• শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮, ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
ads

সংরক্ষিত ছবি

জলবায়ু

বজ্রপাতে উঠানেই বেশী মৃত্যু

  • রানা হানিফ
  • প্রকাশিত ০৩ মে ২০১৮

জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশদূষণের কারণে আগের বছরগুলোর তুলনায় গত ৫ বছরে বাংলাদেশে বজ্রপাত বেড়েছে কয়েকগুণ। বেড়েছে মৃত্যুও। বিশেষজ্ঞদের ধারণা এমনটাই। এ সময়ের মধ্যে মৃতের সংখ্যাও বেড়ে দাঁড়িয়েছে দ্বিগুণে। ৫ বছরের হিসাব মিলিয়ে দেখা গেছে বছরে গড়ে ৩০০ জনের মৃত্যু হচ্ছে বজ্রপাতে। বাড়ির উঠানেই মৃত্যু বেশি হচ্ছে। মৃত্যুর সমীকরণটাও উন্নত দেশের তুলনায় বেশি। প্রতি ১০ লাখে একজনের মৃত্যু হচ্ছে বজ্রপাতে। আন্তর্জাতিক গবেষণা ও প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল সেন্টার ফর বায়োটেকনোলজি ইনফরমেশনের (এনসিবিআই) এক গবেষণায় উঠে এসেছে এসব তথ্য।

গবেষণায় অংশ নেন সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ বাংলাদেশের (সিআইপিআরবি) গবেষক অনিমেশ বিশ্বাস, জাহাঙ্গীর হোসাইন, কামরান উল বাসেত, ফজলুর রহমান, সাইদুর রহমান মাশরেকী ও সুইডেনের অরেব্রো বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব হেলথ সায়েন্স বিভাগের কাউস্তাব ডালাল।

গবেষণায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশে প্রতিবছর গড়ে ৩০০ জনের মৃত্যু ঘটছে বজ্রপাতের ঘটনায়। ২০০৫ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে বজ্রপাতে মোট ৪১ জনের মৃত্যু হয়। এ ছাড়াও ২০১০ সালে ১২৩ জন, ২০১১ সালে ১৭৯ জন, ২০১২ সালে ৩১৯ জন, ২০১৩ সালে ২৮৫ জন, ২০১৪ সালে ২১০ জন, ২০১৫ সালে ২৭৪ জন, ২০১৬ সালে ৩৫০ জন, ২০১৭ সালে ৩৩৭ জন বজ্রপাতে মারা যান।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, এ বছর ৩০ মার্চ থেকে ও ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত বাংলাদেশে বজ্রপাতে মারা গেছেন ৬৫ জন। এর মধ্যে ৩০ এপ্রিল বজ্রপাতে ৯ জেলায় ১৩ জন, ২৯ এপ্রিল ৭ জেলায় ১৪ জন, ২৬ এপ্রিল ২ জন, ২৫ এপ্রিল ১৯ জন, ২১ এপ্রিল ১ জন, ১৭ এপ্রিল ৫ জন, ১২ এপ্রিল ১ জন, ৬ এপ্রিল ৬ জন, ৩০ মার্চ ৫ জন মারা যান।

সিআইপিআরবির গবেষণায় বলা হয়েছে, বজ্রপাতে নিহতের মধ্যে ৬০ দশমিক ১২ শতাংশ  পুরুষ এবং ৩৯ দশমিক ৮ শতাংশ নারী। বজ্রপাতে মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি গ্রামে- প্রায় ৯১ শতাংশ এবং শহরে ৯ শতাংশ। বজ্রপাতে বেশি মৃত্যু ঘটছে বাড়ির উঠানে- প্রায় ৬৫ শতাংশ। এরপর মহাসড়ক, রাস্তা, ফুটপাতে ২৬ শতাংশ, কৃষি জমিতে ৩ শতাংশ এবং অন্যান্য ৬ শতাংশ।

মৃতের মধ্যে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি। প্রায় ৩২ শতাংশ। এরপর রয়েছে কৃষক ১৮ শতাংশ এবং গৃহবধূ ১৫ শতাংশ। বয়সের দিক দিয়ে ৪৩ দশমিক ৭ শতাংশের বয়স ৫০ বছরের ঊর্ধ্বে, এরপর শূন্য থেকে ১৭ বছরের শিশুদের বজ্রপাতে মৃত্যুর হার ২৪ শতাংশ, মৃতের ১১ দশমিক ৫৫ ভাগের বয়স ১৮-২৯ বছরের মধ্যে।

ক্রমবর্ধমান বজ্রপাতের ঘটনা এবং এতে ক্ষয়ক্ষতির বিবেচনায় সংস্থাটি বাংলাদেশের জন্য বজ্রপাতকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবেই দেখছে। তবে বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও ভূমিকম্পের মতো বজ্রপাতকে পৃথক ক্যাটাগরিতে প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে বিবেচনা করছে না সরকার। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের মতে, কালবৈশাখী ও ঘূর্ণিঝড়ের মতো দুর্যোগের সঙ্গে বজ্রপাত জড়িত। কিন্তু বর্তমান সময়ে হতাহতের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় বজ্রপাতকে বেশ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে অধিদফতর। এরই মধ্যে বজ্রপাত থেকে রক্ষায় বিভিন্ন সতর্কতামূলক প্রচারণার পাশাপাশি বজ্রপাত রোধে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার কথা ভাবছে তারা।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. রিয়াজ আহমেদ বাংলাদেশের খবরকে বলেন, ‘বজ্রপাত কালবৈশাখী ও সাইক্লোনের সঙ্গে জড়িত। ঋতুচক্রের এপ্রিল থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত কালবৈশাখী ও বর্ষার মৌসুম। আর এ সময়েই বজ্রপাত বেশি হয়। তবে বিগত কয়েক বছর ধরে বজ্রপাত বেড়ে যাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে আমাদের ভাবতে হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত বজ্রপাতে মৃত্যুর প্রধান কারণ, সচেতনতার অভাব। ঝড়-বৃষ্টির সময় বাইরে থাকা মানুষের করণীয় কী, তা অনেকেই জানেন না। তাই আমরা গণমাধ্যম, বিভিন্ন প্রচার অভিযানের মাধ্যমে বজ্রপাতের সময় করণীয় কী সে বিষয়ে সচেতনতা তৈরির কাজ করছি। পাশাপাশি প্রাকৃতিকভাবে বজ্র নিরোধের বিষয়েও আমরা কাজ করছি। মন্ত্রণালয় থেকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, বজ্র নিরোধে সারা দেশে তাল গাছ লাগানো হবে।’

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads