• শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪
ads
নজিরবিহীন যানজটে স্থবির রাজধানী

নজিরবিহীন যানজটে স্থবির ছিল রাজধানী ঢাকা

ছবি সংরক্ষিত ছবি

যোগাযোগ

নজিরবিহীন যানজটে স্থবির রাজধানী

  • রানা হানিফ
  • প্রকাশিত ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮

সেপ্টেম্বরজুড়ে বিশেষ ট্রাফিক কর্মসূচি পালনের ঘোষণার দ্বিতীয় দিন গতকাল বুধবার নজিরবিহীন যানজটে স্থবির হয়ে পড়েছিল রাজধানী ঢাকা। রাজধানী জুড়ে প্রচণ্ড এই যানজটের পেছনে বিশেষ কোনো কারণ খুঁজে পাওয়া যায়নি। অস্বাভাবিক এমন জটে গুরুত্বপূর্ণ অনেক স্থানে ফুটপাত ও সড়ক বিভাজকে অলস সময় পার করতেও দেখা যায় গণপরিবহনের হেলপার-কন্ডাক্টরকে। পরিস্থিতি এমন দাঁড়ায় যে, আধঘণ্টার পথ যেতে লেগেছে তিন-চার ঘণ্টা বা তারচেয়ে বেশি সময়। এভাবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা জটে আটকে থেকে অনেকেই বাধ্য হয়ে তীব্র রোদ ও গরম উপেক্ষা করে হেঁটে ছোটেন গন্তব্যে।

রাজধানীতে গতকাল সকাল ১০টার দিকে শুরু হওয়া যানজট দুপুর ১টা নাগাদ তীব্র আকার ধারণ করে। এ সময় মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের উত্তর পাশের সড়কের অবস্থা ছিল ভয়াবহ। আসাদগেট থেকে ফার্মগেট সিগন্যাল পর্যন্ত ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকতে দেখা যায় হাজারো যানবাহনকে। একই চিত্র ছিল খামারবাড়ী মোড় থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত রোকেয়া সরণির সড়কটিতেও। ভয়াবহ অবস্থা ছিল মিরপুর রোডের প্রায় পুরোটাই। মিরপুর থেকে আসাদগেট আসার পথে দারুস সালাম এলাকাতেই আটকা পড়ে অসংখ্য গাড়ি। দারুস সালাম থেকে শ্যামলী পার হতেই লেগে যায় প্রায় এক ঘণ্টা। এরপর কলেজগেট পর্যন্ত জট কিছুটা কম থাকলেও আসাদগেট আসতেই থমকে যায় গাড়ির চাকা। এ সময় ঢাকার ভিআইপি সড়ক হিসেবে পরিচিত শাহবাগ থেকে জাহাঙ্গীরগেট পর্যন্ত সড়কের উভয় পাশের চিত্রও ছিল অভিন্ন; যার প্রভাব পড়ে বাংলামোটর-মগবাজার, কারওয়ান বাজার-পান্থপথ, মিন্টো রোডের (শেরাটন-কাকরাইল) মতো সংযোগ সড়কগুলোতেও।

এমন যানজটের কারণ হিসেবে ট্রাফিক পুলিশের ‘কঠোর অবস্থানকে’ দায়ী করেন পরিবহন সংশ্লিষ্টরা। মাসব্যাপী ট্রাফিক সচেতনতা কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকালও রাজধানীর সড়কে বিশেষ অভিযান চালিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ। ডিএমপি কমিশনারের ঘোষণা অনুযায়ী এদিনও নগরীর ভেতরে দেখা যায়নি হিউম্যান হলার বা লেগুনা। মোড়ে মোড়ে চলে গণপরিবহনের লাইসেন্স ও ফিটনেস যাচাই। এভাবে সড়কে গাড়ি থামিয়ে লাইসেন্স ও ফিটনেস যাচাইয়ের ফলেই যানজট সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবহন শ্রমিকদের। তবে এ অভিযোগ মানছে না ট্রাফিক বিভাগ।

গতকাল সকাল ৯টায় মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে কারওয়ান বাজারের উদ্দেশে রওনা হন বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের মার্কেটিং এক্সিকিউটিভ মনিরুল ইসলাম। তিনি মোহাম্মদপুর থেকে স্বাধীন পরিবহনের একটি বাসে ওঠেন; টাউন হল যেতেই পড়েন যানজটের কবলে; যা ছিল আসাদগেট পর্যন্ত। এ সড়কের এমন যানজট ‘স্বাভাবিক দিনের মতো’ মনে হলেও আসাদগেট আড়ংয়ের সামনে থেকে ফার্মগেট পর্যন্ত সড়কের চিত্রে হতভম্ব হয়ে যান মনিরুল। বাংলাদেশের খবরকে তিনি বলেন, পহেলা বৈশাখ ছাড়া অন্য কোনো দিন এই সড়কে এমন ভয়াবহ যানজট দেখিনি। এমন যানজট সহজে ছাড়বে না বুঝতে পেরে আগেভাগেই বাস থেকে নেমে হেঁটেই কারওয়ান বাজার চলে এসেছি। পুরো রাস্তা হেঁটে এলেও কোথাও বাস চলতে দেখিনি।

গতকাল দুইবার বাস পাল্টিয়েও এক কিলোমিটার পথ যেতে পারেননি চশমা ব্যবসায়ী রাজু মল্লিক। বাংলাদেশের খবরকে তিনি বলেন, এলিফ্যান্ট রোডে আমার দোকান। ব্যাংকের কাজে মতিঝিলে যেতে সায়েন্সল্যাব থেকে বাসে উঠি। কিন্তু কাঁটাবন সিগন্যালে গাড়ি আধঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকায় নেমে পড়ি। পরে হেঁটে শাহবাগ আসতেই দেখি সিগন্যাল ছেড়ে দিয়েছে। তখন আবার বাসে উঠি। কিন্তু শিশুপার্কের সামনে আসতেই দেখি পুরো রাস্তায় যানজট। এরপর মতিঝিল পর্যন্ত পুরো রাস্তাই হেঁটে গেছি।

ডিএমপি কমিশনারের ঘোষণা অনুযায়ী এদিনও রাজধানীতে হিউম্যান হলার বা লেগুনা চলাচল বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে যাত্রীদের। বিকল্প যানবাহন না থাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ট্যাক্সিক্যাব ও রাইড শেয়ারিংয়ের মতো পরিবহন ব্যবস্থাতেই চড়তে হয়েছে তাদের অনেককে। তবে যানজটের কারণে ভাড়া গুনতে হয়েছে অনেক বেশি।

বিশেষ ট্রাফিক মাসের মধ্যে অপ্রত্যাশিত এমন যানজটের কারণ জানতে চাইলে বাস মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েতুল্লাহ বাংলাদেশের খবরকে বলেন, আজ (গতকাল) ঢাকাতে তেমন কোনো উপলক্ষ নেই যে কারণে বিশেষ কোনো সড়ক বন্ধ থাকবে। আর এজন্য বাকি সড়কে যানজট হবে। ভিআইপিদের চলাচলের কারণে কিছু সময়ের জন্য যানজট হলেও পরে তা স্বাভাবিক হয়ে যায়। কিন্তু মঙ্গলবার ডিএমপি কমিশনারের ঘোষণার পর পরই ঢাকার এমন চিত্র কেন হলো? ট্রাফিক পুলিশ শৃঙ্খলা আনতে গিয়ে তো বিশৃঙ্খলা করে ফেলছে। যেখানে-সেখানে বাস দাঁড় করিয়ে চেকিং চলছে। অযথা বাস দাঁড় করিয়ে রাখায় দীর্ঘ জট তৈরি হচ্ছে। রাজধানীর এমন যানজটের দায় ট্রাফিক পুলিশকেই নিতে হবে।

তবে ট্রাফিক বিভাগের দাবি, কিছু সড়কে সংস্কার ও উন্নয়ন কাজ চলতে থাকায় সব সড়কেই বাড়তি চাপ মনে হচ্ছে। তা ছাড়া রাস্তায় পুলিশের বিশেষ অভিযান চলায় অনেক গণপরিবহন শাস্তি এড়াতে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করছে। এ কারণেও এমনটি ঘটছে। ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও গবেষণা) গোবিন্দ চন্দ্র পাল বাংলাদেশের খবরকে বলেন, অভিযানের কারণে রাজধানীতে যানজট হয়েছে- এমন অভিযোগ সত্য নয়। জনগণের ভোগান্তি ঘটিয়ে রাস্তায় কোনো অভিযান হচ্ছে না। তবে কোন কোন সড়কে কড়াকড়ি চলছে- চালকরা তা জানতে পেরে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করায় এমন অস্বাভাবিক যানজট সৃষ্টি হতে পারে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads