• সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১ আশ্বিন ১৪২৫
ads
গাজীপুর নির্বাচনে প্রতি ওয়ার্ডে ভ্রাম্যমাণ আদালত

গাজীপুর নগর ভবন

সংরক্ষিত ছবি

নির্বাচন

গাজীপুর নির্বাচনে প্রতি ওয়ার্ডে ভ্রাম্যমাণ আদালত

  • গাজীপুর প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ২৩ জুন ২০১৮

গাজীপুর সিটি করপোরেশন (জিসিসি) নির্বাচনে ভোটের দিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ১০ হাজারের বেশি সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। প্রতিটি ওয়ার্ডে অর্থাৎ ৫৭টি ভ্রাম্যমাণ আদালত থাকবে। এ ছাড়া বিশৃঙ্খলা ঘটাতে পারে এমন লোকদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এদিকে জিসিসি নির্বাচনে সংবাদ সংগ্রহে ইচ্ছুুক স্থানীয় সাংবাদিকদের জন্য নতুন নিয়ম ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. তারিফুজ্জামান জানিয়েছেন, ২৬ জুনের ভোট সুষ্ঠু করতে নির্বাচন কমিশন দফায় দফায় বৈঠক করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে। পুরো সিটি চষে বেড়াচ্ছেন নির্বাচন কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাসেল শেখ জানিয়েছেন, ৪২৫টি ভোটকেন্দ্রে ১০ হাজার পুলিশ ও আনসার মোতায়েন থাকবে। এ ছাড়া ৫৭ ওয়ার্ডে র্যাবের ৫৭টি দল সক্রিয় থাকার পাশাপাশি রিজার্ভ থাকবে আরো একটি। তিনি বলেন, প্রত্যেক ওয়ার্ডে একটি হিসেবে ৫৭টি ভ্রাম্যমাণ আদালত থাকবে। এ ছাড়া প্রতি তিনটি ওয়ার্ড মিলে একজন হিসেবে মোট ১৯ জন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাঁচ শতাধিক কর্মকর্তাকে ইতোমধ্যে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের বিষয়ে রাসেল জানান, গত ৩১ মার্চ নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর থেকেই সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, মাদক বিক্রেতাসহ সব ধরনের অপরাধীকে গ্রেফতারে সাঁড়াশি অভিযান চলছে। অভিযানে গ্রেফতার হয়েছে দেড় হাজারের বেশি।

গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটের লড়াইয়ে জেতার জন্য জোর প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন প্রার্থীরা। ২৪ জুন রাত ১২টা পর্যন্ত চলবে এই প্রচারণা।

স্থানীয় সাংবাদিকদের জন্য নতুন নিয়ম : জিসিসি নির্বাচনের সংবাদ সংগ্রহে স্থানীয় সাংবাদিকদের কার্ড সরবরাহে ১৩টি তথ্য দিতে হবে রিটার্নিং অফিসারকে। এ জন্য নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হবে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের।

২৬ জুন গাজীপুর সিটি নির্বাচন সামনে রেখে গত বৃহস্পতিবার থেকে সাংবাদিক কার্ড দেওয়া হচ্ছে। ঢাকার আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা রকিবউদ্দিন মণ্ডল এ নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার। নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য তার কাছেই আবেদন করতে হচ্ছে স্থানীয় সাংবাদিকদের। স্থানীয় সাংবাদিকদের জন্য প্রথমবারের মতো এমন উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, সংসদ ও স্থানীয় নির্বাচনে সাংবাদিকদের কার্ড সংগ্রহে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যম থেকে নির্বাচন কমিশনে বার্তা প্রধানের চিঠিসহ আনুষঙ্গিক তালিকা দিতে হয়। কিন্তু স্থানীয় সাংবাদিকদের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রেস ক্লাবের সহায়তায় কার্ড সরবরাহ করা হতো।

গাজীপুর নির্বাচনে সংযুক্ত ইসির জনসংযোগ শাখার সহকারী পরিচালক আশাদুল হক বলেন, ঢাকায় একটি নির্দিষ্ট নিয়মে সাংবাদিক কার্ড সরবরাহ করা হয় বলে কখনো ঝামেলা হয়নি। কিন্তু স্থানীয় সাংবাদিকদের জন্য আমাদের তেমন কোনো উদ্যোগ না থাকায় বেশ দুর্ভোগে পড়তে হয়। এবার প্রয়োজনীয় তথ্য নেওয়া হচ্ছে।

আবেদনের ১৩টি তথ্যের মধ্যে রয়েছে- নাম, এনআইডি নম্বর, বর্তমান ও স্থানীয় ঠিকানা, জন্ম তারিখ, শিক্ষাগত যোগ্যতা, মোবাইল/টেলিফোন নম্বর, গণমাধ্যমের নাম, পদবি, খণ্ডকালীন/মূল পেশা, রাজনৈতিক দল বা সহযোগী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ততরা রয়েছে কি না, প্রিন্ট মিডিয়ার ক্ষেত্রে মুদ্রিত কপি ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার ক্ষেত্রে সিডি সংযুক্ত করা হয়েছে কি না। ফরম পূরণের পর আবেদনকারীর ছবি, জাতীয় পরিচয়পত্রের অনুলিপি ও সাংবাদিকের পরিচয়পত্র সম্পাদক কর্তৃক সত্যায়িত করে সংযুক্ত করতে বলা হয়েছে।

রিটার্নিং অফিসারের মিডিয়া সেলের সংশ্লিষ্টরা জানান, নির্বাচন পর্যবেক্ষণে যেন সাংবাদিক পরিচয়ে অন্য কেউ কার্ড নিতে না পারে এবং গণমাধ্যমের নাম ভাঙিয়ে যেন কেউ সুযোগ নিতে না পারে, সে জন্য এমন ব্যবস্থা করা হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে ব্যবসায়ীদের সংগঠন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়সহ পুলিশ-প্রশাসনের সঙ্গে এক বৈঠকে ইসির পক্ষ থেকে এ নির্দেশনা দেওয়া হয় বলে ইসির জনসংযোগ পরিচালক যুগ্ম সচিব এসএম আসাদুজ্জামান জানান।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads