• বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৮, ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
ads
সূচকে পিছিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো

সারা দেশে বড় নেটওয়ার্ক থাকলেও দিনের পর দিন লোকসান দিয়ে চলছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর বিপুলসংখ্যক শাখা

সংরক্ষিত ছবি

ব্যাংক

সূচকে পিছিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ২৭ মে ২০১৮

শাখার বিস্তার, সাধারণ মানুষের আস্থা, সরকারি সেবা মানুষের দোড়গোড়ায় পৌঁছে দিলেও সুশাসন প্রশ্নে পিছিয়ে পড়ছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো। এ ছাড়া বেসরকারি ব্যাংকগুলো গ্রাহককে কাছে টানতে আধুনিক ব্যাংকিং সেবা নিয়ে এলেও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো সেটি করতে পারছে না।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাধারণ মানুষের আস্থা থাকলেও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর সেবার মানের পরিবর্তন না হলে দিন দিন এসব ব্যাংকের অবস্থা আরো অবনতির দিকেই যাবে। রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী, অগ্রণী, জনতা, রূপালী, বেসিক, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক রাষ্ট্রায়ত্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বর্তমানে ব্যবসায়িক কার্যত্রম পরিচালনা করছে।

বেসরকারি ব্যাংকগুলোয় শতভাগ অনলাইন সেবা থাকলেও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো সেটি পুরোপুরি চালু করতে পারেনি। বাংলাদেশ ব্যাংক এ নিয়ে বার বার নির্দেশনা দিলেও কার্যত পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। অটোমেশন প্রক্রিয়ায় অনেকটা পেছনে এসব ব্যাংক। শুধু তাই নয়, বেসরকারি ব্যাংকগুলো ব্যাংকিং সেবার আধুনিক ধারণা মোবাইল ব্যাংকিং ও এজেন্ট ব্যাংকিংকে ব্যবসায়িক অগ্রাধিকার দিলেও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো এদিকে এখনো যেতে পারেনি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে দেখা গেছে, বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে মূলধন উদ্বৃত্ত থাকলেও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতি চলছে দীর্ঘদিন ধরেই। ২০১৭ সালের ডিসেম্বর শেষে রাষ্ট্রায়ত্ত ৮ ব্যাংকের ৬ ব্যাংকই মূলধন ঘাটতিতে পড়েছে। এই ৬ ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি  ১৭ হাজার ৪৪৩ কোটি টাকা। ঘাটতির শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, যার পরিমাণ ৭ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকা। সোনালী ব্যাংকের ঘাটতি ৫ হাজার ৩৯৭ কোটি টাকা, বেসিক ব্যাংক ২ হাজার ৬৫৬ কোটি টাকা, রূপালী ব্যাংক ৬৩৮ কোটি, জনতা ব্যাংকে ১৬১ কোটি টাকা এবং রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৮১৩ কোটি টাকা।

এদিকে, সারা দেশে বড় নেটওয়ার্ক থাকলেও দিনের পর দিন লোকসান দিয়ে চলছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর বিপুলসংখ্যক শাখা। হিসাব বলছে, ৩২০টি লোকসানি শাখা রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর। পরিচালনা দক্ষতা, অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে লোকসানের চক্র থেকে বের করা যাচ্ছে না এসব শাখাগুলোকে। সূচকে অবনতি হওয়াতে সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী ও বেসিক ব্যাংকে প্রতিনিধি পর্যবেক্ষক নিয়োগ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর আরেক উদ্বেগ খেলাপি ঋণ। বর্তমানে প্রায় ৩৮ হাজার কোটি টাকা খেলাপি রয়েছে এই ৮ ব্যাংকের কাছে। যা মোট খেলাপির অর্ধেক। তবে খেলাপি ঋণ আদায়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সমম্বয়ে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করতে যাচ্ছে সরকার।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সুশাসন প্রশ্নে কঠোরতার অভাবে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে বড় বড় ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনা ঘটছে। এজন্য ব্যাংকগুলোর অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা জোরালো করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

জানতে চাইলে রূপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী আতাউর রহমান প্রধান বাংলাদেশের খবরকে বলেন, দেশে বেসরকারি ব্যাংক ব্যবস্থা এসেছে আশির দশকে। তার আগে থেকেই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো দেশে ব্যাংকিং সেবা দিয়ে যাচ্ছে। ব্যাংকগুলোর জনগণের কাছে জবাবদিহিতা রয়েছে। সেগুলো আমাদের মনে রাখতে হয়। কিছু ক্ষেত্রে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো পিছিয়ে থাকলেও সেগুলো শক্ত ভিত্তির ওপরই রয়েছে।

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads