• শনিবার, ২৫ জুন ২০২২, ১১ আষাঢ় ১৪২৯

সারা দেশ

গলাচিপায় ভূমি দস্যুদের হামলায় ঘর-বাড়ি ভাংচুর, নারীসহ আহত ১৫

  • গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ২৭ নভেম্বর ২০২১

গলাচিপায় আমন ধান পাকা মৌসুমে অশান্ত হয়ে উঠেছে বিভিন্ন চরাঞ্চল। অশান্ত এসকল চরাঞ্চলের জোতদার লাঠিয়ালদের সাথে কৃষকের সংঘর্ষ নতুন কিছুই নয়। ইতিমধ্যে জোদদার লাঠিয়ালরা বিভিন্ন চরাঞ্চলে নিজস্ব বাহিনী নিয়ে যাতায়েত শুরু করেছে। চরাঞ্চলে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে ঘর-বাড়ি ভাংচুর, হত্যা, চোখ উঠিয়ে দেওয়াসহ নানা ঘটনা ঘটানো হচ্ছে। আর এতে সাধারণ কৃষরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে।

গত মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার চরকাজল ইউনিয়নের বড়শিবা মৌজার খাস জমি দখলকে কেন্দ্র করে ভূমি দস্যু নজির সরদার, হাসান হাওলাদার, ইব্রাহিম হাওলাদারের নেতৃত্বে দেড় থেকে দুই শ লোকে হামলা করে কৃষক শেখ মিজানুর রহমানের বসত ঘর কুপিয়ে পিটিয়ে ভাংচুর করে। এ হামলায় নারীসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়।

আহতরা হলেন, মনির শেখ, কামরুননাহার, আজাহার শরিফ, ফরিদা বিবি, খাদিজা, বাচ্চু শরিফ গলাচিপা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং অন্যদের মধ্যে মোহাম্মদ রাঢ়ী ও নিজাম শেখ প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছেন। গুরুতর আহত মনির শেখকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ এমআর শওকত আনোয়ার ইসলাম।

জানা গেছে, চরের খাস জমির মালিকানা প্রশ্নে দাবিদারের সংখ্যা অনেক। কেউ দাখিলার সূত্রে, কেউ ভূূঁয়া কাগজপত্রের সূত্রে আবার কেউ দখলী সূত্রে। তবে চরাঞ্চলে জমির মালিকানা হিসবে ‘জোর যার মূল্লুুক তার’ সংখ্যাই বেশি। ধান কাটা মৌসুমে জোতদাররা লাঠিয়াল বাহিনী ভাড়া করে ভূমিহীন কৃষকের ধান লুট, বাড়ি-ঘরে অগ্নি সংযোগ, খুন, ধর্ষণ ও অপহরণসহ ভূমিহীনদের উপর অত্যাার ও নির্যাতনে ভূমিহীনরা দিশেহারা হয়ে পড়ে এবং পরিবার পরিজন নিয়ে অনাহারে অর্ধাহারে মানবেতর জীবন যাপন করে। চরকাজল শিবা ম্যৌজার জমি দখল করাকে কেন্দ্র করে ভূমি দস্যু নজির সরদার, হাসান হাওলাদার, ইব্রাহিম হাওলাদারের নেতৃত্বে দেড় থেকে দুই শ লোকে হামলা করে কৃষক শেখ মিজানুর রহমানের বসত ঘর কুপিয়ে পিটিয়ে ভাংচুর করে। হামলার সময় মিজানুরের ছেলে মনির শেখকে পিটিয়ে কুপিয়ে আহত করে এবং তার দুটি চোখ উপড়ে দেওয়ার চেষ্টা চালায়। এ ঘটনার প্রতিবাদ করতে গেলে তিনজন নারীও আহত হয়। হামলার সময় পুলিশ আসার খবর পেয়ে ভূমি দস্যুরা পালিয়ে যায়।

এ বিষয়ে বড় শিবা মৌজা এলাকার কৃষক মিজানুর রহমান বলেন, মঙ্গলবার দুপুরে নজির সরদারের নেতৃত্বে দেড় থেকে দু’শ সন্ত্রাসী বাহিনী আমার ঘরে হামলা করে ভাংচুর করে দরজা বেড়া কুপিয়ে ছিন্ন ভিন্ন করে। ঘরে আমার স্ত্রী কামরুননাহার ছিল। হেরে (কামরুননাহারকে) মারধর করে কাপড় খুলে শ্লীলতাহানি করে। এতে প্রতিবাদ করায় আমার ছেলেকে রড, রামদা দিয়ে মনিরকে কুপিয়ে পিটিয়ে আহত করে। আমার ছেলে মাটিতে পড়ে গেলে লোহার রড দিয়ে চোখ উডাইয়া (উপড়ে) দেওয়ার চেষ্টা করে। এতে মনিরের দুটি চোখ জখম হয়।

একই গ্রামর চান মিয়া মৃধা বলেন, নজির সরদার জমি মাপার কতা কইয়া খালের মধ্যে একটি বাঁশ দিয়া সীমানা দেয়। এর পরে হঠাৎ করেই বাড়িতে হামলা চালিয়ে মারধর শুরু করে। এতে আমরা আতঙ্কিত হয়ে এলাকা থেকে পালিয়ে যাই। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়ও নজির বাহিনী বড় শিবার কৃষদের হুমকি দেয়। আমরা এহন আতঙ্কে আছি।

এ ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযুক্ত দশমিনা থানার চরবোরহানের নজির সরদার বলেন, বড়শিবা এলাকায় মারামারির খবর শুনেছি। এঘটনার সাথে আমি জড়িত নই।

এ প্রসঙ্গে গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ এমআর শওকত আনোয়ার ইসলাম বলেন, খবর পেয়েই ঘটনাস্থল পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ওই এলাকায় পুলিশের টহল বাড়ানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

চরের খাস জমি প্রসঙ্গে গলাচিপা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, বড়শিবার জমির জরিপ শেষ পর্যায়ে। ওই জমি গলাচিপা উপজেলার অংশ। এক শ্রেণির জোতদাররা প্রভাব খাটিয়ে দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে। আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আদেশ পেলেই কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads