• সোমবার, ২০ মে ২০১৯, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫
ads
চাঁদপুরে এমপি ও মনোনয়ন প্রত্যাশী সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ

মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ আনোয়ারুল হক কামাল জানান, পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে

সংরক্ষিত ছবি

সারা দেশ

চাঁদপুরে এমপি ও মনোনয়ন প্রত্যাশী সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ

  • চাঁদপুর প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ২১ জুলাই ২০১৮

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে চাঁদপুরের রাজনৈতিক মাঠ গরম হয়ে উঠেছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও মনোনয়ন প্রত্যাশীর সমর্থকদের মোটর শোভাযাত্রা নিয়ে উত্তেজনা এবং সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে এরই মধ্যে। এতে অন্তত ৫ জন আহত হয়েছে। অবস্থা বেগতিক দেখে উপজেলা চেয়ারম্যান ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন। দু’ পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের কথা স্বীকার করে মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ আনোয়ারুল হক কামাল জানান, পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে।

শুক্রবার বিকেলে মতলব উত্তর উপজেলার আমুয়াকান্দা গ্রামে সংঘর্ষের ঘটনায় আহতরা হচ্ছেন: উপজেলা কৃষকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মনির হোসেন মোল্লা, ফতেপুর পূর্ব ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াছ প্রধান, স্থানীয় গৃহিণী শিপাঙ্গ রাণী, রাজ ও আকলিমা। আহতদের মধ্যে তিনজন ঢাকার একটি প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

পুলিশ সূত্র জানায়, শুক্রবার বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড সাধারণ জনগণের মাঝে তুলে ধরা এবং আগামী নির্বাচনে নৌকার পক্ষে প্রচারণার লক্ষ্যে মোটর শোভাযাত্রার অনুমতি চান চাঁদপুর-২ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী, কেন্দ্রীয় কৃষক লীগের অর্থ বিষয়ক সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খোকা পাটওয়ারী। কিন্তু একইদিন উপজেলার নন্দলালপুর, কালিপুর, ছেঙ্গারচর, নয়াবাজার, মোহনপুর, আমুয়াকান্দা বেড়িবাঁধসহ থানা এলাকায় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা জাতীয় শোক দিবস পালনে প্রস্তুতি সভার কর্মসূচি ঘোষণা করে। এ কারণে মনোনয়ন প্রত্যাশী খোকা পাটওয়ারীকে মোটর শোভাযাত্রার অনুমতি দেয়া হয়নি।

এদিকে খোকা পাটওয়ারী মোটর শোভাযাত্রা বের না করলেও শুক্রবার সকাল ১১টায় ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার ছেলে সাজেদুল হোসেন চৌধুরী দিপুর সমর্থকরা মোটর শোভাযাত্রা বের করে। ওই শোভাযাত্রা আমুয়াকান্দা গ্রাম এলাকায় যাওয়ার পর ‘ধর-মার’ শ্লোগান দেয়ার এক পর্যায়ে আমুয়াকান্দা গ্রামের মনোনয়ন প্রত্যাশী খোকা পাটওয়ারীর সমর্থকরা লাঠিসোটা নিয়ে অবস্থান নিলে দু’ গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে মন্ত্রী মায়া চৌধুরীর সমর্থক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মনজুর আহমেদ মঞ্জু ফাঁকা গুলি ছোড়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন। এ সময় অন্তত ৫ জন আহত হন।

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মনজুর আহমদ মঞ্জু বলেন, ‘কুলখানি অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে দেখি খোকা পাটওয়ারীর লোকজন ছেঙ্গারচর পৌরসভার মেয়র রফিকুল আলম জর্জসহ নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা করছে। এ অবস্থায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ফাঁকা গুলি ছুড়ি।’

কেন্দ্রীয় কৃষক লীগের অর্থ বিষয়ক সম্পাদক চাঁদপুর-২ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী আমিরুল ইসলাম খোকা পাটোয়ারী বলেন, ‘আমি একমাস আগে মোটর শোভাযাত্রার কর্মসূচি ঘোষণা করি। কিন্তু ত্রাণমন্ত্রী ও তার ছেলের লোকজন আমাকে কোণঠাসা করে রেখেছে। জুমার নামাজ পড়ার সময়ে তারা আমার বাড়িতে হামলা চালায়। ওই সময়ে তারা কয়েকটি হিন্দু বাড়িতে হামলা-ভাংচুর এবং দোকানপাটে লুটপাট করে। উপরোন্ত আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়েছে। মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ আনোয়ারুল হক কামাল জানান, পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। হামলার ঘটনায় থানায় ক্ষতিগ্রস্থরা মামলা দায়ের করেছে।’

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads