• বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪
ads
যুক্তরাষ্ট্রের সংরক্ষণবাদ নীতির ফলে বেশি দামে পণ্য কিনতে হতে পারে ভোক্তাদের

যুক্তরাষ্ট্রের সংরক্ষণবাদ নীতির ফলে বেশি দামে পণ্য কিনতে হতে পারে ভোক্তাদের

ছবি: সংগৃহীত

উত্তর আমেরিকা

বাণিজ্যিক দ্বন্দ্বের জের

৪৩ হাজার কোটি ডলার মাসুল গুনবে বিশ্ব

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত ২০ জুলাই ২০১৮

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিশ্বের অন্য দেশগুলোর চলমান বাণিজ্যিক দ্বন্দ্বের জেরে ৪৩ হাজার কোটি ডলার মাসুল গুনতে হতে পারে বিশ্ব অর্থনীতিকে। সম্প্রতি প্রকাশিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুকে এমন তথ্যই জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)।

ট্রাম্প গৃহীত পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়ে ওয়াশিংটনভিত্তিক সংস্থাটি বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও তার অংশীদারদের পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপের হুমকিতে ঝুঁকির মুখোমুখি বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি। ২০২০ সাল নাগাদ প্রবৃদ্ধি কমবে প্রায় দশমিক ৫ শতাংশ। অর্থাৎ এ সময়ের মধ্যে ৪৩ হাজার কোটি ডলারের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) হারাবে বিশ্ব। এই বাণিজ্যিক জটিলতায় কমবেশি ক্ষতির মুখোমুখি হবে বিশ্বের প্রায় সব অর্থনীতি। এতে অপেক্ষাকৃত উচ্চ রফতানি শুল্কহারের প্রভাবে বৈশ্বিক প্রতিশোধের মুখোমুখি হবে যুক্তরাষ্ট্র।

গত সপ্তাহে ২০ হাজার কোটি ডলারের চীনা পণ্য আমদানিতে ১০ শতাংশ শুল্ক বসানোর হুমকি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরই মধ্যে ৩৪ হাজার কোটি ডলারের চীনা পণ্যে শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। ইউরোপও ট্রাম্পের শুল্কের খড়গ থেকে রেহাই পায়নি। ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক’ শীর্ষক প্রতিবেদনে আইএমএফ জানিয়েছে, বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি এখনো ইতিবাচক ধারায় এগোলেও ঝুঁকিতে পড়ছে ধীরগতিতে। আইএমএফের ইকোনমিক কাউন্সেলর মরিস অবসফেল্ড বলেছেন, দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ সমস্যায় বেশি গুরুত্ব না দিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের জটিলতা নিয়ে চিন্তা করা উচিত। বর্তমান সমস্যা নিরসনে বহুপক্ষীয় সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ।

আইএমএফের তথ্য অনুযায়ী, সংরক্ষণবাদ নীতির ব্যবহার ব্যবসায় বিনিয়োগে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। পাশাপাশি বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যাহত করার সঙ্গে উৎপাদনশীল প্রযুক্তিকে পিছিয়ে দিতে পারে। ভোগ্যপণ্যের দামও বাড়বে সংরক্ষণবাদ নীতির প্রকোপে।

বিশ্ব অর্থনীতি ঝুঁকিতে থাকা সত্ত্বেও চলতি বছর ৩ দশমিক ৯ শতাংশ বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে আইএমএফ। আগামী বছরের জন্য এ হার অপরিবর্তিত রেখেছে সংস্থাটি। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), যুক্তরাজ্য ও জাপানে এ সময় প্রবৃদ্ধির গতি মন্থর থাকার পূর্বাভাস দিয়েছে। রাজনৈতিক উদ্বেগও এ সময় বাড়বে জানিয়েছে আইএমএফ।

চলতি বছর যুক্তরাজ্যে ১ দশমিক ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে আইএমএফ। এপ্রিলের ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনে যুক্তরাজ্যে ১ দশমিক ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। মার্চে প্রতিকূল আবহাওয়ার সঙ্গে থমকে ছিল ব্রিটিশ অর্থনীতি। এখন খানিকটা ঘুরে দাঁড়ালেও প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসে রাস টেনেছে আইএমএফ। তবে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি ঝুঁকিতে পড়ছে ব্রেক্সিটের কারণে। ওয়েস্টমিনস্টার ও ব্রাসেলসের মধ্যে ব্রেক্সিট নিয়ে কয়েক মাস ধরে আলোচনা চললেও কোনো সুরাহা এখনো হয়নি। জার্মানি, ফ্রান্স ও ইতালির মতো ইউরোপের দেশের প্রবৃদ্ধির গতিও চলতি বছর ধীর। পুনর্বিবেচনার পর চলতি বছর ইউরো অঞ্চলে প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ২ দশমিক ২ শতাংশ নির্ধারণ করেছে আইএমএফ। এপ্রিলে এ হার নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ দশমিক ৪ শতাংশ। চীনে ৬ দশমিক ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে আইএমএফের প্রতিবেদনে। শুল্ক আরোপের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবৃদ্ধি তুলনামূলক কম হবে বলে জানানো হয়। এপ্রিলের পূর্বাভাস অপরিবর্তিত রেখে দেশটিতে প্রবৃদ্ধির হার ২ দশমিক ৪ শতাংশতেই অপরিবর্তিত রেখেছে আইএমএফ। সুদের হার বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড)। এ বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছে আইএমএফ। অবসফেল্ড জানিয়েছেন, বাণিজ্য জটিলতার পাশাপাশি সুদের হার বৃদ্ধিতে ঝুঁকিতে পড়তে পারে অর্থবাজার।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads