• বুধবার, ২১ নভেম্বর ২০১৮, ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
ads
মাত্রাতিরিক্ত অ্যামোনিয়ায় হালদায় মরছে মা-মাছ

ব্যাপক দূষণে চট্টগ্রামের হালদা নদীতে মরছে শত শত মা-মাছ

সংগৃহীত ছবি

সারা দেশ

মাত্রাতিরিক্ত অ্যামোনিয়ায় হালদায় মরছে মা-মাছ

  • ফরহান অভি, চট্টগ্রাম
  • প্রকাশিত ২৩ জুন ২০১৮

ব্যাপক দূষণে চট্টগ্রামের হালদা নদীতে মরছে বিশাল আকৃতির শত শত মা-মাছ। কয়েক দিন আগের বন্যায় শিল্প-কারখানার বিষাক্ত বর্জ্য মিশেছে এ নদীর পানিতে। এতে হালদায় অ্যামোনিয়ার মাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়েছে অনেক গুণ। এই দূষণের প্রভাবে তিন দিন ধরে দেশের একমাত্র এই প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজজনকেন্দ্রে মাছ মরতে শুরু করে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় হালদা রিসার্চ ল্যাবরেটরি ও পরিবেশ অধিদফতরের যৌথ গবেষণায় পানিতে মাত্রাতিরিক্ত দূষণের বিষয়টি উঠে এসেছে। প্রতিষ্ঠান দুটি দুই দিন ধরে এ গবেষণা চালায়।

গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সূত্র বলছে, গত ২০ জুন থেকে নদীর বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে মাছের মড়ক দেখা দেয়। শুরুতে ছোট মাছ মরলেও পরে মরতে শুরু করে বড় মাছ। গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকে গতকাল শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত ৫ থেকে ১৫ কেজি ওজনের কয়েক শ মৃত মা-মাছ ভেসে উঠেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় হালদা রিসার্চ ল্যাবরেটরির সমন্বয়ক মনজুুরুল কিবরিয়া বাংলাদেশের খবরকে বলেন, হাটহাজারীর শিকারপুর এলাকায় মরছড়া খালে জমা হয়েছে এশিয়া পেপার মিলের সব বর্জ্য। আরো কিছু কারখানার বর্জ্য জমা হয়েছে নদীর পার্শ্ববর্তী ছড়াবিল, বোয়ালিয়া বিলসহ বড় বড় বিলে। বৃষ্টি থেমে যাওয়ার পর এসব বিলে দূষণ প্রকট হয়ে ওঠে।

তিনি আরো জানান, ঈদের সময় হাটহাজারী, ফটিকছড়ি ও রাউজানে বন্যা হয়। বন্যার পানির সঙ্গে এসব বিলের বিষাক্ত পানি খন্দকিয়া খাল, কাটাখালী খাল, মাদারী খাল দিয়ে হালদা নদীতে এসে পড়ে। এতে আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে হালদার পানির অক্সিজেনের মাত্রা।

গতকাল শুক্রবার থেকে গবেষণায় নেমেছে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট। হালদা রিসার্চ ল্যাবরেটরি সূত্রে জানা গেছে, তিন দিনে মৃগেল, কাতলা, আইড়, বাইন, টেংরা, চিংড়িসহ নানা প্রজাতির মাছ ও জলজ প্রাণী মরে ভেসে উঠেছে। এসব মাছের বেশিরভাগই পচে গেছে। ছড়িয়ে পড়ছে দুর্গন্ধ। বৃহস্পতিবার মিলেছে ১৫ কেজি ওজনের একটি মৃগেল। কঙ্কাল সংগ্রহের জন্য এটি মাটি চাপা দেওয়া হয়েছে। হালদার পানিদূষণে বিপর্যস্ত হওয়ার এমন চিত্র অতীতে আর দেখা যায়নি। এ ছাড়া সাত থেকে আট কেজি ওজনের অনেকগুলো আইড় মাছও মরেছে। এর আগে প্রায় ২৫টি ডলফিন মারা গিয়েছিল হালদা নদীতে।

হালদা রিসার্চ ল্যাবরেটরির পক্ষ থেকে কর্ণফুলী নদী ও হালদার মোহনা থেকে হাটহাজারী গড়দুয়ারা পর্যন্ত পরিদর্শন করা হয়। এ সময় নদীতে মিশে যাওয়া প্রায় পাঁচটি খালের মুখে কালো পানি দেখা গেছে। কাটাখালী, খন্দকিয়া এলাকার পানিদূষণের মাত্রা ছিল বেশি। অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে গোটা হালদা নদীর পানিকে এ সময় বেশি মাত্রায় দূষিত মনে হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, নদীর উজানে ফটিকছড়ির ভূজপুর এলাকায় দুটি রাবার ড্যাম নির্মাণ করা হয়েছে। এ কারণে শুকিয়ে যাচ্ছে হালদার একটি অংশ। নদী থেকে বালু উত্তোলনে সরকারের নিষেধাজ্ঞা মানা হচ্ছে না। এতে মাটির গুণগত মান নষ্ট হচ্ছে। নদীর তীরে গড়ে উঠেছে প্রায় ৩০টি ইটভাঁটা। এসব ইটভাঁটার জন্য নদীতে তোলা হচ্ছে মাটি ও পানি। নদীর ১১টি স্থানে প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্টি হওয়া বাঁকগুলো কেটে সমান করে দেওয়া হয়েছে। ফলে মাছের বিচরণে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। ফটিকছড়ির চা-বাগানগুলো নদী থেকে মোটরের সাহায্যে পানি তুলছে। চট্টগ্রাম ওয়াসার পানি সরবরাহ হচ্ছে এ নদী থেকে। খাগড়াছড়ি বিভিন্ন পয়েন্টে চাষ হচ্ছে তামাক। তামাকক্ষেতে পানি দেওয়া হচ্ছে এ নদী থেকে। তামাক চাষে ব্যবহূত বিভিন্ন রাসায়নিক মিশছে হালদায়।

চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, হালদা নদীর পাড়ে গড়ে ওঠা শিল্প-কারখানায় ইটিপি থাকলেও বেশিরভাগ সময়েই এসব বন্ধ থাকে। ফলে বর্জ্য সরাসরি নদীতে পড়ে। হাটহাজারীর পাঁচটি ইউনিয়নের বর্জ্য খাল হয়ে হালদাকে দূষিত করছে। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) ও অনন্যা আবাসিক এলাকার বড় নালাটি সংযুক্ত করা হয়েছে হালদায় পতিত হওয়া বামনশাহী খালের সঙ্গে। এ ছাড়া হাটহাজারীর ফতেয়াবাদ এলাকার এশিয়া প্যাসিফিক পেপার মিলস লিমিটেড ও জননী পেপার মিলস কারখানার বর্জ্যও খাল দিয়ে সরাসরি গিয়ে পড়ছে হালদায়।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads