• বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮, ৩০ কার্তিক ১৪২৫
ads
বড় পরিবর্তন ছাড়াই বাজেট পাস

বাজেট পাশে বক্তব্য রাখছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত

সংগৃহীত ছবি

বাজেট

বড় পরিবর্তন ছাড়াই বাজেট পাস

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ২৯ জুন ২০১৮

প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৭ দশমিক ৮ শতাংশ ধরে আগামী ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জন্য ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাবের অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় সংসদ। গত ৭ জুন এ বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। ওই বাজেট পেশের পর ২২৩ জন সংসদ সদস্য প্রায় ৫৬ ঘণ্টা আলোচনা সমালোচনা শেষে গতকাল সরকার ও বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে তা পাস হয়েছে। চলতি সংশোধিত বাজেটের চেয়ে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটের আকার ২৫ শতাংশ বেশি।

বৈষম্য দূর করে টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে গতকাল অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা ব্যয়ের অনুমোদন নিতে প্রস্তাব উত্থাপন করেন। দীর্ঘ প্রায় চার ঘণ্টা আলোচনা শেষে কণ্ঠভোটে সর্বসম্মতিতে তা পাস হয়। এরপর অর্থমন্ত্রী ‘নির্দিষ্টকরণ বিল-২০১৮’ পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করলে সর্বসম্মতিতে তা পাস হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সরকারি দল ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়ে ইতিহাসের সর্ববৃহৎ বাজেট বাস্তবায়নের যাত্রাকে স্বাগত জানান। এর আগে মঞ্জুরি দাবির ওপর আলোচনার সুযোগ নিয়ে বিরোধী দল জাতীয় পার্টি ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরা শিক্ষা খাতে অনিয়ম-দুর্নীতি, অবকাঠামোগত উন্নয়নে ব্যর্থতা, জনগণের স্বাস্থ্যসেবা সঙ্কট, দুর্যোগ মোকাবেলা প্রস্তুতির অভাব ও রেল খাতের অব্যবস্থাপনার পাশাপাশি সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করেন।

সংসদ ভবনে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে শুরু হওয়া অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদসহ সরকারি-বিরোধী দলের অধিকাংশ সদস্যের উপস্থিতিতে অধিবেশনে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর ৫৯টি মঞ্জুরি দাবির বিপরীতে ৪৪৮টি ছাঁটাই প্রস্তাব আনা হয়। সরকার ও বিরোধী দলের হুইপের মধ্যে সমঝোতা অনুযায়ী পাঁচটি মঞ্জুরি দাবি আলোচনার সিদ্ধান্ত হয়। এই আলোচনায় অংশ নেন জাতীয় পার্টির মো. ফখরুল ইমাম, কাজী ফিরোজ রশীদ, নূরুল ইসলাম ওমর, মোহাম্মদ আবদুল মুনিম চৌধুরী, নূরুল ইসলাম মিলন, সেলিম উদ্দিন ও বেগম রওশন আরা মান্নান এবং স্বতন্ত্র সদস্য ডা. রুস্তম আলী ফরাজী। স্পিকার সংসদ অধিবেশন আগামী দুই জুলাই বিকাল ৫টা পর্যন্ত মূলতবি করেন।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত গত ৭ জুন জাতীয় সংসদে ‘সমৃদ্ধ আগামীর পথযাত্রা’ শিরোনামে চার লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট উত্থাপন করেন। প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনা গত ১০ জুন থেকে শুরু হয়। গত বুধবার সংসদ নেতা ও প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সাধারণ আলোচনা শেষ হয়। এরপর বুধবার রাতে সংসদে অর্থবিল-২০১৮ পাস হয়। যে বিলে কর-সংক্রান্ত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে অনুদান ছাড়া আয়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে তিন লাখ ৩৯ হাজার ২৮০ কোটি টাকা। ফলে বাজেটে ঘাটতি থাকছে এক লাখ ২৫ হাজার ২৯৩ কোটি টাকা, অন্যদিকে অনুদানসহ মোট আয়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে তিন লাখ ৪৩ হাজার ৩৩১ কোটি টাকা। এতে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে এক লাখ ২১ হাজার ২৪২ কোটি টাকা। বাজেটে মোট রাজস্ব আয়ের মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর খাতে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে দুই লাখ ৯৬ হাজার ২০১ কোটি টাকা, এনবিআর-বহির্ভূত কর খাতের আয় নয় হাজার ৭২৭ কোটি টাকা এবং কর ব্যতীত রাজস্ব আয় ৩৩ হাজার ৩৫২ কোটি টাকা। এ ছাড়া বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার ধরা হয়েছে এক লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকা।

২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে সবচেয়ে বেশি ব্যয় হবে সুদ পরিশোধে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে সুদ পরিশোধ বাবদ ৫১ হাজার ৩৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যার বড় অংশই যাবে অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদ পরিশোধে। চলতি সংশোধিত বাজেটে সুদ পরিশোধ বাবদ ৩৭ হাজার ৯২০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়। গত ৮ জুন বাজেট পরবর্তী এক সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী জানিয়েছিলেন যে, বর্তমানে দেশের মোট বিদেশি ঋণের পরিমাণ হচ্ছে ৩১ বিলিয়ন ডলার এবং বছরে প্রায় এক বিলিয়ন ডলারের মতো পরিশোধ করতে হয়। সুদ পরিশোধ ব্যয় বরাদ্দের অবশিষ্ট অংশ যাবে সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে নেওয়া ঋণ বাবদ। এর বাইরে আগামী বাজেটে পিপিপি ভর্তুকি ও দায় বাবদ ২২ হাজার ২০১ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

খাতভিত্তিক বরাদ্দে সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হয়েছে ভৌত অবকাঠামো খাতে। এ খাতের মধ্যে পল্লী উন্নয়নে স্থানীয় সরকার বিভাগের জন্য ২৯ হাজার ১৫৩ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর বাইরে সড়ক বিভাগের ২৪ হাজার ৩৮০ কোটি, রেলপথ মন্ত্রণালয় ১৪ হাজার ৬৩৮ কোটি, সেতু বিভাগ ৯ হাজার ১১৪ কোটি, কৃষি মন্ত্রণালয় ১৩ হাজার ৯১৪ কোটি টাকা ও পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ৭ হাজার ৯৩ কোটি টাকা ব্যয়ের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

সামাজিক অবকাঠামো খাতের আওতায় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে ব্যয়ের জন্য বাজেটে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য ২৪ হাজার ৮৯৬ কোটি ১৭ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। আর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দ হচ্ছে ২২ হাজার ৪৬৬ কোটি টাকা। এ ছাড়া স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় ১৮ হাজার ১৬৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে আসন্ন বাজেটে। খাদ্য ও সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় খাদ্য মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ হচ্ছে ৪ হাজার ১৫৫ কোটি টাকা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে নয় হাজার ৬৫৮ কোটি ৫১ লাখ ২৩ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

সাধারণ সেবা খাতের আওতায় জনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তায় ২৬ হাজার ৫৯৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয় ও বিভাগওয়ারি বাজেট বরাদ্দে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ হচ্ছে ২৯ হাজার ৬৬ কোটি টাকা। এর বাইরে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের জন্য ২৩ কোটি টাকা, জাতীয় সংসদ খাতে ৩৩২ কোটি ৫৩ লাখ টাকা, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় খাতে দুই হাজার ৮০১ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে ১৫৭ কোটি টাকা, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে এক হাজার ৮৯৫ কোটি টাকা, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে দুই হাজার ৬৬২ কোটি, সরকারি কর্মকমিশন খাতে ৭৭ কোটি ৬২ লাখ টাকা।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads