• সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪
ads
প্রতি দুই সেকেন্ডে একজন বাস্তুচ্যুত

প্রতি দুই সেকেন্ডে একজন করে মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছেন

সংগৃহীত ছবি

জলবায়ু

প্রতি দুই সেকেন্ডে একজন বাস্তুচ্যুত

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ২০ জুন ২০১৮

সারা বিশ্বে প্রতি দুই সেকেন্ডে একজন করে মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছেন। আর প্রায় ৬ কোটি ৮৫ লাখ নিজেদের বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথমবারের মতো বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা এতটা বেড়েছে। তাদের মধ্যে শরণার্থী, আশ্রয়প্রার্থী ও অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুত মানুষ রয়েছেন।

গতকাল মঙ্গলবার জাতিসংঘ জানিয়েছে, বিশেষ করে যুদ্ধ, সহিংসতা ও নিপীড়নের কারণে মিয়ানমার ও সিরিয়ার মতো দেশের লোকজন তাদের বাড়ি থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। ২০১৭ সালের শেষ নাগাদ এ সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় তিন মিলিয়ন বেশি। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর মঙ্গলবার তাদের বার্ষিক প্রতিবেদন গ্লোবাল ট্রেন্ডস এসব তথ্য জানিয়েছে। বাংলাদেশে আশ্রিত বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ১১ লাখ বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন।

ছোট্ট দেশ হলেও বাংলাদেশ বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে। এ বাস্তবতার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশেও আজ বুধবার পালিত হচ্ছে বিশ্ব শরণার্থী দিবস। এ উপলক্ষে ইউএনএইচসিআর ও কক্সবাজার আর্ট ক্লাব যৌথভাবে ২০-২৮ জুন রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে মানবতার জন্য শিল্প শীর্ষক চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে। আজ বুধবার এর উদ্বোধন হবে। প্রদর্শনীতে রোহিঙ্গা শিশুদের আঁকা চিত্রকর্মও স্থান পাচ্ছে। সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত এ প্রদর্শনী সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এ ছাড়া ২৮ জুন একই স্থানে ১৯৭১ সালের শরণার্থী অভিজ্ঞতার আলোকে এর অতীত ও বর্তমান অবস্থান নিয়ে একটি আলোচনা সভাও অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া সরকারি-বেসরকারি পর্যায়েও দিবসটি উদযাপনে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

ইউএনএইচসিআর প্রতিবছর ২০ জুন শরণার্থী দিবস পালন করে থাকে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে গৃহীত প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০০১ সাল থেকে প্রতি বছর এই দিবসটি পালিত হচ্ছে। এর আগে ২০০০ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন দেশে ‘আফ্রিকান শরণার্থী দিবস’ নামে একটি দিবস পালিত হতো।

ইউএনএইচসিআর প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, এক দশক আগে বিশ্বজুড়ে বাস্তুহারার সংখ্যা ছিল প্রায় ৪ কোটি ২৭ লাখ। এ সংখ্যা এখন প্রায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে বলা হয়, বাস্তুচ্যুত মানুষের বর্তমান এ সংখ্যা থাইল্যান্ডের জনসংখ্যার সমান এবং বিশ্বের প্রতি ১১০ জনে একজনের মতো। শুধু ২০১৭ সালের শেষাংশেই প্রায় ৪ লাখ ৭০ হাজার রোহিঙ্গা মিয়ানমারের রাখাইন থেকে বাস্তুচ্যুত হয়। আর গত বছরের তুলনায় চলতি বছর বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গার সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে।

জাতিসংঘের হাইকমিশনার (শরণার্থী) ফিলিপো গ্রান্ডি বলেন, আমরা চরম মুহূর্তে আছি। বিশ্বে যখন অনেক ক্ষেত্রে সফলতা আসছে, সেখানে জোর করে মানুষকে বাস্তুচ্যুত করার ব্যাপারটি নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। জেনেভায় জাতিসংঘের রিপোর্টটি প্রকাশের আগে তিনি আরো বলেন, এ পর্যন্ত যারা বাস্তুহারা হয়েছেন, তার মধ্যে শুধু ১০টি দেশেরই ৭০ শতাংশ মানুষ আছেন। যদি ওই ১০টি দেশে অরাজকতা বন্ধ করা যায়, তাহলে বাস্তুহারা মানুষের সংখ্যা হ্রাস পাবে। আর আমরা সেটা করতে পারি।

ইউএনএইচসিআর এর রিপোর্টে বলা হয়েছে, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা রেকর্ড গড়েছে। ২০১৭ সালে এ সংখ্যা ছিল ৬ কোটি ৮৫ লাখ। এর মধ্যে মিয়ানমার থেকেই প্রায় ৭ লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। যুদ্ধ, অন্যান্য সহিংসতা ও নির্যাতনের কারণে রেকর্ড গড়েছে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা। এ সঙ্কটের শীর্ষে আছে কঙ্গো, সিরিয়া, দক্ষিণ সুদানের যুদ্ধ ও মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের দলে দলে ছুটে আসা। এর ফলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে উন্নয়নশীলের কাতারে উঠে আসা দেশগুলো।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, ২০১৭ সালের শেষ নাগাদ যেসব মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন তার মধ্যে ১ কোটি ৬২ লাখ হয় প্রথমবারের মতো নয়তো পুনর্বার ঘর-বাড়িছাড়া হয়েছেন। এর থেকে ইঙ্গিত মেলে, বিপুলসংখ্যক মানুষকে আশ্রয়ের জন্য ছুটতে হচ্ছে। এর অর্থ হলো প্রতিদিন বিশ্বে বাস্তুচ্যুত হচ্ছেন ৪৪ হাজার ৫০০ মানুষ। আরো পরিষ্কার করে বলা যায়, প্রতি দুই সেকেন্ডে একজন করে বাস্তুচ্যুত হচ্ছেন।

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads