• রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০১৯, ৮ বৈশাখ ১৪২৬
ads
ক্রেতাদের পছন্দের শীর্ষে নিউমার্কেট

চট্টগ্রাম নিউমার্কেটে একটি দোকানে পছন্দের পোশাক দেখচেন ক্রেতারা

ছবি : বাংলাদেশের খবর

পণ্যবাজার

ক্রেতাদের পছন্দের শীর্ষে নিউমার্কেট

  • শামসুল ইসলাম, চট্টগ্রাম
  • প্রকাশিত ০৫ জুন ২০১৮

অর্ধশত বছরের ঐতিহ্যবাহী চট্টগ্রামের ‘বিপণিবিতান’ বর্তমানে নিউমার্কেট নামে সাধারণ মানুষের কাছে পরিচিত। পর্যাপ্ত খোলামেলা জায়গা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও মানসম্মত পণ্যের কারণে এখনো ক্রেতাদের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে এটি। ঈদকে সামনে রেখে এখন ক্রেতাদের পদভারে মুখর এই মার্কেট। চারতলাবিশিষ্ট মার্কেটের চতুর্থ তলা ছাড়া বাকি তিনটি ফ্লোরেই ক্রেতাদের ভিড়। সকাল ১০টার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত দোকানগুলোতে চলছে জমজমাট বেচাকেনা।

মার্কেটটি ঘুরে দেখা গেছে, নিচতলায় রয়েছে শতাধিক দোকান। শাড়ি, প্রসাধনী, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের শার্ট, টি-শার্ট, পাঞ্জাবি, থ্রি-পিস, বাচ্চাদের কাপড় রয়েছে এখানে। শাড়ির দোকানগুলোতে দেখা গেছে মহিলাদের ভিড়। বিভিন্ন ডিজাইনের সুতি, কটন, সিল্ক, জর্জেট, হাফ সিল্ক, টাঙ্গাইল শাড়ি, জামদানি, কাতান ইত্যাদি শাড়ির সমাহার এসব দোকানে।

এখানে রূপের হাট জামদানি হাউজ নামে একটি শোরুমে শতাধিক ডিজাইনের শাড়ি রয়েছে। শোরুমটির সেলসম্যান সাইমন জানালেন, অন্যান্য বছর রোজার শেষ দিকে ক্রেতারা মার্কেটমুখী হয়ে থাকে। এবার রোজার শুরু থেকেই ক্রেতা সমাগম দেখা গেছে। দিন দিন তা বাড়ছে। তিনি আরো জানান, তাদের শোরুমে ৮শ’ থেকে শুরু করে ২৫ হাজার টাকা দামের শাড়ি রয়েছে। ওই শোরুমেই কথা হলো নগরীর মাদারবাড়ী থেকে কেনাকাটা করতে আসা গৃহবধূ তাসলিমার সঙ্গে। তিনি জানান, নগরীতে অনেক মার্কেট গড়ে উঠলেও নিউমার্কেটের মতো এত খোলামেলা স্পেস কোথাও নেই। তাছাড়া ঈদের যেসব পরিধেয় সামগ্রী প্রয়োজন তার সবকিছুই মেলে এখানে।

বিভিন্ন ডিজাইনের পাঞ্জাবি শোভা পাচ্ছে নিচতলার জেন্টল পার্ক নামের শোরুমে। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক দেলোয়ার হোসেন জানান, নতুন ধরনের কিছু কাবুলি ড্রেস এসেছে এবার। ক্রেতাদের আনাগোনা ও বিক্রি ভালো বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিপণিবিতানের তৃতীয় তলায় রয়েছে জুতা, তৈরি পোশাক, চামড়াজাত দ্রব্য, প্রসাধন ও খেলনাসামগ্রী, বিভিন্ন ধরনের ইলেকট্রিক পণ্য ইত্যাদি। বাচ্চাদের পোশাকের শোরুম ‘শৈশব’-এ দেখা গেল ক্রেতাদের ভিড়। এখানে রয়েছে মেয়েদের লেহেঙ্গা, থ্রি-পিস, স্কার্ট, ফ্রক, ছেলেদের শার্ট, পাঞ্জাবি, টি-শার্ট, জিন্স প্যান্ট ইত্যাদি। শোরুমের ব্যবস্থাপক আসাদুল ইসলাম জানান, আধুনিক ডিজাইন ও পোশাকের গুণগত কারণে সাধারণ ক্রেতাদের কাছে ‘শৈশব’-এর আলাদা ইমেজ রয়েছে। সেখানে কেনাকাটা করতে যাওয়া নগরীর ফিরিঙ্গিবাজার এলাকার বাসিন্দা আহমেদ শরিফ বলেন, নিউমার্কেটে কেনাকাটা করে যতটা সাচ্ছন্দ্যবোধ করি তা অন্য মার্কেটে নয়। এখানকার গাড়ি পার্কিং নিরাপত্তা ব্যবস্থা সবই চমৎকার।

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) ১৯৬২ সালে নির্মাণ করে এই বিপণিবিতান। তখন এটি ছিল দেশের অন্যতম বৃহৎ আধুনিক বপণি কেন্দ্র। বিপণিবিতান ব্যবসায়ী কল্যাণ সংস্থার সভাপতি মো. সাগির বাংলাদেশের খবরকে জানান, এটি যখন গড়ে ওঠে তখন দেশের কোথাও এত বড় মার্কেট ছিল না। এ মার্কেটের অর্ধেকের বেশি জায়গাই খোলা প্রান্তর হিসেবে রাখা হয়েছে। রয়েছে দুটি এক্সেলেরেটর। চট্টগ্রামে অনেক মার্কেট থাকলেও একমাত্র নিউমার্কেটেই রয়েছে কার পার্কিং সুবিধা। রয়েছে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা। তিনি বলেন, ক্রেতাদের সেবাই আমাদের মূল লক্ষ্য। তাই ক্রেতাদের সঙ্গে ভালো ব্যবহারের জন্য সেলসম্যানদের প্রতি নির্দেশনা রয়েছে। এজন্য সেলসম্যানদেরকে প্রতি বছর সমিতি থেকে পুরস্কার দেওয়া হয়ে থাকে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads