• রবিবার, ২৬ জুন ২০২২, ১২ আষাঢ় ১৪২৯

জাতীয়

রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে নির্বাচন করা অত্যন্ত কঠিন : সিইসি

  • অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশিত ২৭ জানুয়ারি ২০২২

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা বলেছেন, ‘এখন রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে নির্বাচন হয়। এ নির্বাচন করা অত্যন্ত কঠিন, কিন্তু সম্ভব। এর মধ্য দিয়েই আমাদের যেতে হবে।’

রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশন ভবনের মিডিয়া সেন্টারে আজ বৃহস্পতিবার ইসি বিটে কর্মরতদের সংগঠন রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি’র (আরএফইডি) মুখোমুখি হন সিইসি। সে সময় ‘আরএফইডি টক’ শীর্ষক এক আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।

এরপর সাংবাদিকেরা প্রশ্ন করেন, দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করা কঠিন কি না। জবাবে কে এম নূরুল হুদা বলেন, ‘এ অবস্থায় নির্বাচন করা কঠিন। কিন্তু, এটাই একমাত্র পথ। এখানে ভুল-ভ্রান্তি হবে, সমালোচনা হবে। এর মধ্য দিয়েই আমাদের যেতে হবে।’

সিইসি আরও বলেন, ‘দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করা, আর ইমার্জেন্সি পিরিয়ডে সামরিক সরকারের অধীনে নির্বাচন এক নয়। ইমার্জেন্সি পিরিয়ডে শাসমুল হুদা কমিশনের নির্বাচন প্রশংসা পেয়েছে, এটা ঠিক। জরুরি অবস্থায় ক্যান্টনমেন্টের আশীর্বাদ নিয়ে এসব নির্বাচন করা হয়েছে। তবে, এ অবস্থা চিরদিন এক থাকতে পারে না, যা গণতান্ত্রিক পরিবেশকে সম্প্রসারণ করে না।’

সিইসি আরও বলেন, ‘গণতান্ত্রিক অবস্থায় মুক্ত পরিবেশ থাকতে হয়। এখানে বন্দুকের নল মাথায় রেখে বা লাঠি দিয়ে নির্বাচনকে সাইজ করা যায় না। এটা ছেড়ে দিতে হয়। সেখানে ভুল হবে, সংঘাত হবে, বিতর্ক হবে, মিছিল-মিটিং সব হবে। দরজা খুলে দিতে হয়। এখন দরজা খুলে গেছে।’

সাবেক সিইসি এ টি এম শামসুল হুদার কঠোর সমালোচনা করে কে এম নূরুল হুদা বলেন, ‘কয়েকদিন আগে এ টি এম শামসুল হুদা সাহেব ছবক দিলেন। তিনি বললেন, আমাদের অনেক কাজ করার কথা ছিল। তাঁরা করতে পারেননি, বিতর্ক সৃষ্টি করেছেন। একজন সিইসি হিসেবে তাঁর কথা আমার কাছে গ্রহণযোগ্য মনে হয়নি। ইসি ইজ ওয়ান অব দ্য মোস্ট কমপ্লেক্স ইনস্টিটিউশন। এর মধ্যে একজন বাহবা নিয়ে যাবেন বা স্বীকৃতি নিয়ে যেতে পারেন—এটা সম্ভব নয়।’

সম্প্রতি এ টি এম শামসুল হুদা বর্তমান ইসির সমালোচনা করে বলেন, ‘বর্তমান নির্বাচন কমিশন সদিচ্ছা থাকলে ভালো নির্বাচন করতে পারতো। তাদের পারফরম্যান্স সন্তোষজনক নয়। তারা বিভিন্ন বিষয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।’

এ টি এম শামসুল হুদার সমালোচনার প্রসঙ্গ টেনে বর্তমান সিইসি নূরুল হুদা বলেন, ‘এ টি এম শামসুল হুদা বিরাজনীতিক পরিবেশে সাংবিধানিক ব্যত্যয়ও ঘটিয়েছেন। ইসির দায়িত্ব—৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করা। শামসুল হুদা নির্বাচন করেছেন ৬৯০ দিন পরে। এ সাংবিধানিক ব্যত্যয় ঘটানোর অধিকার তাঁকে কে দিয়েছে? তখন গণতান্ত্রিক সরকার ছিল না, সেনা সমর্থিত সরকার ছিল, ইমার্জেন্সির কারণে এটা করেছে। গণতান্ত্রিক সরকারের সময়ে করা সম্ভব না। ইমার্জেন্সি অবস্থার মধ্যে আর রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে গণতান্ত্রিক পরিবেশে নির্বাচন করার পার্থক্য আছে।’

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads