• সোমবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৮, ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
ads
পরিবহন জট-সঙ্কটে ভোগান্তি

মাসজুড়ে ঢাকা মহানগরীতে বিশেষ ট্রাফিক সচেতনতা কর্মসূচির প্রথম দিন ছিল গতকাল মঙ্গলবার। এদিন নটর ডেম কলেজের সামনে সড়কের ফুটওভারব্রিজ এড়িয়ে শিক্ষার্থীদের দল বেঁধে সড়ক পার হতে দেখা যায়

ছবি -রাশেদুজ্জামান

যোগাযোগ

ট্রাফিক মাসের শুরুতে কঠোর অবস্থানে পুলিশ

পরিবহন জট-সঙ্কটে ভোগান্তি

  • রানা হানিফ
  • প্রকাশিত ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮

চলতি সেপ্টেম্বরকে ট্রাফিক মাস ঘোষণা করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। ডিএমপির কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়ার এ ঘোষণার পরপরই রাজধানীতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ট্রাফিক পুলিশ। গুরুত্বপূর্ণ সিগন্যাল পয়েন্টগুলোতে যানবাহন আটকে চলছে ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই অভিযান।  ট্রাফিক আইন অমান্যের দায়ে হচ্ছে মামলা। ডিএমপি কমিশনারের ঘোষণার পরপরই রাজধানীর বেশিরভাগ রুটে হিউম্যান হলার (লেগুনা) চলাচলও বন্ধ হয়ে যায়। ট্রাফিক পুলিশের এমন অবস্থানে রাজধানীতে দেখা যাচ্ছে অপ্রত্যাশিত যানজট। দেখা দিয়েছে পরিবহন সঙ্কটও। বিকল্প পরিবহন ব্যবস্থা না থাকায় যাত্রীদের পড়তে হয়েছে চরম ভোগান্তিতে। গতকাল মঙ্গলবার বেশ কিছু পরিকল্পনাসহ মাসব্যাপী ট্রাফিক সচেতনতা কর্মসূচি ঘোষণা করেন ডিএমপি কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া। কর্মসূচির আওতায় রাজধানীতে ১২১টি বাস স্টপেজ নির্ধারণ, গুলিস্তান জিরো পয়েন্ট থেকে জাহাঙ্গীর গেট পর্যন্ত পরীক্ষামূলক স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক ব্যবস্থা চালু, নো হেলমেট নো পেট্রোল, রাজধানীতে লেগুনা ও অনিবন্ধিত রিকশা নিষিদ্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়। ডিএমপি কমিশনারের এ ঘোষণার পরপরই রাজধানীজুড়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে পুলিশ।

গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে বাস, প্রাইভেটকার, মোটরবাইকসহ আইন অমান্যকারী অন্যান্য মোটরযান। কোনো কোনো পয়েন্টে সড়কে ব্যারিকেড ফেলে চলছে এ অভিযান। মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের পশ্চিম প্রান্তে আসাদগেটসংলগ্ন রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে সাত থেকে আটজন ট্রাফিক সার্জেন্ট এ অভিযান পরিচালনা করছেন। এতে নির্ধারিত ট্রাফিক কনস্টেবল ছাড়াও দায়িত্ব পালন করছেন অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য। সড়কটির পশ্চিম পাশে বাস দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠানো-নামানোর দায়ে বেশ কয়েকটি বাসের বিরুদ্ধে মামলা করতে দেখা যায়। একই সময়ে প্রায় অর্ধশত মোটরবাইক আটকে লাইসেন্সসহ অন্যান্য নথি যাচাই করতে দেখা যায়। একই চিত্র ছিল কলেজগেট সিগন্যাল পয়েন্ট, চন্দ্রিমা উদ্যান সড়কের উভয় পাশে, বিজয় সরণি, ফার্মগেট খামারবাড়ি মোড়, কারওয়ান বাজার, শাহবাগ, কাকরাইল মসজিদ সিগন্যাল পয়েন্ট, বিজয়নগর, ফকিরেরপুল ও মতিঝিল শাপলা চত্বর এলাকাতেও।

পুলিশের এমন কঠোর অবস্থানের কারণে আসাদগেট থেকে নিউমার্কেট পর্যন্ত মিরপুর রোড, ফার্মগেট থেকে বাংলামোটর এলাকা, শাহবাগ থেকে সায়েন্স ল্যাব পর্যন্ত সড়কে গতকাল মঙ্গলবার নির্ধারিত সাপ্তাহিক বন্ধের দিনেও সড়কগুলোতে ছিল দীর্ঘ যানজট।

কারওয়ান বাজার-পান্থপথ সিগন্যালে ট্রাফিক পুলিশের অভিযানের কারণে একদিকে গ্রিনরোড-পান্থপথ মোড় থেকে কারওয়ান বাজার পুরো সড়কে, অন্যদিকে ওয়াসা ভবনের সামনে থেকে হোটেল সোনারগাঁও সিগন্যাল পর্যন্ত দীর্ঘ যানজট দেখা যায়। একই অবস্থা ছিল কারওয়ান বাজার থেকে বাংলামোটর, বাংলামোটর থেকে শেরাটন মোড়, কাঁটাবন থেকে শাহবাগ, ধানমন্ডি ৮ নম্বর থেকে ল্যাবএইড সায়েন্স ল্যাব মোড় পর্যন্ত।

প্রতিটি সিগন্যালে মাইকিং করে চালক, পথচারী ও যাত্রীদের সচেতন করতে বিভিন্ন দিকনির্দেশনাও দিতে দেখা যায়। ট্রাফিক পুলিশের অভিযান এড়িয়ে দ্রুত গতিতে পালিয়ে যাওয়া মোটরবাইকগুলোকে আটকাতে পরবর্তী সিগন্যালে দায়িত্বরত কর্মকর্তাকে দ্রুত তথ্য পাঠাতে দেখা যায় বেশ কয়েকজন সার্জেন্টকেও।

এদিকে ঘোষণার পরপরই রাজধানীর বেশিরভাগ রুটে বন্ধ ছিল লেগুনা চলাচল। ফলে বিকল্প পরিবহন ব্যবস্থা না থাকায় এসব রুটের যাত্রীদের পড়তে হয়েছে চরম বিপাকে। মোহাম্মদপুর থেকে মহাখালী, গুলশান-১ হয়ে বাড্ডা লিংক রোড রুটে যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম লেগুনা। এ রুটে লেগুনার বিকল্প বিআরটিসির দ্বিতল বাস সার্ভিস থাকলেও তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। মঙ্গলবার নিরুপায় হয়ে অনেকেই চড়েছেন সিএনজি অটোরিকশায় ও ট্যাক্সি ক্যাবেও। একই অবস্থা ছিল গুলিস্তান থেকে বাসাবো, খিলগাঁও রুটেও। এ রুটে তেমন কোনো বাস চলাচল না থাকায় বিকল্প ভরসা ছিল রিকশা।

ফকিরেরপুল সিগন্যালে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট আশরাফ হেলমেটবিহীন আরোহী নিয়ে আসা মোটরবাইককে থামতে নির্দেশ দিলেও তা পাশ কাটিয়ে দ্রুত গতিতে আরামবাগ মতিঝিলের দিকে চলে যায়। সঙ্গে সঙ্গে তিনি বিষয়টি ওয়্যারলেসের মাধ্যমে পরের সিগান্যালে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের জানিয়ে দেন।

জানতে চাইলে আশরাফ বাংলাদেশের খবরকে বলেন, অনেক চালক হেলমেটবিহীন আরোহী নিয়ে বাইক চালাচ্ছে। প্রতিদিনই আমরা রাস্তায় মাইকিং করে সচেতন করার চেষ্টা করছি। কোনো সিগন্যাল পয়েন্টে কোনো চালক আইন অমান্য করে পালিয়ে গেলে আমরা সামনের সব পয়েন্টের কর্মকর্তাদের তথ্যটি জানিয়ে দিই। এতে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আইন অমান্যকারীকে আটকানো সম্ভব হচ্ছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও গবেষণা) গোবিন্দ চন্দ্র পাল বাংলাদেশের খবরকে বলেন, রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থা সুশৃঙ্খল করতে আমাদের বেশ কিছু পরিকল্পনা রয়েছে। এক দিনেই সব সম্ভব নয়। এর আগে আমরা সাত দিনের ট্রাফিক সপ্তাহ আরো পাঁচ দিন বাড়িয়েছি। ট্রাফিক সপ্তাহ শেষ হলেও পুলিশের কঠোর অবস্থান, চালকদের মধ্যে আইন মেনে চলার প্রবণতা বেড়েছে। এ ধারা অব্যাহত রাখতেই মাসব্যাপী কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

হঠাৎ কঠোর অবস্থানের কারণে যাত্রী ভোগান্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ট্রাফিক পুলিশের কারণে ভোগান্তি বাড়ছে না। পুলিশের কঠোর অবস্থানের কারণে পরিবহন সঙ্কট হওয়ার অর্থ রাস্তায় লাইসেন্সবিহীন, ফিটনেসবিহীন গাড়ি ভয়ে নামছে না। এতে যে ভোগান্তি হচ্ছে, সেটা সাময়িক। কিছু অনিয়ম বন্ধ করতে আমাদের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads