• বুধবার, ২১ নভেম্বর ২০১৮, ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
ads
মেয়র ইন্দোনেশিয়ায়, প্রক্সি দেওয়া যুবলীগকর্মী জেলে

মেয়র আনিছুর রহমান ও যুবলীগকর্মী নুরে আলম মোল্লা

সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশ

মেয়র ইন্দোনেশিয়ায়, প্রক্সি দেওয়া যুবলীগকর্মী জেলে

  • নিজস্ব প্রতিবেদক ও গাজীপুর প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮

গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আনিছুর রহমান গত শনিবার ৯ দিনের সরকারি সফরে ইন্দোনেশিয়া গেছেন। অথচ এর পরদিন রোববার এক মামলায় ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে কারাগারে যান তিনি! বিষয়টি নিয়ে চাঞ্চল্যের মধ্যে গতকাল সোমবার আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে শ্রীপুর যুবলীগের কর্মী ও মেয়র আনিছুরের আত্মীয় নূরে আলম মোল্লা জানান, মেয়রের অনুপ্রেরণায় তিনি তার বদলে আত্মসমর্পণ করে জামিন চান। কিন্তু আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠান।

ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মিজানুর রহমান খানের আদালতে সোমবার জবানবন্দি দেন নূরে আলম। গত রোববার একই আদালত অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এক মামলায় মেয়র হিসেবে তার জামিন আবেদন প্রত্যাখ্যান করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। জবানবন্দিতে নূরে আলম বলেন, ‘গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার মেয়র ও গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আনিছুর রহমান ইন্দোনেশিয়া যাওয়ার সময় আমাকে বলেন, আমি ইন্দোনেশিয়া যাচ্ছি। তুই আমার মামলার বিষয়ে ব্যবস্থা করিস।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমি মেয়রের মামলার বিষয়ে দেখাশোনা করি। রোববার আদালতে এসেছিলাম মামলার বিষয়ে খোঁজখবর নিতে। মেয়রের অনুপ্রেরণায় আমি তার নামে আত্মসমর্পণ করেছি।’

এ বিষয়ে দুদকের আইনজীবী রুহুল আমিন খান বলেন, ‘ভুয়া মেয়র আনিছুর সেজে রোববার নূরে আলম মোল্লা আত্মসমর্পণ করেন। আদালত তিন মামলায় তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে আমরা জানতে পারি, তিনি শ্রীপুরের মেয়র নন। আজ (সোমবার) আদালতে তিনি এ বিষয়ে জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এ ঘটনায় শ্রীপুরের মেয়র আনিছুর ও তার নিকটাত্মীয় নূরে আলমের নামে মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে।’

মেয়র আনিছুরের আইনজীবী সৈয়দ রেজাউর রহমান বলেন, ‘শ্রীপুর পৌরসভার মেয়র আনিছুর রহমান নামে একজন রোববার চার মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। চার্জশিটের সঙ্গে তার নাম ও পিতার নামে মিল ছিল। আদালত তিন মামলায় জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তিনি সঠিক মেয়র কি না- বিষয়টি কাগজে প্রমাণিত হবে।’

এ বিষয়ে মেয়র আনিছুরের ছোট ভাই মাওনা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মোকলেছুর রহমান বলেন, ‘শনিবার রাতে দক্ষিণ এশিয়ার পল্লী উন্নয়ন বিষয়ক এক সম্মেলনে যোগ দিতে সরকারি সফরে মেয়র আনিছুর রহমান ইন্দোনেশিয়ায় গেছেন। তিনি সেখানে ৯ দিন থাকবেন।’ তিনি আরো বলেন, ‘শ্রীপুরের যুবলীগকর্মী নূরে আলম মোল্লা নামে একজন মেয়রের নামে রোববার ঢাকার আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করেন বলে আমি শুনেছি। হয়তো বা আইনজীবী বলেছেন, মেয়রের নামে একজন দাঁড়িয়ে জামিনের আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করবেন।’ এ বিষয়ে মেয়র কিছু জানেন না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

শ্রীপুর পৌরসভার সচিব বদরুজ্জামান বাদল বলেন, ‘আমার উপস্থিতিতে শনিবার রাত ১১টায় মালিন্দো এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে শ্রীপুর পৌরসভার মেয়র আনিছুর রহমান ৯ দিনের এক সফরে ইন্দোনেশিয়ায় গেছেন।’

গত রোববার দুদকের এক মামলায় মেয়র আনিছুর ও শ্রীপুর পৌরসভার সাবেক হিসাবরক্ষক আবদুল মান্নানকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। চার মামলার মধ্যে একটির অভিযোগ থেকে জানা যায়, পৌরসভার রশিদের মাধ্যমে আদায়কৃত ট্যাক্স ও বিবরণীর ৪৩ লাখ ৭৬ হাজার ১০৭ টাকা পৌরসভার তহবিলে জমা না করে আত্মসাৎ করেন তারা। ওই ঘটনায় ২০১৫ সালের ২১ জানুয়ারি দুদকের উপসহকারী পরিচালক ফখরুল ইসলাম মামলা করেন। ২০১৬ সালের ১২ জুলাই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চার্জশিট দাখিল করেন।

আরেক মামলায় অভিযোগ থেকে জানা গেছে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ২০১০ সালে শ্রীপুর পৌরসভার অন্তর্গত পাঁচটি হাট-বাজার থেকে ৭ লাখ ৩৫ হাজার ২০০ টাকা আত্মসাৎ করেন। ওই ঘটনায় ২০১৪ সালের ১৭ জুলাই দুদকের উপসহকারী পরিচালক ফখরুল ইসলাম মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত করে ২০১৫ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর চার্জশিট দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপসহকারী পরিচালক ইকবাল হোসেন। অপর দুই মামলায়ও তাদের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এনেছে দুদক।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads