• শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১ কার্তিক ১৪২৪
ads
প্লাস্টিক দূষণ কমাবে ৫০ দেশ

রাজধানীর হাজারীবাগ এলাকার একটি খাল ভরাট হয়ে গেছে পলিথিনে। ছবিটি গতকাল তোলা

ছবি : মিজানুর রহমান খান

জীব ও পরিবেশ

আইন করে প্লাস্টিক ব্যাগ বন্ধ করা যাবে না : আনিসুল ইসলাম

প্লাস্টিক দূষণ কমাবে ৫০ দেশ

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত ০৬ জুন ২০১৮

প্লাস্টিক ও প্লাস্টিকজাত পণ্যের দূষণ কমিয়ে আনতে পদক্ষেপ নিচ্ছে ৫০টি দেশ। সম্প্রতি বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে জাতিসংঘ। বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে প্লাস্টিকের ব্যাগ ব্যবহার নিষিদ্ধ হলেও আইনের প্রয়োগ নেই। প্লাস্টিক পুনর্ব্যবহারের ক্ষেত্রেও রয়েছে পিছিয়ে।

এদিকে আইন করে প্লাস্টিক ব্যাগ উৎপাদন বন্ধ করা যাবে না বলে উল্লেখ করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘ (আইইউসিএন) আয়োজিত আলোচনা সভায় এ মন্তব্য করেন তিনি।

বনমন্ত্রী বলেন, ‘আইন করে প্লাস্টিক ব্যাগ উৎপাদন বন্ধ করা যাবে না। এজন্য একসঙ্গে কয়েক জায়গায় অভিযান চালাতে যে লোকবল প্রয়োজন তা আমাদের নেই। আমি মন্ত্রী, এ দায়িত্ব আমাকেই নিতে হবে। আমাদের একটি কমিটমেন্টের মধ্য দিয়ে এগুতে হবে। সাস্টেইনেবল ক্যাম্পেইন করতে পারলে আমরা ভালো কাজ করতে পারব।’

এদিকে জাতিসংঘের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গ্যালাপাগোস দ্বীপপুঞ্জ শিগগিরই একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক নিষিদ্ধ করতে যাচ্ছে। শ্রীলঙ্কা নিষিদ্ধ করছে খাদ্যপণ্যের ‘ওয়ান টাইম প্যাক’ বানানোর জন্য ব্যবহূত স্টিরিওফোম। জৈব পদ্ধতিতে পচানো যাবে এমন ব্যাগ ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে চীন।

এসব পদক্ষেপের পরও নদী ও সমুদ্রে বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিকের প্রবাহ কমাতে অনেক কিছুই করা প্রয়োজন বলে সতর্ক করেছেন জাতিসংঘের প্রতিবেদনটির লেখক ও বিশেষজ্ঞরা। অনেক দেশ প্লাস্টিক বর্জ্য কমাতে ভালো ভালো নীতি নিলেও প্রয়োগের ঘাটতির কারণে তা ব্যর্থ হচ্ছে বলে মন্তব্য তাদের। অনেক উন্নয়নশীল দেশেই প্লাস্টিকের ব্যাগ নর্দমা আটকে দিয়ে বন্যার কারণ হিসেবে আবির্ভূত হয়। কোনো কোনো সময় গৃহপালিত পশুপাখিও এ ধরনের ব্যাগ খেয়ে বিপদ বাড়িয়ে তোলে।

প্লাস্টিক বর্জ্য কমাতে বিভিন্ন দেশের নেওয়া নীতি মিশ্র ফলাফল বয়ে এনেছে বলেও জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ক্যামেরুনে প্লাস্টিক ব্যাগ নিষিদ্ধ; প্রতি কেজি প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহে দেশটিতে অর্থ দেওয়ারও বিধান আছে; তা সত্ত্বেও সেখানে চোরাই পথে প্লাস্টিক ব্যাগ ঢুকছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, বেশ কয়েকটি দেশে প্লাস্টিক নিয়ে বিধিনিষেধ থাকলেও তা কার্যকরের ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। বাংলাদেশে প্লাস্টিকের ব্যাগ ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হলেও আইনের প্রয়োগের অভাবে এখনো তা স্থানীয় বাজারে ব্যাপক হারে বিদ্যমান।

প্রতিবেদনে অ্যাবাকা হেম্প থেকে জেইন পর্যন্ত প্লাস্টিকের পরিবর্তে ব্যবহার করা যায় এমন ৩৫টি জৈব উপকরণের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তালিকায় আছে খরগোশের পশম, সামুদ্রিক ঘাস ও ছত্রাক দিয়ে তৈরি ফোমের নামও। দুধের বর্জ্য থেকে ছানার সুতা তৈরি করা প্রতিষ্ঠান কিউমিলচের কথাও প্রতিবেদনে এসেছে; এসেছে আনারসের পাতা থেকে তৈরি প্লাস্টিকের বিকল্প পিনাটেক্সের বিষয়ও।

অনেক নীতিনির্ধারক অবশ্য জৈব বিকল্পের সম্ভাবনাকে তুলে ধরার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন। তারা বলছেন, গাড়ির বিকল্প জ্বালানি হিসেবে পামঅয়েলের ব্যবহারের কারণে রেইন ফরেস্টগুলো ধ্বংস করে পামবাগান গড়ে তোলা হচ্ছে, এভাবে জৈবজ্বালানি বিষয়ে পরিবেশবাদীদের আগের আশাবাদও বিফল হচ্ছে।

জাতিসংঘের পরিবেশ-বিষয়ক প্রধান এরিক সোলহেইম বলেন, ‘প্লাস্টিক দূষণ কমিয়ে আনতে যন্ত্রণাহীন ও লাভজনক বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া যায় বলে পর্যালোচনায় উঠে এসেছে। এগুলোর ফলে জনগণ ও ধরিত্রীর বিশাল উপকার হবে এবং এটি দূষণের মাত্রা কমাতে খরচের হারও কমিয়ে আনবে। প্লাস্টিক আসলে সমস্যা নয়, সমস্যা হচ্ছে আমরা এটি দিয়ে যা করি- সেটা।’

প্রতিবেদনে প্লাস্টিক বর্জ্য কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে কর ও নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরিকল্পনা করে সেটি সঠিকভাবে বাস্তবায়নকেই সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্লাস্টিক দূষণ কমাতে এ খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের দায়িত্ব নিতে বাধ্য করা, পুনর্ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রণোদনা দেওয়াসহ ব্যবসায়ীদের বিস্তৃত সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথাও জোর দিয়ে বলেছেন তারা।

প্রতিবেদনে আরো উঠে এসেছে, বিশ্বে এযাবৎকালে উৎপাদিত ৯ বিলিয়ন টন প্লাস্টিকের ১০ ভাগেরও কম পুনর্ব্যবহারের জন্য প্রক্রিয়াজাত করা হয়েছে। তবে বাংলাদেশে এই হার আরো কম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক হাফিজা খাতুন বিবিসি বাংলাকে জানান, প্লাস্টিক পুনর্ব্যবহারের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিকভাবে পুরস্কৃত হওয়ার সুযোগ না থাকায় সাধারণ মানুষ এতে আগ্রহী হয় না। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে প্লাস্টিক রিসাইক্লিং বা পুনর্ব্যবহারের প্রতি জোর দেওয়া হলেও বাংলাদেশে এই কার্যক্রম সীমিত আকারে পরিচালিত হয়।

হাফিজা খাতুন মনে করেন, এই ক্ষেত্রে সমন্বয়হীনতার দায় সরকারের নীতিনির্ধারকদের ওপর বর্তায়। তবে শুধু সরকারি বা ব্যবসায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে এই সমস্যা বিচার না করে ব্যক্তিপর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধির দিকেও জোর দেন তিনি।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads