• শনিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২১, ৭ কার্তিক ১৪২৭

ঢালিউড

অভিনয়ে ফিরবেন আমিন খান

  • বিনোদন প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ১০ এপ্রিল ২০২১

একসময়ের ঢালিউডের তুমুল ব্যস্ত অভিনেতা আমিন খান। সেই তারকা এখন চলচ্চিত্রের একদম বাইরে। নতুন জেনারেশনের অনেকেই আমিন খানকে চিনতে একটু কষ্টই হবে। বর্তমানে ওয়ালটনের ব্র্যান্ড ম্যানেজার হেড হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একসময় যে চিত্রনায়ক শুটিংয়ে অ্যাকশন আর কাট-কাটিং শব্দ দুটোর নিত্যসঙ্গী ছিলেন, এখন তিনি কারখানায় তৈরি পণ্যের হয়ে কাজ করছেন। প্রথম দুই বছর ‘শুভেচ্ছাদূত, এরপর ব্র্যান্ড ম্যানেজার হেড-এভাবেই প্রায় এক দশক হলো এ প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে নিজেকে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে রেখেছেন একসময়ের দর্শকপ্রিয় এ অভিনেতা। চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারে অসংখ্য ছবিতে অভিনয় করে দর্শকের মন জয় করে নিয়েছেন তিনি। তার মধ্যে অবুঝ দুটি মন, দুনিয়ার বাদশা, ফুল নেবো না অশ্রু নেবো, আজ গায়ে হলুদ, হূদয়ের বন্ধন, বধূবরণ, হূদয় আমার, মুখোমুখি, ও আমার দেশের মাটি, এবং মেজাজ গরম তার উল্লেখযোগ্য ছবি।

চলমান কর্মব্যস্ততা প্রসঙ্গে আমিন খান বলেন, ‘কর্মব্যস্ততা বলতে এখন ওয়ালটনই আমার জীবনসঙ্গী। তার মানে এই নয়, আমি সিনেমা থেকে সরে গেছি। নতুন দুয়েকটি চলচ্চিত্রের প্রস্তাব আসছে মাঝেমধ্যে। সিনেমাই তো আমার সমস্ত ধ্যান-জ্ঞানের অংশ হয়ে আছে। এখনো সিনেমার সেই কর্মব্যস্ততার দিনগুলো নিয়ে ভাবি। যদিও আর আগের সেই কর্মব্যস্ততায় ফিরে যাওয়া হবে না।’

নিজের ক্যারিয়ার জীবনে প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি ও তৃপ্তি-অতৃপ্তি নিয়ে এ নায়ক জানান, ‘অতৃপ্তি তো প্রতিটি মানুষের থাকে। এই যে এতগুলো সিনেমায় অভিনয় করলাম, দর্শকের ভালোবাসাও অনেক পেলাম, এটাও বা কম কিসে! তার পরও আরো কী যেন হতে পারত, কী যেন করতে পারতাম, এমন একটা অসম্পূর্ণতা তো আছেই! এমন একটা তাগিদ থেকে এই অতৃপ্তিবোধ তো আছেই।’

তবে জীবনে একটাই আফসোস উল্লেখ করে আমিন খান বলেন, ‘এতগুলো সিনেমায় অভিনয় করলাম, কোনো জাতীয় পুরস্কার জুটল না আমার। পুরস্কার পাওয়ার মতো আমার অভিনীত কোনো সিনেমাও হয়তো সেখানে জমা পড়েনি। তার পরও আমি বলব, এই জাতীয় পুরস্কার না পাওয়া নিয়ে আমার কোনোই আক্ষেপ নেই। দর্শকদের ভালোবাসাই আমার কাছে বড় পাওয়া। যেখানে দর্শকদের ভালোবাসাই বড় হয়ে ওঠে, সেখানে তো এই পুরস্কার আমার কাছে গৌণই বলব। এই যে দেখেন, এমন অনেক সিনেমাও আছে, যেগুলো জাতীয় পুরস্কার পেয়েছে, কিন্তু দর্শক সেই সিনেমার নামই হয়তো জানে না। এর মধ্যে কিন্তু সরকারি অনুদানে নির্মিত সিনেমাও আছে। সেসব সিনেমার কোনোটি হয়তো মাত্র একটি সিনেমা হলে প্রদর্শিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছে। কারণ হল মালিকরা তো আর সিট খালি রেখে সিনেমা দেখাতে চাইবে না। ব্যবসাটাও তো তাদের চাই। আর আমার এমন বহু সিনেমাই কিন্তু আছে, যে সিনেমা দেখার জন্য হলগুলোতে দর্শকে ঠাসা থাকত। অনেক দর্শক টিকিট না পেয়ে ফিরে গেছে, এমন অনেক নজিরও আছে। এটাই তো একজন চলচ্চিত্র শিল্পীর কাছে বড় পাওয়া, তাই না!’

চলচ্চিত্রে নতুনদের বিষয়ে আমিন খানের মন্তব্য, ‘অবশ্যই নতুনদের মধ্যে অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। কারো মধ্যে সুপ্ত অবস্থায় রয়েছে, কারো মধ্যে ইতিমধ্যেই তার প্রমাণ মিলেছে। তবে এখানে বড় সংকট হছে, বড়রা তাদের জায়গা ছেড়ে দিতে চায় না। সবাই যার যার অবস্থান আগলে রাখতে চায়। তারা মনে করেন, তারাই সব জানে আর নতুনরা কিছুই জানে না। এমনটি মনে করা ঠিক না। নতুনরাও এমন অনেক কিছু জানে- যা বড়দের ধারণার মধ্যেও হয়তো নেই। কাজেই আমি মনে করি, নতুনদের মধ্যে অনেক সম্ভাবনা রয়েছে।’

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads