকে আজ সোমবার থেকে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডকে (কেজিডিসিএল) প্রথমবারের মতো ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করতে যাচ্ছে গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লি. (জিটিসিএল)। কেজিডিসিএল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ গ্যাস সার কারখানা ও বন্ধ বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে সরবরাহের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিজিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. কামরুজ্জামান বাংলাদেশের খবরকে বলেন, এলএনজি নিয়ে দ্বিতীয় জাহাজ ‘আল ডেভিল’ মহেশখালীতে এসে পৌঁছেছে। আমরা জাহাজ থেকে এলএলআরইউতে গ্যাস স্থানান্তর করার কাজ শুরু করেছি। ২৪-২৫ ঘণ্টার মধ্যেই স্থানান্তর শেষ হবে। এর আগে চলতি বছর ২৪ এপ্রিল ১ লাখ ৩৬ হাজার ৯০০ ঘনমিটার এলএনজিবাহী প্রথম জাহাজ ‘এমটি এক্সিলেন্স’ মহেশখালীতে আসে। কিন্তু ওই টার্মিনাল ও সমুদ্র তলদেশের পাইপলাইনের মধ্যকার বিশেষ সংযোগে ত্রুটির কারণে প্রায় সাড়ে তিন মাস বিলম্বিত হয় এলএনজি সরবরাহ। গত ১৮ আগস্ট থেকে চট্টগ্রামে বহুল প্রতীক্ষিত এলএনজি সরবরাহ শুরু করে পেট্রোবাংলা। প্রাথমিকভাবে কেজিডিসিএলকে এ গ্যাস সরবরাহ দেওয়া হলেও সমপরিমাণ গ্যাস কমিয়ে দেওয়া হয় গ্রিড লাইন থেকে।

সূত্র জানায়, দ্বিতীয় জাহাজে আসা এলএনজিকে প্রাকৃতিক গ্যাসে রূপান্তর করে আজ সোমবার সকাল থেকে ট্রান্সমিশন লাইনে সরবরাহ শুরু করা হবে। সকাল ৮টা থেকে আনোয়ারার রাঙাদিয়ায় নির্মিত সিজিএসের (সেন্ট্রাল জেনারেটিং স্টেশন) মাধ্যমে চট্টগ্রামের সরবরাহ লাইনে সংযোগ দেওয়া হবে।

সূত্র জানায়, এলএনজি ট্রান্সমিশন লাইন থেকে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস দেওয়ার সক্ষমতা থাকলেও আজ সোমবার থেকে সর্বোচ্চ ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস চট্টগ্রামের জন্য সরবরাহ করা হবে। আজ থেকে বন্ধ থাকা রাউজান বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুই ইউনিট, শিকলবাহা ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ দুই সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহ দেবে কেজিডিসিএল। 

কেজিডিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী খায়েজ আহমদ মজুমদার জানান, সোমবার সকাল ৮টায় আমাদের লাইনে ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস দেবে জিটিসিএল। প্রাপ্ত গ্যাস সুষ্ঠু বণ্টনের জন্য আমরা প্রস্তুতি নিয়েছি। সার কারখানা কাফকো ও সিইউএফএলকে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। আজ থেকে বন্ধ থাকা বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতেও গ্যাস সরবরাহ দেওয়া হবে।

কেজিডিসিএল সূত্রে জানা গেছে, আবাসিক, বাণিজ্যিক, শিল্প খাত মিলিয়ে চট্টগ্রামে গ্যাসের গ্রাহক রয়েছে ৫ লাখ ৮০ হাজার। এর মধ্যে আবাসিক গ্রাহক ৫ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি। তাছাড়া শিল্পকারখানা আছে ১ হাজার ৫০০। চট্টগ্রামে সিএনজি ফিলিং স্টেশন আছে ৭০টি। শিল্প, বাণিজ্যিক, সার-বিদ্যুৎ ও চা বাগানসহ সব মিলে আরো ৪ হাজার ৯২টি প্রতিষ্ঠান কর্ণফুলী গ্যাসের গ্রাহক। সব মিলিয়ে চট্টগ্রামে প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা থাকে ৪৮০-৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট। কিন্তু ২০১০ সালের ১৯ এপ্রিল যাত্রা শুরুর পর থেকেই চাহিদার অর্ধেক গ্যাস পেয়ে আসছিল কর্ণফুলী গ্যাস।

গ্যাসের অভাবে চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল দেশের শিল্পায়ন। শিল্পোদ্যোক্তাদের অনেকে কোটি কোটি টাকার ক্যাপিটাল মেশিনারিজ এনে গ্যাসের অভাবে কারখানা চালু করতে পারছে না। এ নিয়ে নানামুখী সমালোচনা ও ব্যবসায়ীদের ক্রমাগত চাপে এলএনজি আমদানির প্রক্রিয়া শুরু করে সরকার। ২০১৬ সালে এসে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জি লিমিটেডের সঙ্গে এলএনজি সরবরাহের চুক্তি করে পেট্রোবাংলা। চুক্তির দুই বছরের মাথায় পরিকল্পনা অনুযায়ী মহেশখালীতে এলএনজি মজুত ও পুনরায় গ্যাসে রূপান্তর করার ভাসমান টার্মিনাল অর্থাৎ ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিটস (এফএসআরইউ) সংযোজন করা হয়। ইতোমধ্যে মহেশখালী থেকে চট্টগ্রামের আনোয়ারা পর্যন্ত ৯১ কিলোমিটার দীর্ঘ এলএনজি পাইপলাইন স্থাপন করা হয়েছে। আনোয়ারা থেকে সীতাকুণ্ড পর্যন্ত আরো ৩০ কিলোমিটার পাইপলাইন স্থাপনের কাজ চলছে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads