• রবিবার, ২৬ জুন ২০২২, ১২ আষাঢ় ১৪২৯
প্রাচীন পদ্ধতিতে চলছে আখের রস সংগ্রহ

ছবি: বাংলাদেশের খবর

সারা দেশ

প্রাচীন পদ্ধতিতে চলছে আখের রস সংগ্রহ

  • প্রকাশিত ২১ জানুয়ারি ২০২২

এস এম জহিরুল আলম চৌধুরী, বিজয়নগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) 

বিজয়নগর উপজেলায় চলতি মৌসুমে আখের রস দিয়ে তৈরি হচ্ছে দেশীয় খাবার লালি। চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় ২৫ হেক্টর জমিতে আখের চাষ হয়েছে। আর এসব জমিতে দুই হাজার ৭শ মেট্রিক টন আখ উৎপাদন হবে। শীত মৌসুমে আখের রসে তৈরি লালি, খেতে খুবই মজা ও সুস্বাদু। এই লালি দিয়ে ঘরে ঘরে তৈরি পিঠা-পুলি শীতের খাদ্য তালিকাকে ভিন্ন মাত্রায় নিয়ে যায়।

লালি তৈরিতে সম্পৃক্ত লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত আখের মৌসুম ধরা হয়। এই সময়টাতেই শীতের প্রকোপ বেশি হয়। এর ফলে এই চার মাস উৎপাদিত আখ থেকে লালি তৈরি করেন স্থানীয়রা। উপজেলার অর্ধশতাধিক পরিবার আখের রস থেকে লালি তৈরির কাজ করেন। প্রতিদিন অন্তত এক হাজার কেজি লালি তৈরি হয় এ অঞ্চলে। লালি তৈরি হয় আখ মাড়াইয়ের মাধ্যমে, এখনো প্রাচীন পদ্ধতিতে মহিষ দিয়ে মাড়াই করা আখের রস সংগ্রহ করে চুলায় দীর্ঘসময় জ্বাল দিয়ে তৈরি করা হয় সুস্বাদু লালি। প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে লালি তৈরির কাজ। প্রতি কেজি লালি পাইকারদের কাছে বিক্রি হয় ৭৫ থেকে ৮০ টাকা দরে। আর খুচরা বিক্রি হয় ১০০ থেকে ১২০ টাকায়।

উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নে গিয়ে দেখা গেছে, কৃষকরা বাড়ির আঙিনায় মহিষ ও গরু দিয়ে আখ মাড়াইয়ের কাজ করছেন। দিনভর আখ মাড়াইয়ের মাধ্যমে রস সংগ্রহের পর রাতে সেই রস চুলায় জ্বাল দেওয়া হয়। দুই ঘণ্টারও বেশি সময় জ্বাল দেওয়ার পর তৈরি হয় সুস্বাদু লালি।

বিষ্ণুপুর গ্রামের লালি তৈরির কারিগর ছিদ্দিক মিয়া জানান, চলতি মৌসুমে তিনি ১৫ হাজার টাকায় এক কানি জমির আখ কিনেছেন। এই আখ দিয়ে যে পরিমাণ লালি হবে, তা বিক্রি করে সব খরচ বাদ দিয়ে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা লাভ হবে তার।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাব্বির আহমেদ বলেন, আমরা আশা করছি এবারের মৌসুমে অন্তত ৭০ লাখ টাকার লালি বিক্রি হবে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads