• সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৮ আশ্বিন ১৪২৬
ads
নৌকা, ধানের শীষের প্রচারে কেন্দ্রীয় নেতারা

গাজীপুরে নির্বাচনী প্রচারণায় বিএনপি ও আওয়ামী লীগ নেতারা

ছবি : বাংলাদেশের খবর

নির্বাচন

গাজীপুর সিটি নির্বাচন

নৌকা, ধানের শীষের প্রচারে কেন্দ্রীয় নেতারা

  • গাজীপুর প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ২৩ জুন ২০১৮

গাজীপুর সিটি করপোরেশন (জিসিসি) নির্বাচনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন দলীয় মেয়র প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকারের পক্ষে প্রচার চালাচ্ছেন। গতকাল শুক্রবার তিনি গাজীপুর নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পথসভা ও গণসংযোগ করেন। এর আগের দিন বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী মো. জাহাঙ্গীর আলমের পক্ষে প্রচারে অংশ নেন খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) নতুন মেয়র তালুকদার আবদুল খালেক। পথসভা ও প্রচারে অংশ নিয়ে জেলা শহরের ভোটারদের কাছে নৌকায় ভোট চান কেসিসি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে জয়ী খালেক।

এদিকে গতকাল শুক্রবার গাজীপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে এক কাতারে দাঁড়িয়ে জুমার নামাজ আদায় করেন জিসিসি নির্বাচনে প্রচারণায় অংশ নিতে যাওয়া আওয়ামী লীগ ও বিএনপির অনেক কেন্দ্রীয় নেতা। নামাজ শেষে দুই দলের নেতারা একসঙ্গে হাসিমুখে দাঁড়িয়েছিলেন আলোকচিত্রীদের সামনে। এ সময় ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও জিসিসি নির্বাচনে দলটির সমন্বয়ক খন্দকার মোশাররফ, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসাইনসহ আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাকর্মীরা।

খন্দকার মোশাররফ সর্বশেষ গতকাল বিকাল সাড়ে ৪টায় পূবাইল মিরের বাজারে পথসভা করেন। এর আগে সকালে তিনি হাসান উদ্দিন সরকারের বাসভবনে গণমাধ্যমকর্মীদের ব্রিফিং করেন। তিনি বলেন, জনগণ ভোট দিতে পারলে বিশাল ভোটের ব্যবধানে আমাদের প্রার্থী বিজয়ী হবে। তাই আমরা মাঠে আছি, মাঠে থাকব। কোনো অজুহাতে যেন আর গ্রেফতার করা না হয় সরকারকে সে ব্যবস্থা নিতে হবে। নির্বাচনের দিন পর্যন্ত আমরা পর্যবেক্ষণ করব। তার পর অবস্থা বুঝে আমরা পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব।

ব্রিফিংকালে ড. মোশাররফের সঙ্গে ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি ও ধানের শীষ প্রতীকের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ফজলুল হক মিলন, সিনিয়র সহসভাপতি সালাহউদ্দিন সরকার, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সরাফত হোসেন প্রমুখ।

আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম বৃহস্পতিবার নগরীর ২৫ নম্বর ওয়ার্ড ডুয়েট ফটকের সামনে পথসভার মাধ্যমে গণসংযোগ শুরু করেন। পরে নগরীর বিভিন্ন স্থানে পথসভা এবং গণসংযোগ করেন। এ সময় তার সঙ্গে তালুকদার আবদুল খালেক ছাড়াও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা বক্তব্য দেন।

পথসভায় কেসিসি মেয়র বলেন, শেখ হাসিনার উন্নয়নের উপর আস্থা রেখে খুলনার মানুষ বিপুল ভোটে নৌকা মার্কাকে বিজয়ী করেছে। শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে ২৬ জুন নির্বাচনেও গাজীপুরবাসীকে নৌকা মার্কায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।   

এদিকে গতকাল শুক্রবার চান্দনা চৌরাস্তা জামে মসজিদে জুমার নামাজ শেষে মসজিদ আঙিনায় মুসল্লিদের উদ্দেশে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, মহানগরীর ১৮০০ মসজিদের খতিব, ৪ শতাধিক কওমি মাদরাসার শিক্ষক এবং তাবলিগ জামাতের মুরব্বিরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে আমাকে নৌকা মার্কায় সমর্থন দিয়ে প্রচার চালাচ্ছেন। আমাকে ভোট দেন, নৌকাকে ভোট দেন, আমি ক্লিন এবং গ্রিন সিটি উপহার দিতে চাই।

বিএনপির মেয়র পদপ্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার শুক্রবার দিনব্যাপী বাসন অঞ্চলে গণসংযোগ ও পথসভা করেন। তিনি সকাল ৯টায় বাসন ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের মোগরখালে পথসভার মাধ্যমে তার শুক্রবারের নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন। মাঝে জুমার বিরতি নিয়ে তিনি টিঅ্যান্ডটি কলোনি জামে মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেন এবং মুসল্লিদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। তিনি মুসল্লিদের কাছে দোয়া চেয়ে বক্তৃতা করেন। তিনি পর্যায়ক্রমে বাসন অঞ্চলের ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের যোগীতলা নতুনবাজার, চান্দনা মোশারফের স্কুল (দক্ষিণপাড়া), ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাড়িয়ালী নগপাড়া মণ্ডলবাড়ী মসজিদ সংলগ্ন, ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাজীম উদ্দিন মার্কেট, ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইটাহাটা রাস্তার মাথা, হক মার্কেট ও কাউন্সিলর ফয়সাল সরকারের অফিস প্রাঙ্গণে পথসভা করেন।

পথসভায় বক্তৃতায় হাসান সরকার বলেন, এটি সরকার পরিবর্তনের নির্বাচন নয়, এটি একটি স্থানীয় সরকার নির্বাচন। তাই জনগণের রায়কে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। কাজেই গণগ্রেফতার বন্ধ করে ভোটের পরিবেশ নির্বিঘ্ন করার জন্য তিনি সরকার ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি অনুরোধ জানান। দুপুরে হাসান উদ্দিন সরকারের সঙ্গে পথসভায় যোগ দেন খন্দকার মোশারফ হোসেন, চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র মীর নাসির উদ্দিন, সাবেক এমপি হেলালুজ্জামান লালু। সঙ্গে ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি ফজলুল হক মিলন, সাধারণ সম্পাদক কাজী সাইয়েদুল আলম বাবুল, সহসভাপতি মীর হালিমুজ্জামান ননী, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক সোহরাব উদ্দিন প্রমুখ।

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads