• বুধবার, ২১ নভেম্বর ২০১৮, ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
ads
ব্যাংক খাতের বুনিয়াদ গড়ে গেছেন বঙ্গবন্ধু

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান

সংরক্ষিত ছবি

ব্যাংক

ব্যাংক খাতের বুনিয়াদ গড়ে গেছেন বঙ্গবন্ধু

  • সাইদ আরমান
  • প্রকাশিত ১৫ আগস্ট ২০১৮

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যখন স্বাধীন বাংলাদেশের দায়িত্ব গ্রহণ করেন তখন যুদ্ধবিধ্বস্ত এদেশে রাস্তাঘাট, ব্রিজ কোনো কিছুই ছিল না। গোলায় কোনো খাদ্যশস্য ছিল না। কারেন্সি নোট ছিল না। কোনো রিজার্ভ মানিও ছিল না। ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে শূন্য হাতে তিনি যাত্রা শুরু করেছিলেন। সে সময়ের কর্মকাণ্ড বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বঙ্গবন্ধু স্বাধীন বাংলাদেশকে সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে কেবল অবকাঠামোকে বিবেচনায় রাখেননি। একটি নতুন দেশের আর্থিক কাঠামো কীভাবে গড়ে তুলতে হবে সেদিকেও ছিল তীক্ষ মনোযোগ। স্বাধীনতার পরপরই বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার জারি করে প্রতিষ্ঠা করেন ব্যাংক খাতের নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের যাত্রাকালে ব্যাংকে নিজের জমানো আমানত নিয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন গ্রাহকরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে ১৯৭১ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংক থেকে অর্থ উত্তোলন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত দেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। পর দিন ১৯৭২ সালের ১ জানুয়ারি নতুন করে লেনদেন শুরু হয়।

স্বাধীনতা-উত্তর দেশের ব্যাংক খাতের চিত্র পর্যালোচনা করতে গিয়ে দেখা যায়, ১৯৭২ সালে ব্যাংক খাতে মোট ঋণ ও অগ্রিম ছিল ৫৫৪ কোটি টাকা। ৭০২ কোটি টাকার আমানতের বিপরীতে ওই পরিমাণ ঋণ দেয় ব্যাংকগুলো। তখন রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী, রূপালী, অগ্রণী, জনতা, উত্তরা ও পূবালী ব্যাংক ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করত। এ ছাড়া আজকের বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক (বিকেবি) তখন অ্যাগ্রিকালচার ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক হিসেবে পরিচালিত হতো। ওই সময় সোনালী ব্যাংক বাদে সব ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন ছিল এক কোটি টাকা। শুধু সোনালী ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন ছিল ২ কোটি টাকা। তবে সব ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন ছিল ৫ কোটি টাকা। 

১৯৭২ সালের ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জারি করা দি বাংলাদেশ ব্যাংকস (জাতীয়করণ) আদেশে কার্যক্রম শুরু করে ব্যাংকগুলো। তখন মোট শাখা ছিল ১ হাজার ১৯১টি। বর্তমানে মোট ব্যাংক ৫৭টি। আর শাখার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০ হাজার। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হিসাব মতে, ব্যাংক খাতে মোট শাখা ৯ হাজার ৭২০টি। শুধু শাখা বেড়েছে তাই নয়, শাখার বিস্তার ঘটেছে গ্রামীণ পর্যায়ে। মোট শাখার ৫ হাজার ৫০১টিই পরিচালিত হচ্ছে গ্রামীণ পর্যায়ে। অর্থাৎ ৫৬ দশমিক ৬০ শতাংশ শাখা গ্রামে। বিপরীতে শহরে শাখা ৪ হাজার ২১৯টি, যা মোট শাখার ৪৩ দশমিক ৪০ শতাংশ। অর্থাৎ বঙ্গবন্ধুর বুনিয়াদ গড়ে যাওয়া ব্যাংকব্যবস্থা আজ দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড হয়ে উঠেছে।  জাতির জনক এ এন হামিদুল্লাহকে প্রথম গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেন। তিনি ১৯৭২ সালের ১৮ জানুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণ করেন। আর ব্যাংকগুলোর নামকরণেও সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন তিনি।

স্বাধীনতার পর কার্যক্রম শুরু করা রূপালী ব্যাংকের জন্য লোগো ঠিক করে দেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সে সময় বটগাছ সংবলিত একটি লোগো নির্ধারণ করে দেন তিনি, যা ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত অপরিবর্তিত ছিল। এরপর ২০ বার রাষ্ট্রায়ত্ত এই ব্যাংকটির লোগো পরিবর্তন হয়েছে। মূলত ১৯৭৮ সাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত এই পরিবর্তন করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যাংকটির সফল পরিচালনায় যতটা মনোযোগ ছিল তার থেকে যেন বেশি উদ্যোগ ছিল জাতির জনকের নির্ধারণ করে দেওয়া লোগোটি পরিবর্তনের দিকে। কার্যক্রম শুরুর পর ব্যাংকটি কখনো আর্থিক সূচকে ভালো করেছে। কখনো আবার পিছিয়ে পড়েছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার মধ্য দিয়ে দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করার চেষ্টা হয়েছে। ধাক্কা খেয়েছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান বলেন, বঙ্গবন্ধু তার ৭ মার্চের ভাষণে বলেছিলেন, এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম। তিনি দেশকে কেবল একটি জাতীয় পতাকা দিয়ে যাননি। দেশকে কীভাবে আর্থিক কাঠামো দিতে হয় সেটিও তার পরিকল্পনায় ছিল। তিনি পরিকল্পনা কমিশন গঠন করেন। প্রথম পঞ্চ-বার্ষিক পরিকল্পনাও তার মেয়াদে গ্রহণ করা হয়। এখান থেকে আমরা বুঝি, বঙ্গবন্ধু শুধু যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের অবকাঠামো গড়ার দিকে মনোযোগ দেননি। তিনি অর্থনৈতিক ভাবনা নিয়েও কাজ করেছেন।

এই বঙ্গবন্ধু গবেষক বলেন, বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে হবে। কাউকে বাদ দেওয়া যাবে না। বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে আজকের আর্থিক কাঠামো আরো মজবুত হতো।

আতিউর রহমান বলেন, বঙ্গবন্ধু কৃষকদের নিয়ে ভাবতেন। তাই তিনি ওই সময় কৃষি ব্যাংক গড়ে তোলার উদ্যোগ নেন। তিনি প্রথম গভর্নরকে ব্যাংকের শাখাগুলো দেশের প্রান্তিক পর্যায়ে নিয়ে যেতে বলেছিলেন বলে তথ্য পাওয়া যায়। তারই ধারাবাহিকতায় আমি যখন গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব নিই, ব্যাংকের শাখা খোলার ব্যাপারে গ্রামের বিষয়টি বাধ্যতামূলক করি। রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহম্মদ শামস-উল ইসলাম বাংলাদেশের খবরকে বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু দেশের অর্থনৈতিক মুক্তি ও একটি সমৃদ্ধ জাতি গঠনে যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই স্বপ্ন আমাদের ধ্যান। তিনি ১৯৭২ সালে পাকিস্তানের দুটি ব্যাংক হাবিব ব্যাংক ও কমার্স ব্যাংক একীভূত করে অগ্রণী ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেন। এই নামকরণটি তিনি নিজেই করে গেছেন।

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads