• বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪
ads
সব ব্যাংকে ‘বঙ্গবন্ধু কর্নার’ করার সুপারিশ

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান

সংরক্ষিত ছবি

ব্যাংক

সব ব্যাংকে ‘বঙ্গবন্ধু কর্নার’ করার সুপারিশ

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ১৫ আগস্ট ২০১৮

স্বাধীনতার পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মনোযোগ দেন ব্যাংক খাতের দিকে। প্রতিষ্ঠা করেন কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ছয়টি ব্যাংক জাতীয়করণ করে ব্যাংকিং ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেন। ব্যাংকিং ব্যবস্থায় বুনিয়াদ গড়ে ওঠে তাঁর হাতেই। স্বাধীনতার পাঁচ দশকেও ব্যাংক খাতে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে খুব বেশি পদক্ষেপ নেই।

অবশ্য এ ক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছেন একজন ব্যাংকার; নিজ উদ্যোগে যিনি বঙ্গবন্ধুকে জানার সুযোগ করে দিতে স্থাপন করেছেন ‘বঙ্গবন্ধু কর্নার’। এ ব্যাংকার হলেন মোহম্মদ শামস-উল ইসলাম। তিনি বর্তমানে রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী।

অগ্রণী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের এক্সিকিউটিভ ফ্লোরে গড়ে তোলেন ‘বঙ্গবন্ধু কর্নার’। এ কর্নারে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লেখা বই, তাঁর জীবনী, স্থিরচিত্র ও ম্যুরাল স্থাপন করা হয়েছে। মোহম্মদ শামস-উল ইসলাম এর আগে প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আনসার ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকে। সেখানেও তিনি একই আদলে বঙ্গবন্ধু কর্নার করেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব বলছে, দেশের মোট ৫৭টি তফসিলি ব্যাংক প্রতিবছর গড়ে ৬০০ কোটি টাকার বেশি অর্থায়ন করে সামাজিক উদ্যোগে। তবে জাতির পিতাকে নিয়ে তেমন কোনো গবেষণা বা কর্মসূচি নেই কোনো ব্যাংকের। এ ক্ষেত্রে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মতো পিছিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোও। বঙ্গবন্ধু নিজে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো প্রতিষ্ঠা করলেও এসব প্রতিষ্ঠান গত পাঁচ দশকে কার্যত কোনো উদ্যোগ নেয়নি হাজার বছরের এই শ্রেষ্ঠ বাঙালিকে নিয়ে।

ব্যাংক খাতে জাতির পিতাকে চর্চায় না আনার পেছনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক, তফসিলি ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ও পরিচালনা পর্ষদের ‘মনোযোগের অভাব’কে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানতে চাইলে মোহাম্মদ শামস-উল ইসলাম বলেন, অগ্রণী ব্যাংক দেশের অন্যতম একটি বড় রাষ্ট্রীয় মালিকানার বাণিজ্যিক ব্যাংক। আমরা জাতির পিতার দেখা স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে কাজ করছি আর্থিক খাতের অংশীদার হিসেবে।

তিনি আমাদের মাঝে জীবিত নেই। তবে রয়েছেন ধ্যানে ও মননে। সেটি আমি হূদয় থেকে উপলব্ধি করে বঙ্গবন্ধু কর্নার গড়ে তুলেছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে একটি অনুষ্ঠানে আমার উদ্যোগের কথা জানিয়েছি। তিনি উদ্ভাবনের কথা শুনে প্রশংসা করেছেন।  বাংলাদেশের খবরকে এ ব্যাংকার জানান, ২০০৯ সালে তিনি যখন মহাব্যবস্থাপক হিসেবে সিলেট অঞ্চলের দায়িত্বে ছিলেন তখনই মৌলভীবাজার আঞ্চলিক কার্যালয়ে বঙ্গবন্ধু কর্নার গড়ে তোলেন। বঙ্গবন্ধুকে কীভাবে প্রতিদিন শ্রদ্ধা জানানো যায়, সেই ভাবনা থেকেই এ উদ্যোগ।

দেশের সব ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে বঙ্গবন্ধু কর্নার গড়ে তোলার কেন্দ্রীয় উদ্যোগের সুপারিশ করেন এ ব্যাংকার। তিনি মনে করেন, পর্যায়ক্রমে শাখা পর্যন্ত কীভাবে বঙ্গবন্ধুচর্চা ছড়িয়ে দেওয়া যায়, তাও ভাবার সময় এসেছে। তিনি জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির একটি অংশে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লেখা বই থাকলেও সেটিকে বঙ্গবন্ধু কর্নার হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি। অগ্রণী ব্যাংকের বঙ্গবন্ধু কর্নারে প্রায় ৪০০ বই রয়েছে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লেখা। রয়েছে জাতির পিতার বড় একটি ছবি। এ কর্নারের বড় আকর্ষণ ১০০ কেজি ওজনের ব্রোঞ্জের একটি ভাস্কর্য।

ব্যাংক খাতে ‘বঙ্গবন্ধু চর্চার’ প্রসঙ্গে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম এই প্রতিবেদককে বলেন, ব্যাংক খাতে বঙ্গবন্ধুচর্চায় ঘাটতি রয়েছে বলা যাবে না। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, স্বপ্ন বিবেচনায় নিয়ে পুরো খাত পরিচালিত হয়। তবে প্রতিটি ব্যাংকে বঙ্গবন্ধুর জন্য একটি কর্নার ঘোষণার প্রস্তাবটি ভালো। আমরা এ বিষয়ে শিগগিরই উদ্যোগ নেব।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads