• বৃহস্পতিবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

রাজনীতি

কী মধু যুবদলের সুপার ফাইভে

  • আফজাল বারী
  • প্রকাশিত ২০ অক্টোবর ২০১৯

কী মধু মধ্যরাতে গঠিত যুবদলের সুপার ফাইভে। ২৭১ সদস্যের কমিটি ঘুরপাক খাচ্ছে পঞ্চ নেতার হাতে। আংশিক কমিটিকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে সময় দেওয়া হয়েছিল এক মাস। মাসের স্থলে ২ বছর ৯ মাস চলে। পূর্ণতা মেলেনি বিএনপির এই অঙ্গসংগঠনটির। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে কমিটি দাখিল করতে টালবাহানা করছেন পঞ্চনেতা। কানাকানি আছে, চড়াদামে কমিটি বাণিজ্য আর স্বজনপ্রীতির। এক নেতার এক পদ-কথাটি এই পাঁচ নেতার বেলায় প্রযোজ্য হচ্ছে না। 

এদিকে যুবদলের কমিটিতে স্থান পেতে গভীর আগ্রহে রয়েছেন ছাত্রদলের বাদপড়া ও সাবেক নেতারা। ছাত্রত্বহীন সাবেক ছাত্র নেতাদের যুবদলে পুনর্বাসনের প্রতিশ্রুতি আছে বিএনপির হাই কমান্ডের। পছন্দের পদ পেতে কেউ কেউ লবিং করছেন সিনিয়র নেতাদের মাধ্যমে। নানামুখী অভিযোগের আঙুল তুলছেন সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। আন্দোলন-সংগ্রামে বিএনপির ভ্যানগার্ড খ্যাত যুবদলকে শক্তিশালী করতে ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে। ওই সময় মুক্ত ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।

দলের মুখপাত্র ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মাধ্যমে যুবদলের পাঁচ নেতাকে দায়িত্ব দিয়ে আংশিক কমিটি গঠন করেছিলেন। নতুন ওই কমিটিতে যুবদলের সাবেক সাধারণ সাইফুল আলম নীরবকে সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়। কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক মনোনীত হন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। সিনিয়র সহ-সভাপতি মোর্ত্তাজুল করিম বাদরু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন এবং মামুন হাসান পান সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব। এই আংশিক কমিটি এক মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে অনুমোদনের জন্য বিএনপির কাছে পেশ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এরই মধ্যে গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি কারাবন্দি হয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। নেত্রীর মুক্তির জন্য এই পাঁচ নেতা আড়ালে-আবডালে ঝটিকা মিছিল করেছেন। সেলফি তুলে পোস্ট করেছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। অন্যদিকে পদ-পদবি না থাকায় যুবদলের অনেক নেতাকর্মী অলস সময় কাটায়।

এদিকে ভোটের মাধ্যমে ছাত্রদলের কমিটি গঠনের পর বাদ পড়েছে অনেক ছাত্র নেতা। তারা তাকিয়ে আছে বিএনপির অঙ্গসংগঠন যুবদলের দিকে। কমিটি নিয়ে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তালা, বহিষ্কার এবং সবশেষে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। দলে শৃঙ্ক্ষলা ফেরাতে ছাত্রদলের নেতাদের যুবদলে পুনর্বাসনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন শীর্ষ নেতারা।

এক মাসের কমিটি প্রায় তিন বছর পার করায় সমালোচনা ওঠে মূল দল বিএনপির বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বিশেষ নির্দেশনাও দিয়েছেন। গত ১০ অক্টোবর তার নির্দেশ ছিল ১৯ অক্টোবরের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি দাখিল করার। কিন্তু গতকাল শনিবার পর্যন্ত কমিটির অংশ বিশেষও গঠন করতে পারেনি দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুবদলের সাবেক এক নেতা বাংলাদেশের খবরকে বলেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দৃষ্টি অন্য কমিটির দিকে ফেরাতে দায়িত্বপ্রাপ্তরা কমিটি নিয়ে গড়িমসি করছে। দলীয় প্রধান কারাগারে। সিনিয়র নেতাদের নির্দেশনাও পাত্তা দিচ্ছেন না। মূলত, পাঁচ নেতার ইচ্ছার ওপর নির্ভর করছে এই কমিটির ভবিষ্যৎ।

তবে নেতাকর্মীদের অভিযোগ সঠিক নয় দাবি করে কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি মোর্ত্তাজুল করিম বাদরু বলেন, পাঁচ সদস্যের কমিটি হবে ২৭১ সদস্যের। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ১৯ অক্টোবরের মধ্যে এই কমিটি দাখিলের নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু এত বড় কমিটি গঠন করতে কিছুটা সময় লাগবেই। তবে শিগগিরই পূর্ণাঙ্গ কমিটি বিএনপির কাছে দাখিল করা হবে বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads